মুজিব – অন্ধকার সময়েরর এক অগ্নিস্নাত চরিত্র..

তামিম মুনতাসীরঃ

বাঙালিকে পক্ষ নিতেই হয়। রাজনীতিতে,প্রেমে- প্রনয়ে ইতিহাস, খেলায়, সন্তান- সম্পত্তিতে। বাঙালির অস্তিত্ব, সংগ্রাম, ইতিহাস, চিন্তা- দর্শন, সয়ংক্রিয়তা, স্বরুপ- সতন্ত্রতায়, মুক্তি- স্বাধীনতা,বাঙালির আত্মপরিচয় প্রশ্নেও আমি পক্ষ নিলাম। যে মানুষটির পক্ষ নিলাম তিনি এসেছিলে বাঙালির ইতিহাসে রূপকথার সেই ফিনিক্স পাখি হয়ে। আলো হাতে এসছিলেন নিকশ কালো আমাবস্যার রাতে জাতির কাণ্ডারি হয়ে। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ উত্তাল ছিল না। অগ্নিঝরা ছিল না। কিন্ত সেদিন দেশের মাটিতে এক আগুনের কুন্ডলির জন্ম হয়েছিল যিনি উপহার দিয়েছিলেন ৭১’র অগ্নিঝরা মার্চ। হ্যা আমি একজন শেখ মুজিবের কথা বলছি। আমি বঙ্গবন্ধুর কথা বলছি।

নিকোলাস ফ্লামেলের পরশপাথরের ছোয়ায় যেমন ধাতু স্বর্ণ হয়েছিল। আব্রাহাম ইলিয়েৎসারের অমৃত সুধা অথবা হলি গ্রেইল পেয়ালায় পানি পান করে যেমন অমরত্ব লাভ করা যেত তেমনি বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন সেই পরশপাথর যার ছোয়ায় সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন সেই অমৃত সুধা যার স্পর্শে বাংলাদেশ হয়েছ অজেয়,অমর। ঐ পরশপাথর অথবা অমৃত সুধায় কি ছিল আমাদের জানা নেই। তবে বঙ্গবন্ধুর মধ্য ছিল যথার্থ চিন্তা, মহান অনূভব আর সঠিক কর্মের সংমিশ্রণ ।এই তিনটি গুন দিয়ে বঙ্গবন্ধু নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন। হয়েছেন একটি রাষ্ট্রের রুপকার।

সুফিবাদে অনুসারে বান্দা যখন নিজেকে ছাড়িয়ে যান; যখন ফানাহ লাভ করে তখন বান্দার অস্তিত্ব আর খোদার অস্তিত্ব মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। সনাতন ধর্মে জীবাত্মা যেমম মুক্তি লাভ করলে পরম সত্তার লিন হয়ে যায়। ঠিক বঙ্গবন্ধু তার কর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশ নামক এক রাষ্ট্রের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশই বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর দর্শনই বাংলাদেশের দর্শন। উন্নায়নের দর্শন। অগ্রযাত্রার দর্শন। বঙ্গবন্ধুর দর্শন বিরোধী যেকোন কেউ, যেকোন দল সেটা যে দলই হোক না কেন তারা দেশের শত্রু।জাতির শত্রু। তিনি হলেন বাংলাদেশের জনগনের চিন্তাভাবনার এক অবিচ্ছেদ্য উপাদান। একজন জননেতা। ঠিক লামার্তিনের ভাষ্যমত। ফরাসী চিন্তাবিদ লামার্তিন বলেছিলেন ” নেতার থাকবে জনগনের জন্য দরদ আর জনগনের দরদ থাকবে নেতার জন্যে দরদ। দুই পক্ষের দরদ নিয়ে গড়ে উঠবে নেতার নেত্রীত্ব আর জনগনের অনুসরণ করবার পরিবেশ।” তিনি ছিলেন তেমনই একজন।

বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে সবচেয়ে শক্তিশালী কথাগুলো বলেছিলেন শক্তিমান লেখক আহমদ ছফা। তিনি বলেছিলেন “আজ থেকে অনেক দিন পরে হয়তো কোনো পিতা তার শিশু পুত্রকে বলবেন জানো, খোকা!আমাদের দেশে একজন মানুষ জন্ম নিয়েছিলো যার দৃঢ়তা ছিলো,তেজ ছিলো আর ছিলো অসংখ্য দূর্বলতা।কিন্তু মানুষটির হৃদয় ছিলো,ভালোবাসতে জানতেন।দিবসের উজ্জ্বল সূর্যালোকে যে বস্তু চিকচিক করে জ্বলে তা হলো মানুষটির সাহস। আর জ্যোস্নারাতে রূপোলি কিরণ ধারায় মায়ের স্নেহের মতো যে বস্তু আমাদের অন্তরে শান্তি এবং নিশ্চয়তা বোধ জাগিয়ে তোলে তা হলো তার ভালবাসা।জানো খোকা তার নাম? শেখ মুজিবুর রহমান৷বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য চর্যাপদ নয়, বৈষ্ণব গীতিকা নয়, সোনার তরী কিংবা গীতাঞ্জলি কোনোটা নয়, বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য গীতি হলো ‘আর দাবায়া রাখতে পারবা না”- আহমদ ছফা

বঙ্গবন্ধু একটি কথা বলেছিলেন”যে মানুষ মৃত্যুর জন্য প্রস্তত, কেউ তাকে মারতে পারে না”।

বঙ্গবন্ধু এখনো জীবিত। হয়ত ইতিহাস বিকৃত হবে। হয়ত শকূনের কালো থাবা মুছে ফেলেতে চাইবে বঙ্গবন্ধুর অস্তিত্ব। হয়ত বঙ্গবন্ধু নামে চলবে রমরমা ব্যাবসা। তবুও বঙ্গবন্ধু বেচে থাকবে তার আদর্শের শক্তি দিয়ে। চির অম্লান হয়ে। সকল বাধায়,সকল ঝড়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বাতি জ্বলবে নিভু নিভু করে কিন্ত কখোন নিভবে না কখনো। হয়ত সবাই বিপথে চলে যাবে কিন্ত সেই সময়েও কোন এক উদাসীন যুবক মৃত্যুকে উপেক্ষা করে কোন এক মঞ্চে একা দাড়ীয়ে নির্ভীক চিত্তে বলে যাবে।

” বঙ্গবন্ধু আমার নেতা। বঙ্গবন্ধু আমার পিতা।
আমার নেতা। আমার নেতা। শেখ মুজিব। শেখ মুজিব
জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

লেখকঃ তামিম মুনতাসীর, শিক্ষার্থী ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়