ধর্মভিত্তিক রাজনীতি কেন নিষিদ্ধ করা জরুরি?

ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল সবসময়ই উপমহাদেশে ধর্মের বুলি আওড়ায়ে রাজনীতি কে ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক দূরত্ব সৃষ্টি করেছে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে। উপমহাদেশে ধর্মকে ব্যবহার করে কোন অপকর্ম বাদ যায়নি !দেশভাগ,দাঙ্গা ,খুন, লুটপাট কোনকিছু বাদ যায়নি ধর্মের মুখোশ পরে।ইতিহাসের বিভিন্ন প্রেক্ষাপটের দিকে আলোকপাত করলেই আপনারা পরিষ্কার হয়ে যাবেন যে উপমহাদেশের ধর্ম নিয়ে কি নোংরা রাজনীতি হয়েছে এবং দিন শেষে এর ফলাফল শূন্যই বের হয়েছে। কয়েকটি প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করবো, প্রেক্ষাপটগুলো আপনাদের ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর যে আবেদন উপমহাদেশে অন্তঃসারশূন্য এবং শান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ তা উপমহাদেশের অতীত ইতিহাসকে গভীর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেখিয়ে দিবে।

প্রেক্ষাপট ১:-

১৯৪০ এর দশকে মুসলিম লীগ যখন ভারত পাকিস্তান আলাদা রাষ্ট্রের দাবি করল তখন কংগ্রেস নেতারা প্রচন্ড বিরোধিতা করেছিল। সময়ের পরিক্রমায় কংগ্রেস নেতারা মুসলিম লীগের সাথে আঁতাত করে ফেলে তাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য। মুসলিম লীগ কংগ্রেস থেকে সৃষ্টি হয়েছিল মুসলিমদের স্বার্থ রক্ষার জন্য। মুসলিম লীগ তার জন্মলগ্ন থেকেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করেছে উপমহাদেশে। যদিও মুসলিম লীগের নেতারা মুসলিমদের চাইতে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্যই সবচেয়ে বেশি মনোযোগী ছিলেন ।কংগ্রেস নেতারা ও হিন্দুদের চাইতে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় বেশি ছিল। কিন্তু উভয় দলের নেতারা হিন্দু-মুসলিম কারো জন্যই তেমন কিছু করতে পারেন নি তৎকালে সবচেয়ে ভালো পারতেন সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়ানো।এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হচ্ছে পাকিস্তানের জাতির পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, এ লোকেকে অনেকে মুসলিম ভেবে ভুল করে,এই লোক পারসিক যুবতীকে কে বিয়ে করেছিলেন পরিবারের অমতে,এ লোক নামাজ-রোজা পালন করতেন না ।সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে ১৯৪৭ সালে যখন ভারত পাকিস্তান আলাদা হয় ১৪ আগস্ট এ তিনি পাকিস্তান ভাগ হওয়ার কারণে উল্লাসে মদ্যপ ছিলেন ব্রিটিশদের সাথে, যদিও সে সময় রমজান মাস চলছিল। এই লোক ছিল তৎকালীন মুসলিম লীগের প্রধান,দলীয় প্রধানের এ অবস্থা তাহলে বাকি মুসলিম লীগারদের কথা অবস্থা কিরকম চিন্তা করুন একবার!