মুজিব প্রেম হয়না কখনো নিঃশেষ

রাব্বি আহমেদ রাফিঃ

বসন্তের আঁকিবুঁকি উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে চারিদিক।পত্রপল্লবে সবুজের চিকচিক হাসি-রোদ আর কুয়াশার মিলনে হৃদয়ে নতুনত্বের আহ্বান।এমন এক প্রভাতে যৌবন উদ্দীপ্ত যুবক বিস্ময়-বিহ্বল চোখে পলকেই দেখে নিল সেই রূপসীকে।এরপর নিয়মিত ওখানটায় কুয়াশাজড়ানো চিকচিকে রোদের প্রভাতে দাড়িয়ে থাকা।দীর্ঘদিন পর আজকের প্রভাতে সে দাড়িয়ে নেই,মেয়েটি লক্ষ্য করলো।ছেলেটা যে কি কারণে দাড়িয়ে থাকতো তা মেয়েটির অজানা ছিলোনা।তারপরও মেয়েরা এমনই জেনেবুঝে না জানার ভান করে,সে চাইতো-ও এসেই কিছু বলুক।

ছেলেটা হয়তো আজ কিছু বলার জন্য সকাল সকাল বেরিয়ে পড়েছিল,শাহবাগ থেকে লালটুকটুকে গোলাপও নিয়েছিল একটি।কিন্তু মেয়েটির সাথে প্রভাতের দেখা হয়নি। আশাহত হয়ে ফেরবার সময়ের অপেক্ষায় রাস্তার পাশে বসে রইল।

হঠাৎ দক্ষিণাবাতাসে ধেয়ে ধেয়ে ভেসে আসতে লাগলো এক দৃঢ় আহ্বান।ছেলেটি চোখ মুছে ওদিকটায় এগুতে থাকলো। বিশাল এক জনশ্রোতের মাঝে নিজেকে আবিস্কার করল।ছেলেটি দেখলো কালোফ্রেমের চশমা পরা বিশালদেহী একজন মানুষ।সবাইকে আহ্বান করছেন,সাহস দিচ্ছেন,অভয় বাণী উচ্চারণ করছেন-রক্তযখন দিয়েছি, আরও দেব…
এবারের সংগ্রাম…

এই আহ্বান যুবকের মাথায় নেশার মত চেপে বসল,ভিড় ঠেলে আরেকটু সামনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলো।এরমধ্যেই তিনি বক্তৃতা শেষ করে নেমে গেছেন।তারপাশ দিয়েই চলে যাচ্ছেন,হাতে থাকা সেই ফুলটি পাপড়ি হয়ে কখন যেন মাথার উপর ঝরে পড়ল,যেন একটি গোলাপকে শত শত গোলাপরুপে প্রেয়সীর গায়ে ছড়িয়ে দিল।এরপর দীর্ঘদিন এই প্রেমে মগ্ন থাকলো।এখন আকাশের দিকে তাকিয়ে লাল-সবুজের পতাকা দেখে সে, ও যেন উড়ছে বসন্তের বাতাসে ওড়া প্রেয়সীর কালো ঢেউখেলানো চুলের মত।

ছেলেটা এতদিনে ভুলে গিয়েছিল সেই পুরনো রাস্তায় দাড়িয়ে থাকা দিনের কথা।এসময়ে মনে পড়লো।অলৌকিক শক্তিবলে তাদের শুভ পরিনয় হলো।সুখেই কাটল কিছুদিন।হঠাৎ এক ভোরে দুঃসংবাদ ভেসে এলো তার কানে।শিশুর মতো অঝোরে কাদলো কিছুক্ষণ।বিলাপের পর বিলাপ বকলো। অনেকেই বললেন ভাবের পাগল।এভাবে অল্পদিনেই অসুস্থ হয়ে বিদায় নিলেন তিনি।

“বাংলাদেশকে জানার আগে বঙ্গবন্ধুকে জেনে নিও।তাকে জেনে তারপর তোমার যুক্তিতর্ক,দর্শন,মনস্তত্ত্ব দিয়ে জনগণের কল্যাণে রাজনীতিতে অংশ নিও।
মনে রেখ এই ভূখন্ডের মানুষ যতদিন বাংলায় কথা বলবে,নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিবে,অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবে,শোষিতের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করবে ততদিন বঙ্গবন্ধু থাকবে স্বমহিমায়।প্রজন্মকে ছেলে ভুলানো গল্প শিখিয়ে তাকে ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলতে পারবেনা”
-শার্টের পকেটে পাওয়া এই চিরকুটটায় তার শেষ স্মৃতি।
মুজিববাদ অমর হোক 💟

লেখকঃ শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়