দেশে দেশে বঙ্গবন্ধু

কোন দেশের মহানায়কদের ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর সম্মান জানানোর জন্য রাস্তার নামকরণ , ভাস্কর্য স্থাপন ,জাদুঘর প্রতিষ্ঠার রীতি দেখা যায় বর্তমান বিশ্বে । সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামী জীবন কে গুরুত্ব দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র,ভারত, ফ্রান্স, তুরস্ক তার স্মরণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।জাতির জনকের নামে আমরা বাংলাদেশে অসংখ্য স্থাপনা দেখতে পাই,আমাদের দেশের প্রেক্ষপটে অত্যান্ত সাধারণ ঘটনা ।কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বঙ্গবন্ধুর নামে বিভিন্ন স্থাপনা, জাদুঘর, ভাস্কর্য, রাস্তা দেখতে পাওয়া যায়। এটা প্রকৃত অর্থে বঙ্গবন্ধুর বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার স্বরূপ।বঙ্গবন্ধু জীবিত অবস্থায় দেশের সীমা পরিসীমা ছড়িয়ে আন্তজার্তিক পরিমণ্ডলে নিজের অবস্থান যথেষ্ট শক্তিশালী ভাবমূর্তি গড়তে সক্ষম হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর কীর্তি চির ভাস্বর বিধায় বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর অর্ধ শতাব্দী পরে ও দেশগুলো তাকে স্মরণ করতে অনেক উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন দেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কে স্মরণ করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ দেখা যায়।আমরা অনেকেই জানিনা বঙ্গবন্ধু কে কীভাবে সম্মান জানাচ্ছে বিভিন্ন রাষ্ট্র। আসুন দেখে নেই বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র কর্তৃক বঙ্গবন্ধুর স্মরণে  বিভিন্ন উদ্যোগ যেগুলো জেনে আপনি গর্বিত হতে পারেন নিজেকে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশের নাগরিক ভেবে ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সরণি, কলকাতা,ভারত

কলকাতায় বাংলাদেশ হাই কমিশনের সামনে শেখ মুজিব সরণি।ছবি : ইন্টারনেট

কলকাতার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র পার্ক সার্কাস রোডে  ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’ সরণী অবস্থিত। সরণিটি এক কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশনের কাছাকছি অবস্থিত।রাস্তাটি ভারতে বঙ্গবন্ধুর নামে নামকরণ কৃত সর্বপ্রথম কোন কিছু।১৯৯৭ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার পার্ক সার্কাস রাস্তার নামকরণ করে বঙ্গবন্ধুর নামে ভারত সরকারের এই উদ্যোগ বিদেশে বঙ্গবন্ধুর নামে প্রথম নামকরণ করা কোন স্থাপনা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রোড, দিল্লিভারত

দিল্লিতে বঙ্গবন্ধুর নামে রাস্তা।ছবি : টাইমস অব ইন্ডিয়া



দিল্লি পৌর কর্তৃপক্ষ ২০১৭ সালে দিল্লির অন্যতম ব্যস্ততম পার্ক স্ট্রিট সড়কের নামকরণ করা হয়
”বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সড়ক”।দিল্লি পৌর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুকে সম্মান জানানোর জন্য পার্ক স্ট্রিট সড়কের  শঙ্কর রোড-মন্দির মর্গ ট্রাফিক চত্বর থেকে রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী মাদার তেরেসা ক্রিসেন্ট পর্যন্ত সড়কটির পুরোনো একাংশের নাম পরিবর্তন করা হয়। যেটি আওরঙ্গজেব রোড নামেই সর্বাধিক পরিচিত।তবে ধীরে ধীরে শেখ মুজিব রোড হিসেবে পরিচিত পাচ্ছে রাস্তাটি।

শেখ মুজিবুর রহমান সড়ক , নমপেন,কম্বোডিয়া

কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনের এ রাস্তাটি অবস্থিত।২০১৭ সালে কম্বোডিয়ার সরকার বঙ্গবন্ধুর প্রতি সম্মানসূচক  এ রাস্তাটির নামকরণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৭৩ সালে  ন্যাম সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে কম্বোডিয়ার জাতির পিতা নরোদম সিহানুকের সাক্ষাতের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের সূচনা ঘটে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশের সাথে বন্ধুত্বের প্রতি সম্মান জানাতে কম্বোডিয়ার সরকার উদ্যোগটি গ্রহণ করে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রোড,আঙ্কারা, তুরস্ক


তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায়  ১৯৯৭ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে সড়কের নামকরণ করা হয়। রাস্তাটির নাম ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রোড ‘।

