টেন মিনিটস স্কুলের ভাওতাবাজি



১৯৪৭ সাল…বেশি দিন আগের না গল্প… মাত্র দুই সপ্তাহের রাজনীতিতে বাংলা ভাগ হয়ে যায়।ওদিকে শরৎ বসু ,শেখ মুজিব একবার দিল্লী যান তো, আরেকবার করাচি যান নেহেরু, মাওলানা আজাদ, সরদার প্যাটেল এবং জিন্না সাহেবের বাংলা যাতে ভাগ না হয় ।কিন্তু জিন্না নেহেরু সাহেব যে পাঞ্জাব এবং বাংলা ভাগের চেষ্টায় লিপ্ত তাদের আর রুখে দেওয়ার সাধ্য কার! কারণ বড়লাট দের নীতিই ছিল ডিভাইড এন্ড রুল ,আর বড়লাটদের টোপ ভালোমতই গলধঃকরণ করেছিল জিন্না আর জহুরলাল! তাইতো ভাগে বাংলার অর্ধেক নিল ভারত বাকী অর্ধেক নিল পাকিস্তান,একই হিসেব পাঞ্জাবের বেলায় ও।এই ইতিহাস মোটামুটি সবার জানা।

কিন্তু একটা ইতিহাস অনেকেই জানেন না, সেটা হল ১৯৪৭ এর ১৫ আগষ্ট এর ১৪ তারিখ পর্যন্ত বর্তমান বাংলাদেশের নাম ছিল পূর্ব বাংলা যা শত শত বছর ধরে পূর্ব বাংলা নামেই চিনত সারা বিশ্ব।একদিনের ব্যাবধানে পূর্ব বাংলার নাম হয়ে যায় পূর্ব পাকিস্তান। আশ্চর্যের বিষয় কেউই পূর্ব বাংলার নাম পরিবর্তনে হতাশা প্রকাশ করলো না কিংবা প্রতিবাদ করলো না কেন বাংলার নাম পরিবর্তন হলোনা!
সবাই খুশি হয়ে যায় ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের স্বপ্ন পূরন হয়ে যাওয়ায়,ওদিকে শরৎ বসু, বঙ্গবন্ধু সহ বাংলার পক্ষে থাকা নেতারা বাংলা ভাগের কারণে শোকে মুহ্যমান! কিন্তু জিন্না সাহেবের পরিকল্পনায় ধরাশয়ী বাঙালি নিজের হাজার বছরের নাম পর্যন্ত বিসর্জন দেয় ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র কায়েমের খুশিতে গদগদ হয়ে। সেই ধর্ম ভিত্তিক রাষ্ট্রের মোহ অল্প কদিনেই ভেঙে যায় বাঙালির কারণ পাকিস্তানীরা বাঙালিদের মুসলিম ভাই হিসেবে গোনায় ধরত না বাঙালি হিসেবেই শোষণ করতো।বাঙালি অতি তাড়াতাড়ি ভুল বুঝতে সক্ষম হয়েছিল তাই পাকিস্তান বেশিদিন টিকেনি!

জিন্না সাহেব ধর্ম নিয়ে রাজনীতি সবচেয়ে বড় রাজনীতি তিনি সেটা বুঝতে পেরেছিলেন পেরেছিলেন,উপমহাদেশের মানুষকে বোকা বানানোর সবচে সহজ ও কার্যকর উপায় তিনি চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন। যদিও তিনি একটি ইসলামী রাষ্ট্রের জাতির পিতা ছিলেন তিনি কখনো নামাজ পড়তেন না,রোজা রাখতেন না,সর্বদা মদ্যপান করতেন,শুকরের মাংস ও খেতেন এমনকি বিয়ে করেছিলেন এক পারসিক মহিলাকেও!তিনি বিশ্বাসে চিন্তা চেতনায় পুরোপুরি সেকুলার ছিলেন। এধরণের বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ব্যাক্তিকে মুসলিম বলা যায় কিনা আমার জানা নেই ,তবে উনি পঞ্চাশের দশকে উপমহাদেশের নেতাজী,গান্ধীর পরে অন্যতম সেরা রাজনীতিবিদ ।

