বাকশালঃ উত্তরনের পথ

👤 মোয়াজ্জেম হোসেন সৈকত

১৯৭৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি গঠিত হয়েছিল জাতীয় ভিত্তিক রাজনৈতিক দল- বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ বা বাকশাল। বাকশালের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (১৯২০-১৯৭৫)। গঠন করেছিলেনও তিনি। এই দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল সব দল, মত, শ্রেণি, পেশার মানুষ। সব মানুষকে নিয়ে একটি জাতীয় দল গঠন করে বাংলাদেশের কৃষক শ্রমিক তথা দীন-দুঃখী মেহনতি শোষিত মানুষের সার্বিক মুক্তি চেয়েছিলেন তিনি। একে তিনি ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ বা ‘শোষিতের গণতন্ত্র’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। বাকশাল কোন এক দলীয় দল ছিল না বরং এটি একটি জাতীয় ভিত্তিক দল ছিল।বাকশালের উদ্দেশ্য ছিল পুঁজিবাদী শোষকদের প্রতারণামূলক গণতান্ত্রিক শাসন এবং শোষনের অবসান ঘটিয়ে শোষনহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। জনগনের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে বাকশাল গঠন করা হয়েছিল।



বাকশাল গঠনের পটভূমিঃ

জাসদসহ বামপন্থি দলগুলো স্বাধীনতার পরপরই সরকারের তীব্র সমালোচনা করছিল, যদিও তখন রাজনৈতিক মতাদর্শ ভুলে দলমত নির্বিশেষে দেশ গড়ায় মনোনিবেশ করা ছিল প্রথম কর্তব্য। অথচ তাদের তখন মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমতা হতে যেকোনো উপায়ে উৎখাত করা ও ক্ষমতারোহণ। তৎকালীন যুদ্ধপরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে ভঙ্গুর আইন শৃংখলার সুযােগে অনেকে আইনশৃংখলা বিরোধী কাজে জড়িয়েছিল। যুদ্ধকালীন সময়ে আনুগত্য প্রকাশ করে বঙ্গবন্ধুর আস্থাভাজন হওয়ার মাধ্যমে সরকারে স্থান পাওয়া অনকে অসৎ ব্যক্তি সরকারী বিদেশী অনুদান আত্নসাৎ করে যুদ্ধপীড়িত অসহায় জনগণকে অধিকার বঞ্চিত করে। যে কারণে দেশের অনেকেই সরাসরি বঙ্গবন্ধুকে দোষারাপ করতে থাকে। রাজনৈতিক বিরোধীপক্ষরাও জনগণের দুর্দশাকে পুঁজি করে বঙ্গবন্ধুর বিপক্ষে সকল অভিযোগ ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে ব্যবহার করত। তারা মূলত বঙ্গবন্ধুর অতিমানবীয় ইমেজকে ভয় করত, কারণ তারা জানত বঙ্গবন্ধুর দেশপ্রেম, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে প্রভাব ও দেশের মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতাকে বিতর্কিত না করতে পারলে তারা কখনোই ক্ষমতায় যেতে পারবে না।