১৯৪৬ মুসলিম লীগ প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত নেয় জিন্নাহর নেতৃত্বে ১৬ আগস্ট কিন্তু কংগ্রেস প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস প্রতিহত করার সিদ্ধান্ত নেয় ।ফলশ্রুতিতে শুরু হয়ে যায় হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা পশ্চিম পাকিস্তান মুসলিম লীগ নেতা তাও দিল্লি পন্থী কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদের কারণে। ফলে ভারত পাকিস্তান ভাগ হওয়া সময়ের ব্যাপার হয়ে যায়। পূর্ব পাকিস্তান এর মুসলিম লীগের নেতারা এবং কলকাতা কংগ্রেসের নেতারা অবিভক্ত বাংলা চাইতেন।কংগ্রেস ও হিন্দু মহাসভা নেতারা দাঙ্গার পর ভাগ করতে হবে বলে জনমত সৃষ্টি করতে শুরু করলো। পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগ ও কংগ্রেস নেতারা বাংলাদেশ ভাগ হতে দেবেনা, এজন্য জনমত গঠন করতে লাগলো ।কিন্তু পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগ ও কলকাতার কংগ্রেস নেতাদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখেই কেন্দ্রীয় কংগ্রেস ও কেন্দ্রীয় মুসলিম লীগ ভাগ করে নিয়েছিল বাংলাদেশকে যা হয়েছিল কলকাতা ও ঢাকার নেতাদের অগোচরে। বঙ্গবন্ধু বাংলা ভাগ ঠেকানোর জন্য হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে পাকিস্তান পাঠিয়েছিলেন জিন্নাহর কাছে এবং কলকাতার কংগ্রেস নেতা শরৎ বসু কে পাঠিয়েছিলেন দিল্লিতে কংগ্রেস নেতাদের কাছে। কিন্তু সোহরাওয়ার্দী সাহেব ও শরৎ বসু কে ফিরে আসতে হয় খালি হাতে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ নেতাদের একগুয়েমী মনোভাবের কারণে।
১৯৪৭ সালে বাংলা ভাগ এর অন্যতম কারণ ছিল সোহরাওয়ার্দী সাহেব এর ক্ষমতা হ্রাস করা অন্যতম কারণ ছিলো। মুসলিম লীগ ,কংগ্রেস সবার কাছে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সোহরাওয়ার্দী।মুসলিম লীগ এবং কংগ্রেসের নেতা ধারণা ছিল বাংলা যদি অবিভক্ত থাকে তাহলে বাংলা ভারত এবং পাকিস্তানের জন্য হুমকি হবে,এজন্য পশ্চিম পাকিস্তানের মুসলিম লীগের নেতারা এবং দিল্লির কংগ্রেস নেতারা বাংলাকে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেন গোপনে। লর্ড মাউন্টব্যাটেন এর শাসনামল সম্বন্ধে বই “মিশন উইথ মাউন্টব্যাটেন” এ উল্লেখ করেছেন
“ব্রিটিশ সরকার বাংলা ভাগের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি এটি ছিল সম্পূর্ণ ভারতবর্ষের রাজনীতিকদের সিদ্ধান্ত”।উপমহাদেশের ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিষবাষ্প ছড়ানো মওদুদী ১৯৬৭-৬৮ সালে লাহোরে এক ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক তার জন্য দায়ী দাঙ্গার জন্য দায়ী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় প্রায় ১০০০০ নীরহ লোক নিহত হয় এ জন্য মওদুদীর মৃত্যুদণ্ডর আদেশ হয়েছিল আদালতে, কিন্তু পরে তার কার্যকর হয়নি।

