করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের যুদ্ধে সামিল বাংলাদেশ

“করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী বাংলাদেশে বসে আবিষ্কারের দ্বারপ্রান্তে ” এরকম একটা সংবাদ এত তাড়াতাড়ি দেখবো কল্পনা করিনি কখনো।

ড. আসিফ মাহমুদের এ অর্জনে আমাদের গর্ব করা উচিৎ ছিল ,দেয়ার কথা ছিল উৎসাহ অথচ আপনারা তাদের এই পরিশ্রমের ফসল অনেকে হেসে উড়িয়ে দিচ্ছেন কিংবা ব্যাঙ্গাত্মক উপমায় ভূষিত করে যাচ্ছেন অনবরত।
এ গবেষণায় সময় ও শ্রম দিয়েছেন তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড জানেন ?পরিচয় করিয়ে দেই কারা এ মানবিক কাজে যুক্ত ছিল, তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড জেনে নিন তাহলে বুঝে যাবেন তারা আসলে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের যোগ্য ব্যাক্তি কিনা। ভ্যাকসিন আবিষ্কারের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশী তিন জন বিজ্ঞানী অবদান রেখেছেন যাদের কথা না বললেই নয়!

•আসিফ মাহমুদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রো বায়োলজি থেকে অনার্স (পজিশনঃ তৃতীয়) মাস্টার্স(পজিশনঃপ্রথম) সম্পন্ন করা।এরপর জাপানের গিফু ইউনিভার্সিটি থেকে প্রথমে এপ্লাইড বায়োলোজিকাল সায়েন্সে আবার মাস্টার্স সম্পন্ন করেন,সেখানে তার সিজি ছিল ৩.৯৬ মাস্টার্সে। এরপর মেটাবলিক ইঞ্জিনিয়ারিং ( বিপাকীয় প্রকৌশলবিদ্যা) এ
পিএইচডি সম্পন্ন করেন। উনি চাইলে আরো ভাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারতেন , আসিফ মাহমুদের রেজাল্ট তাই বলে ।সম্ভবত গিফু ইউনিভার্সিটি জাপানের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় আসিফ মাহমুদ সেখানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য যান। এখন পর্যন্ত আসিফ মাহমুদের পাবলিকেশন সংখ্যা ২টি, সাইটেশন ১৩ টি । করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার প্রক্রিয়ায় আসিফ মাহমুদ সবচাইতে বড় ভূমিকা রেখেছেন।

• ড. কাকন নাগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এপ্লাইড কেমিস্ট্রি থেকে অনার্স ও মাস্টার্স(পজিশনঃ প্রথম) সম্পন্ন করা। টোকিও ইনস্টিটউট অব টেকনলজি(কিউ এস রাঙ্কিং ৫৬) থেকে সেল এবং মলিকুলার বায়োলজি বিষয়ে ডিগ্রি নেন এবং কানাডার ম্যাক মাস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে ও ডিগ্রি আছে তার।কাঁকন নাগের পাবলিকেশন সংখ্যা ২১টি, সাইটেশন ৩৮৭ টি। ।তিনি স্টেম সেল টেকনোলজি ও প্রোটিন ইঞ্জনিয়ারিংয়ে এক্সপার্ট ।

• ড.নাজনীন সুলতানা
বুয়েট থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং করে ইউনিভার্সিটি অব হংকং থেকে বায়ো মেডিকেলে পিএইচডি সম্পন্ন করেন ড. নাজনীন। তার পাবলিকেশন সংখ্যা ১২টি, সাইটেশন ৮৯ টি।

ড. কাকন নাগ ও ড.নাজনীন সুলতানা বিদেশে থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভ্যাকসিনের
প্রাথমিক আবিষ্কারে সহয়তা করেছেন। উনাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বা কর্মক্ষেত্রে অর্জনে বোঝা যায় যেকোন রোগের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের ক্ষমতা তাদের আছে।

করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার করবে বাংলাদেশ এটা পৃথিবীর সম্ভবত শেষ আশাবাদী মানুষ ও সূদুরতম কল্পনাত করতে পারবেনা সহজে।
এটা বাংলাদেশের মত দেশের এক সিড়ি উপরে উঠার নব্য সোপান, চাইলেও খোদ বিশ্বের বড় বড় ফার্মাসিউটক্যাল কোম্পানি গুলো অগ্রাহ্য করতে পারবেনা।বাংলাদেশের কোন বিজ্ঞানী করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারে প্রাইমারি স্টেজ পার করে ফেলেছে ,এতো বিস্ময় জাগানিয়া গৌরবের অগ্লুৎপাথ! না আমরা বাঙালি তাদের অসামান্য প্রচেষ্টাকে উড়িয়ে দিচ্ছি হা হা রিএক্ট দিয়ে,মিডিয়া ও করছে কি প্রতিপক্ষ ব্যাবসায়িক গ্রুপ ভাল কিছু করেছে প্রমোট করা যাবেনা,তাহলে তো আমাদের ক্ষতি।

ট্রান্সকম গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ,যমুনা গ্রুপ ,গাজী গ্রুপ,মেঘনা গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, স্কয়ার গ্রুপ সবাই বাংলাদেশের বেশিরভাগ মিডিয়াগুলোর মালিক।গ্লোব বায়ো টেক এরকম একটা উদ্ভাবন করে বেক্সিমকো ,এসকে এফ, স্কয়ার এর মত কোম্পানি কে টক্কর দিয়ে কোথাকার গ্লোব ফার্মাসিউিক্যালস ব্যাবসা করবে এটা তো হতে পারেনা।তাই মিডিয়া ওকরোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারকে পাত্তা দিচ্ছে না ঐসব কোম্পানির আওতাধীন মিডিয়াগুলো, পাছে ওরা অনেক নাম করে ফেলে!

তবে যতই বাধা আসুক কিংবা মিডিয়াতে ফ্লোর না পাক গ্লোব বায়ো টেক আপাতত অ্যানিমাল ট্রায়ালে সফল,তাদের টার্গেটের সম্পূর্ণ কোডিং সিকোয়েন্স যুক্তরাষ্ট্রের এনসিবিআই ভাইরাস ডাটাবেজে(National Center for Biotechnology Information) জমা দিয়েছে, যা ইতোমধ্যেই এনসিবিআই স্বীকৃতি দিয়েছে এবং প্রকাশিত হয়েছে (accession number:MT676411)। তারা আপাতত প্রাথমিক অগ্রযাত্রায় পুরোপুরি সফল। পরবর্তীতে তাদের করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার সফল হোক বা না হোক আমরা বাঙালিরা তো বলতে পারবো আমরাও করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দৌড়ে ছিলাম।

যারা তাদের আবিষ্কারের সমালোচনা বা ট্রল করছেন তারা কি আসলে জ্ঞাত আছেন তারা গত কয়েকমাস অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন ভ্যাকসিন আবিষ্কারের জন্য। তারা জানেন না,এমনকি ড. আসিফ মাহমুদরা করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা করেছেন নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে ,তারা কিন্তু কোন সরকারী চাকুরীজীবী না যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে ৫০ লাখ টাকা সহয়তা পাবেন। ড.আসিফ মাহমুদের আত্মনিবেদন কতটুকু হলে বাংলাদেশ করোনা ভাইরাস ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দ্বারপ্রান্তে যায় একবার ভাবুন। হ্যা ড. আসিফ মাহমুদ কিছু এটেনশন সীকার ব্যাক্তির মত মেকী অভিনেতা না তাই আপানারা আপনাদের সংবাদপত্রে বা মিডিয়ায় গ্লোব বায়োটেকের এই অসামান্য অবদান প্রচার করছেননা কিংবা আসিফ মাহমুদের নাম ও প্রকাশ করেছেন না কিংবা অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রল করে যাচ্ছেন।