এ ঘটনা উল্লেখ করলাম আইমান সাদিক এবং টেন মিনিটস স্কুল এর অসাধারণ বুদ্ধিতীপ্ত ভাওতাবাজি ধরিয়ে দিতে। উনারা সম্প্রতি এক আলোচিত ইস্যুতে পক্ষ নেবার কারণে প্রচুর সমালোচনার শিকার কিংবা হত্যার হুমকি পর্যন্ত পেয়েছেন। পরে জনরোষ এতই বেশি হয়ে যায় তারা উনারা ভুল স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন উক্তির জন্য।এরপর ও উগ্র জনতাকে কে থামায়,উগ্র জনতা বিচার চায় তাদের,পারলে কল্লা ফালায়া দেয়। পরিস্থিতি ঠান্ডা করতে তারা খুবই প্রাচীন এক মরণাস্ত্রের আশ্রয় নিলেন। আশ্রয় নেয় ধর্ম ব্যাবসার আধুনিক ভার্সনের কাছে। টেন মিনিটস স্কুলে ধর্ম (ইসলাম বাদে অন্য কোন ধর্মের কথা বলেনি আপাতত) শিক্ষা চালু করবে গতকাল আহমদউল্লাহ নামের এক প্রখ্যাত হুজুরের (হুজুর কোন দল বা মতের আমার জানা নেই) স্ট্যাটাস থেকে জানা যায়! এরপর আর কি! তৌহিদী জনতা শান্ত ,এখন আইমান সাদিকদের নিয়ে আবার মাথায় তুলে নাচছে!পরিস্থিতি এখন আইমান সদিকদের সম্পূর্ণ অনুকূলে।

কোন মাত্রায় চতুর হলে ধর্মকে কাজে লাগিয়ে সম্পূর্ণ প্রতিকূল পরিস্থিতিকে নিজের অনুকূলে নিয়ে আসলো আইমান সাদিকরা! নিখিল বঙ্গীয় উগ্র জনতাকে সহজ সরল পেয়ে কি সুন্দর খেলা খেললো টেন মিনিটস আইমান সাদিক আর সাকিব বিন রশিদরা। চিন্তা করুন একবার তাদের এদ্দিন ধর্মীয় শিক্ষা চালু করার কথা মাথায় ছিল না,হঠাৎ বিতর্কিত ইস্যুর পক্ষ নেওয়ায় দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় নিজেরা এবং নিজেদের ব্যাবসা বাঁচানোর জন্য সুন্দর করে ধর্ম শেখানোর টোপ দিল,আর নিখিল বঙ্গীয় জনতা সেই টোপ গিলে একেবারে চুপসে গেছে।এটাই সম্ভবত ধর্ম ব্যাবসার অত্যাধুনিক রূপ!

পুনশ্চঃ টেন মিনিটস স্কুল অসাধারণ এক শেখার প্ল্যাটফর্ম।আইমান সাদিক কিংবা সাকিব বিন রশিদ এর উদ্যোগ বাংলাদেশের মত দেশের জন্য আসলেই অনেক গুরুত্ববহ।কিন্তু ধর্ম কে নিজের গা বাঁচানোর জন্য এত নোংরা ভাবে ব্যাবহার করবে এটা ভাবতে পারিনি! উনারা ভুল স্বীকার করেছেন এটাই এনাফ,মানুষ মাত্রই ভুল করে।উগ্রবাদী গোষ্ঠীর ফেইক আইডির ভয়ে কিংবা নিজেদের ব্যাবসার জন্য এভাবে ইসলাম কে ব্যবহার করবে তা থেকেই বোঝা যায় ভবিষ্যতে এরা অনেক বড় ব্যাবসায়ী হবে। এরা আসলে নিজদের ফায়দার জন্য এত নাটক সাজিয়েছে সম্ভবত। ভাল কথা টেন মিনিটস এখনো মুক্তিযুদ্ধ কিংবা মুক্তিযুদ্ধের নায়কদের নিয়ে কোন কন্টেন্ট বানায় না কেন? নাকি পাকি উগ্রবাদী গোষ্ঠীর ফলোয়ার হারানোর ভয়?ওদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সুবিধাবাদী আদর্শ,চোখ কান খোলা রাখলেই বুঝে যাবেন।