প্রেক্ষাপট ২:-

১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কোন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের পক্ষে থাকেনি কাজ করেনি বরং সব ধর্মভিত্তিক দল ভোল পাল্টে পাকিস্তানের দালালি করেছিল। তৎকালীন ধর্মভিত্তিক দলের নেতারাই রাজাকার ,আল-বদর, আল-শামস ছিলো। এই ধর্মভিত্তিক দলগুলোর পৃষ্ঠপোষক মুসলিম দেশগুলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিল ,তারা পাকিস্তানের লাখ লাখ মানুষ নির্বিচারে হত্যা কে নির্মমভাবে সমর্থন দিয়েছিল তাদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য।বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ইসলামী রাষ্ট্র গুলো আমাদের স্বাধীনতা দেয়।বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরের বছর সৌদি আরব ২ কোটি গজ কাপড় পাঠায় বাংলাদেশে, পাকিস্তান ৭ লাখ মেট্রিক টন চাল পাঠায়। অথচ ১৯৭৩ চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষের সময় বাংলাদেশ কোন মুসলিম দেশ থেকে খাদ্য সাহায্য পায়নি।
লাখ লাখ লোক মারা গিয়েছিল খাদ্য ঔষধ এর অভাবে।লাখ লাখ লোক যখন মারা গিয়েছিল তখন মুসলিম দেশগুলো ধর্ম কই ছিলো?৭১ থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ছিল।বঙ্গবন্ধুকে হত্যার দিন খন্দকার মুশতাক সর্বপ্রথম স্বাধীন বাংলাদেশ বাংলাদেশ জিন্দাবাদ স্লোগান দিয়ে ভাষণ দেন রেডিওতে ,ভাষণে আরো ঘোষণা দেন বাংলাদেশ ইসলামী মূল্যবোধ এর সরকার প্রতিষ্ঠা করবেন তিনি রেডিও বার্তায়। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার মতো বড় অপরাধকে ঢেকে ফেলেছিলেন ইসলামী মূল্যবোধের সরকারের নাম দিয়ে।এরপর ক্ষমতায় আসলে জিয়া তিনি ১,১৪৩ জন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নির্বিচারে ফাঁসি দিলেন। জিয়া আবার সুন্দর করে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম ঘোষনা দিয়ে ও সংবিধানে বিসমিল্লাহ যুক্ত করে এতগুলো সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নির্বিচারে হত্যা করাকে বৈধ করে ফেললেন রাষ্ট্র ধর্মের আড়ালে।কি সুন্দর কৌশল ধর্মের আড়ালে অপকর্ম লুকানো।জিয়া ক্ষমতায় এসে প্রতিষ্ঠা করলেন বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ।সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ একেবারে নষ্ট করে দেন জিয়া। মুক্তিযুদ্ধের মূল স্তম্ভ গুলোকে জিয়া একেবারে সমূলে উৎপাটন করে দেন তার শাসনামলে।

প্রেক্ষাপট :-৩

২০০৪ সালের ২১আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশস্থলে গ্রেনেড হামলা করে বিএনপি-জামাত, হরকাতুল জিহাদ এবং জেএমবি জোট। এখানে জামাত জেএমবি ও হরকাতুল জিহাদ ধর্মভিত্তিক দল। বাংলা ভাই,হরকাতুল জিহাদ ও বিএনপির সৃষ্টি ।এদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য তৎকালীন সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে হাজার কোটি টাকার অস্ত্র মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত থেকে অনুপ্রবেশ ঘটতে থাকে ।এক পর্যায়ে ২০০২ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অস্ত্রের চালান জব্দ করে পুলিশ যা দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা নামে বিখ্যাত। দলকে এভাবে গ্রেনেড হামলা করে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার পরিকল্পনা পৃথিবীর ইতিহাসে হয়তো পাওয়া যাবে না। এ হামলার নেতৃত্ব দেয় জামায়াত-জেএমবি জোট।২০০৪-৫ সালে জে এম বি বাংলাদেশের ৬১ টি জেলায় এক সাথে সিরিজ বোমা হামলা করে প্রায় ১০০ র অধিক নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। ২০০৪-৫ এক বছরের ব্যাবধানে সিলেটে ব্রিটিশ হাইকমিশনে বোমা হামলা সহ,আদালতে বোমা হামলা করে আইনজীবী ,বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেট হত্যাসহ এমন কোন হীন অপকর্ম বাদ দেয়নি তারা। ২০১৩-১৪ সালে যুদ্ধাপরাধীদের রায় কে কেন্দ্র করে সারাদেশে জ্বালাও পোড়াও শুরু করেছিল একাত্তরের স্বাধীনতাবিরোধী ধর্মভিত্তিক দলগুলোর উত্তরসূরিরা। তাদের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে অনেক লোক হতাহত হয়েছিল।

প্রেক্ষাপট চার :