এছাড়া  তুরস্কের অন্যতম প্রধান শহর ইজমিরে বঙ্গবন্ধুর নামে আরেকটি  সড়ক  আছে। এছাড়া তুরস্কের সরকার আঙ্কারায় বঙ্গবন্ধুর একটি ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে ২০১৯ সালে।

শেখ মুজিব ওয়ে, শিকাগো, যুক্তরাষ্ট্র

শেখ মুজিবের নামে যুক্তরাষ্ট্রে একটি হাইওয়ে।ছবি :ফেসবুক

শিকাগোতে ডেভন এভিনিউ এর   একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের নামকরণ করে ‘শেখ মুজিব ওয়ে’। শিকাগো সিটি কাউন্সিলের উদ্যোগে  ২০১৮ সালে এ নামকরণ করা হয়। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে যুক্তরাষ্ট্রে এটি সর্বপ্রথম উদ্যোগ। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অন্যান্য অঙ্গরাজ্যে বঙ্গবন্ধুর নামে কিছু সাব – ওয়ের নামকরণ করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রোড, হেভরন, ফিলিস্তিনি

ফিলিস্তিনির  প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী শহর হেভরনের একটি রাস্তার নাম বঙ্গবন্ধুর নামে নামকরণ করার ঘোষণা দিয়েছে সেদেশের সরকার ২০১৯ সালে।

বঙ্গবন্ধু স্কয়ার,পারেল্য মনিয়াল সিটি,ফ্রান্স

ফ্রান্সের পারেল্যমনিয়াল নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেখানকার পৌর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে স্থাপিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু  স্কয়ার। এছাড়া সেখানে স্থাপন করা হয়েছে  বঙ্গবন্ধুর পাথরে তৈরি ভাস্কর্য । বিদেশে শেখ মুজিবুর রহমানের নামে একই স্থানে স্কয়ার নামকরণ ও ভাস্কর্য  স্থাপনের  প্রথম নজির এটি।বাঙালি ব্যাবসায়ী কাজী এনায়েত উল্লাহর একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা ও পারেল্যমনিয়াল পৌর কর্তৃপক্ষের সর্বাত্মক সহয়তায় স্কয়ারটি প্রতিষ্ঠিত হয়।



বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য,বেকার হোস্টেল,কলকাতা

বেকার হোস্টেলে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য।ছবি : বাংলানিউজ

বঙ্গবন্ধু কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে অধ্যায়নরত অবস্থায় বেকার হোস্টেলের ২৪ নম্বর কক্ষে থাকতেন । সেখানেই  কলকাতার স্থানীয় সরকার বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য ১৯৯৮ সালে রুমটিকে জাদুঘর পরিণত করে। পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০১১ সালে ২৪ নম্বর কক্ষে বঙ্গবন্ধুর একটি  অবাক্ষ মূর্তি স্থাপন করে, এবং সেটি বঙ্গবন্ধুর চেহারার সাথে পুরোপুরি মিল না থাকায় ২০১৯  সালে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে প্রতিস্থাপিত হয়।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া

ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় এ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য।ছবি : প্রথম আলো

২০১৭ সালে সিডনিতে বাংলাদেশ সরকার ও ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন অনুষদের আন্তর্জাতিক সমুদ্রশাসন কেন্দ্রের সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য উন্মোচন করা হয়। বঙ্গবন্ধু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সর্বপ্রথম সমুদ্র আইন প্রতিষ্ঠা করেন তারই স্বীকৃতি স্বরূপ ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের প্রাঙ্গনে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায়।

মানুষ বেঁচে থাকে তার কর্মের মাধ্যমে,কীর্তিমান মানুষের কীর্তির স্বীকৃতি শুধু নিজ দেশে সীমাবদ্ধ থাকেনা,তেমনি শেখ মুজিবুর রহমান ও ।
দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বঙ্গবন্ধু এখন বিশ্বের বিভিন্ন  প্রান্তে এখন কৌতূহলের বিষয়। সেজন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রান্তে ভাস্কর্য স্থাপন করা হচ্ছে, জাদুঘর হচ্ছে,রাস্তার নামকরণ হচ্ছে। দেশে কিংবা বিদেশে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির উদ্দেশ্যে এ ধরণের উদ্যোগ প্রতীকী গুরুত্ব বহন করলেও ,এই স্থাপনাগুলো দেখে বিদেশের লোকজন বঙ্গবন্ধু সমন্ধে জানতে উৎসাহী হবে,আর বঙ্গবন্ধুকে জানলে বাংলাদেশ সমন্ধে জানতে আগ্রহী হবে। এই দেশে একদিন বঙ্গবন্ধু ছিল উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে বিশ্ববাসী জানবে।