ফ্যান পেজ অনুসরণ অপরাধ না স্মার্টনেস



কোন ভিন্নমতের পেজে লাইক থাকা মানে জামাত-শিবির না।আপনার আচার-আচরণে ও কর্মকাণ্ডে প্রমাণ করবে আপনি কি করেন, কোন দল বা মতের অনুসারী।


যুদ্ধক্ষেত্রে আপনি চোখ বন্ধ করে যুদ্ধ করতে পারেন না ।প্রতিপক্ষের অবস্থান,কলাকৌশল,কর্মকান্ড ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে শত্রুর সাথে কিভাবে যুদ্ধ করবেন।কিন্তু আপনি যদি শত্রুর অবস্থান ,কলাকৌশল, কর্মপরিধি না দেখেই যুদ্ধ করে বসেন আপনাকে গো-হারা হারতে হবে। দাবা খেলার সময় একা খেলা যায় না প্রতিপক্ষের উপর খুব সতর্ক নজরদারি করতে হয় ম্যাচ জিততে হলে কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে……..


রাজনীতিতে আপনাকে আরো বেশি সতর্ক হতে হবে,দেখতে হবে ,বিশ্লেষণ করতে হবে প্রতিপক্ষের স্ট্র্যাটেজি..আপনি যদি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল সমন্ধে ওয়াকিবহাল না থাকেন আপনাকে রাজনীতির মাঠে চরম ধরা খেতে হবে।


বিরোধী রাজনৈতিক দলের পেজে লাইক দিলে অন্তত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান সমন্ধে কিংবা কর্মকাণ্ড সমন্ধে প্রাথমিক খোজখবর পেতে পারেন,লাইক দিয়ে বা ফলো করলে আপনি হিসেব করে দেখতে পারেন আপনি কতটুক এগিয়ে আছেন কিংবা পিছিয়ে আছেন… কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের পেজে লাইক দেওয়া মানে ওই মতাদর্শের অনুসারী হওয়া ব্যাপারটা কিন্তু এক না।আপনি যদি রাজনীতি করেন তাহলে আপনার বিভিন্ন দল মতের সাথে সম্পর্ক থাকতে পারে তাদের সমন্ধে ধারণা রাখার জন্য.. রাজনীতি করলে নিজ দল সমন্ধে যে রকম খোঁজ রাখা জরুরি তেমনি বিরোধী দল সমন্ধে খোঁজ রাখাও তেমন জরুরি ।তবে কিছু ঘাপটি মেরে বসে থাকা লোকজন আছে যারা সব ঘাটের জল খায়,ওদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে হলেও অন্য সংগঠন সমন্ধে প্রাথমিক খোঁজ খবর রাখা দরকার।

আপনি রাজনীতি করলে ছাত্রলীগ,ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রদল , উগ্রপন্থী রাজনৈতিক মতাদর্শের দল সকলের ইনফরমেশন থাকবে আপনার কাছে,না হলে আপনি ঘোর অন্ধকারে থাকবেন ।

এক বিংশ শতাব্দীতে কেউ অন্ধকারে ঢিল ছুড়ে রাজনীতি করে না… এভাবে অন্ধকারে ঢিল ছোড়ার রাজনীতি চলতে থাকলে আবরারের মত অনেকেই হারিয়ে যেতে হবে মিথ্যা ব্লেমের কারণে।
তবে সত্যিকার অর্থে সেদিন এসব বন্ধ হবে সেদিন থেকে আদর্শিক রাজনীতির চর্চা শুরু হবে।

আদর্শিক রাজনীতি শুরু হলে মুক্তচিন্তা প্রাধান্য পাবে,সমালোচনা কে গ্রহণ করার মানসিকতা সৃষ্টি হবে,যুক্তিকে যুক্তি দিয়ে পরাভূত করার প্রচেষ্টা দেখা যাবে হয়তোবা…মুজিববাদ প্রতিষ্ঠা পেলে হয়ত ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হয়ে নিজেকে শোধরানোর প্রবণতা সৃষ্টি হবে। স্বনির্ভর শান্তিপূর্ণ দেশ তৈরীতে দল মত নির্বিশেষে ( উগ্র সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল বাদে) সহাবস্থান অত্যান্ত জরুরি।