ঘটনা শুরু হয় গুজরাটে
২০০২ এর ২৭ ফেব্রুয়ারি SABARMATI EXPRESS নামে একটি ট্রেনে হামলায় ভারতের ৫৯ জন মারা যায়। এ ঘটনায় গুজরাটের প্রশাসন মুসলিমদের কোন প্রমাণ ছাড়াই দোষী সাব্যস্ত করে। সেটা মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশেই হয়েছিল। গুজরাটের হিন্দুরা সে ঘটনার সূত্র ধরে প্রশাসনের মদদে প্রায় দুইমাস ধরে মুসলিমদের উপর হামলা চালায়। শুরু হয় দাঙ্গা। মুসলিমদের অগনিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান,বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়। প্রায় ৫৬৩ টি মসজিদ পুড়িয়ে দেয়া হয়। অধিকাংশ লোককে পুড়িয়ে মারা হয়,মায়ের কোল থেকে শিশু হত্যা করা হয় মুসলিম হবার অপরাধে শত শত মুসলিম নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। লক্ষাধিক মুসলিম তাদের বাড়ি ঘর ছেড়ে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে যায়।RSS, শিবসেনা সহ হিন্দু উগ্র সন্ত্রাসীরা গুজরাট প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহয়তায় সাম্প্রদায়িক ধ্বংস যজ্ঞে মেতে উঠে।গুজরাটে দাঙ্গায় এই দাঙ্গায় সরকারি হিসেব মতে ২০০০ জন মারা যায়,প্রকৃত অর্থে প্রায় চার হাজারের বেশি লোক মারা যায় যার প্রায় সবাই মুসলিম। এ দাঙ্গা র আজ ও বিচার হয়নি..
২০২০ সালের ২৪ শে ফেব্রুয়ারি
মোদী ও অমিত শাহ জুটি গুজরাটের ঘটনার আবার পুন মঞ্চায়ন ঘটায়। দিল্লির জাফরাবাদ একের পর এক দাঙ্গা এবং সহিংসতার ঘটনা শুরু হয়, যার ফলে ৪৯ জন নিহত হন এবং প্রায় ২০০ জন আহত হন। নাগরিকত্ব সংশোধন আইন, জাতীয় নাগরিক পঞ্জী (এনআরসি) এবং জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধক (এনপিআর) সম্পর্কিত বিষয়গুলির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হচ্ছিল পুরো ভারত জুড়ে ।কিন্তু বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রের উস্কানি মূলক বক্তব্যে ২৪ তারিখে পুরো আন্দোলনের প্রেক্ষাপট বদলে যায়..
কপিল মিশ্র তিন দিনের সময়ের মধ্যে পুলিশকে জাফরাবাদ ও চাঁদবাগ এলাকা থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন, তাদের ব্যর্থতার ঘটনায় বিষয়টিকে নিজের হাতে নেওয়ার এবং “শান্তিতে না থাকার” হুমকি দিয়েছিলেন। সমাবেশের পরে সদস্য কপিল নিজেই টুইটারে পুলিশকে হুমকি দেওয়ার একটি ভিডিও পোস্ট করেন। তাঁর বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিএএ-এর সমর্থক এবং বিরোধীদের মধ্যে সহিংস সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে বিজেপির গেরুয়া বাহিনীর উপস্থিতি দেখা যায় পুলিশের সাথে। তারা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়ে মুসলিমদের মসজিদ,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে এবং নির্বিচারে মুসলিমদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে।পুলিশের সাথে গেরুয়া বাহিনী দিল্লির বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে নির্বিচারে হামলা চালায়,এমকি লাইব্রেরীতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের উপর নির্মম অত্যাচারের স্টীম রোলার চালিয়েছিল। রাস্তা ঘাটে মুসলিম পেলেই নির্মমভাবে হত্যা বা টর্চার করা হচ্ছিল । দিল্লি থেকে হাজার হাজার মুসলিম পালিয়ে যায় এ দাঙ্গায়। দিল্লির পুলিশ সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে যে দপ্তরের মন্ত্রী অমিত শাহ,তিনি আবার বিজেপির হর্তাকর্তা,মোদীর ডানহাত। মোদী কিংবা অমিত শাহ পুরো দাঙ্গার সময়ে চুপ থেকে নীরবে দাঙ্গাকে সমর্থন দিয়ে গিয়েছেন।

১৯৪০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যে কোন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল কোন ধর্মের মানুষের কল্যাণার্থে সৃষ্টি হয়নি সৃষ্টি হয়েছিল গুটিকয়েক মানুষের স্বার্থরক্ষার জন্য ভারত পাকিস্তান ভাগ , বাংলা ভাগ,বাংলাদেশের জন্ম এর অকাট্য প্রমাণ।উপমহাদেশের ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ইতিহাস কপটতা ভন্ডামির ইতিহাস।
বিজেপি, শিবসেনা, জামাত, হিযবুত তাহরীর এর ইনসাফ জেএমবি সবই হচ্ছে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সন্তান। উপমহাদেশ এর লক্ষ লক্ষ লোক মৃত্যুবরণ করেছে এসব সংগঠনের উস্কানিমূলক অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে, অসংখ্য সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দাঙ্গা এসব সাম্প্রদায়িক ধর্মভিত্তিক দলের সৃষ্টি।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ইসলামী শরীয়াতের যে ভয়াবহ অবমাননা চলছে সেটা এখন সারাবিশ্বে ওপেন সিক্রেট। মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশে মুসলিম শাসক থাকার পরেও সেসব দেশের অবস্থা আইয়ামে জাহেলিয়াতের সময়কালের অবস্থার কম খারাপ না।
গত বছরের ২৯ শে সেপ্টেম্বর ডাকসু ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করে দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। আসলে একটি অনন্য অসাধারণ উদ্যোগ, ব্যাপারটা অনেকটা বাহাত্তর এর সংবিধানে ফিরে যওয়ার মত । বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি হবে শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে, ভিন্ন কিছুর সুযোগ থাকা উচিৎ না। ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য হুমকিস্বরূপ।অতীত ইতিহাস তাই বলে। উপমহাদেশের ধর্মকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দলগুলো ধর্মকে একেবারে ফুটপাতে পণ্য বানিয়ে ফেলেছে…. আপনার যদি এতই ধর্মকর্ম নিয়ে মনোযোগ ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে নিজ নিজ ধর্ম পালন করুন আশেপাশে যারা আছে তাদের নিজ নিজ ধর্ম পালনে উৎসাহিত করুন, নিজ ধর্ম প্রচার করুন, এতে মনে হয় কল্যাণ নিহিত। ইহজগতে শান্তি, জান্নাত, জাহান্নাম, স্বর্গ-নরক সবই আল্লাহ/ ঈশ্বর দিবেন। কোন মানুষ বা রাজনৈতিক দল দিতে পারবে না। শুধু শুধু রাজনীতিতে ধর্মকে টেনে এনে ধর্মকে আর অপবিত্র করবেন না। ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর যদি ক্ষমতায় যাওয়ার ইচ্ছা থাকে তাহলে ধর্মকে বাদ দিয়ে রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করে মানুষের স্বার্থ নিয়ে কাজ করুক নিঃস্বার্থভাবে মানুষ একসময় আপনাদের কাজের মূল্যায়ন করবে।
শুধু শুধু ধর্মকে টেনে এনে এসব বলে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না। জিয়া, মোস্তাক ,জিন্নাহ,সর্দার প্যাটেলসহ কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ সবারই অপকর্ম লুকানোর ঢাল ছিলো ধর্ম।এই উপমহাদেশের মানুষ ধর্ম ব্যবসায়ীদের কাছে অনেকবার বেচা-কেনার শিকার হয়ে গেছে ইতিহাস কিন্তু তাই বলে।
ইতিহাস বলে যে দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিষবাষ্প ছড়িয়েছে ওই দেশের শান্তি বেশিদিন টিকে না।”ধর্ম যার যার ,রাজনীতি সবার” এই মন্ত্র সারাদেশে ছড়িয়ে যাক।
তথ্যসূত্র:
(অসমাপ্ত আত্মজীবনী,জিন্না ভারত দেশভাগ,মিশন উইথ মাউন্টব্যাটেন, ক্রাচের কর্ণেল,আওয়ামীলীগের উত্থানপর্ব -(১৯৪৮-১৯৭০) আওয়ামীলীগ যুদ্ধদিনের কথা ১৯৭১-