বাকশাল গঠনের মুল উদ্দেশ্য ছিল অর্থনৈতিক মুক্তি


১৯৭৪ সালে সারাদেশ যখন দুর্ভিক্ষ চলছে তখন কর্নেল তাহের একটি গোপন সশস্ত্র বিপ্লবী-গণবাহিনী গড়ে তোলেন। জাসদ প্রতিটি সেনানিবাসে গড়ে তোলে তাদের বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা। ১৯৭৩ সালের জাসদের প্রথম জাতীয় অধিবেশনেই মার্কসবাদ, লেনিনবাদ ও মাওপন্থী চিন্তাধারাকে তাদের আদর্শ এবং বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রকে লক্ষ্যে স্থির করে শেখ মুজিব সরকারকে একটি ‘বুর্জোয়া শোষক শ্রেণি’ সরকার বলে আখ্যায়িত করা হয়। অপরদিকে সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে শ্রেণিমুক্ত ‘স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ববাংলা’ গঠন করার লক্ষ্যে আরেক স্লোগানধারী সিরাজ শিকদারের নেতৃত্বে পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির ক্যাডারেরা ১৯৭২-৭৩ সালের দিকে কমপক্ষে ৪৯২৫টি গুপ্তহত্যা করেছিল। ১৯৭২-৭৩ সালের এ সময়টাতে পাকিস্তানপন্থী জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম, মুসলিম লীগ, পিডিপিসহ বেশির ভাগ মুসলিম ভাবাপন্ন রাজনৈতিক দলগুলো গোপনে জুলফিকার আলীর পরামর্শে ‘মুসলিম বাংলা’ কায়েমের লক্ষ্যে তাদের সর্বশক্তি নিয়ে তৎপরতা চালিয়েছিল। মাওলানা ভাসানী এদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছিলেন। সাড়ে তিন বছরের প্রতিটি বৈরী কর্মদিবস দূর্নীতি, লুটতরাজ ও নাশকতা পরিস্থিতিতে মোকাবিলা করতে ১৯৭৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদউল্লাহকে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করতে শেখ মুজিবর রহমান অনুরোধ করেন। এইসব পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে বঙ্গবন্ধ হিমশিম খাচ্ছিলেন অার তাই তিনি প্রচলিত গনতান্ত্রিক বৈষম্য, শোষন- দূর্নীতিভিত্তিক সমাজকে, দেউলিয়া আর্থসামাজিক ব্যাবস্থাকে, জরাজীর্ণ প্রশাসন ও অবিচারমূলক বিচার ব্যাবস্থাকে সমূলে উৎপাটইত করে একটি শোষণহীন, দূর্নীতিহীন, বৈষম্যহীন ও প্রকৃত গনতান্ত্রিক সাম্যবাদি সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাকশাল গঠন করেন। বাকশালকে তিনি ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। গবেষক ড. অজিত কুমার দাস বঙ্গবন্ধুর বাকশাল সর্ম্পকিত গঠনের উদ্দশ্যে যুক্তিসহকারে তুলে ধরেন। সে সময়কার উগ্র দলগুলোর সশস্ত্র বিপ্লবের নামে ব্যাংক লুট, থানা লুট, ফাঁড়ি লুট, রাতের অন্ধকারে রাজনৈতিক ডাকাতি চরম আকার ধারণ করলে বঙ্গবন্ধু উপায়ন্তর না দেখে বাকশাল গঠন করেন সামগ্রিক পরিস্থিতির অবলোকনে। বঙ্গবন্ধু বাকশালকে সাময়িক সময়ের জন্য রাখতে চেয়েছিলেন, পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন বেগবান করা। যদি বাকশাল সফল না হতো বঙ্গবন্ধু নিজেই ঘোষণা দিয়েছিলেন বাকশাল থেকে সরে যাওয়ার
“এটা অস্থায়ী (ব্যবস্থা), সময় এলে এটা সরিয়ে নেওয়া হবে’’
(সূত্র: তোয়াব খান,১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর প্রেস সেক্রেটারি)।বঙ্গবন্ধু নিজে বাকশাল দুই বছরের বেশি রাখতে চাননি,শুধুমাত্র দেশের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য তিনি সাময়িক সময়ের জন্যে বাকশাল কায়েম করেছিলেন।

দ্বিতীয় বিপ্লব


বাকশালের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঃ

ইংরেজ শাসক-শােষকগােষ্ঠী ওয়েস্টমিনিষ্টার ধাচের যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রচলন করেছিলেন, তার মধ্যে মূল লক্ষ্য ছিলাে শােষণ ও বহুদলীয় রাজনৈতিক কর্মকান্ডের ফলে যাতে বৃহত্তর সংখ্যাগরিষ্ঠ অজ্ঞ দুর্বল শােষিত মেহনতী শ্রমজীবি মানুষের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে। কারণ শ্রমজীবি শােষিতের ঐক্যের মধ্যেই শােষক সমাজের মৃত্যুবাণ নিহিত ।বঙ্গবন্ধু তাই বহুদলীয় প্রতারণামূলক রাজনীতি বা মুষ্টিমেয় শোষক ধনিক শ্রেণীর গণতন্ত্রের জট ভেঙ্গে দিয়ে বৃহত্তর সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মেহনতী দরিদ্র শােষিত মানবগােষ্ঠীকে শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করার রাজনৈতিক-গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ও তাদের আর্থবৈষয়িক সার্বিক কল্যাণ-তথা শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাম্যবাদী কর্মসূচী প্রদান করেছিলেন বাকশাল ব্যবস্থার উদ্ভাবন ঘটিয়ে। সেসময় বাংলাদেশ এ রাজনৈতিক দল ছিল ৭ টি তার মধ্যে ৫ টি নিয়েই বাকশাল গঠন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু । বাকী দুই দল ছিল একটি জাসদ ,আরেকটি সর্বহারা দের দল,এরা দেশব্যাপী হাজার হাজার মানুষ খুন করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিলো তাই এদের নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সর্বহারা পার্টি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী ছিল ,অনেক জায়গায় মুক্তিযুদ্ধা দের বিরুদ্ধে ও যুদ্ধ করছে। তাই ওদের নিষিদ্ধ করা যৌক্তিক সিদ্ধান্ত ছিল। এদের নিষিদ্ধ করায় যারা বলেন গণতন্ত্র চলে গেছে তারা বোধ হয় জানেন না গণতন্ত্র এর সংজ্ঞা কি? অথচ আপনারাই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেন, জঙ্গিবাদের বিরোধিতা যদি করে থাকেন এদের ও জাসদ, সর্বহারাদের
বিরোধিতা করতে আপনি বাধ্য।

বাকশালের বৈঠকে বঙ্গবন্ধু

বাকশাল ব্যবস্থায় জনগণের ভােটাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। একজন শিক্ষক কিংবা শ্রমিকের জন্য জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া কোন কাল্পনিক ব্যাপার ছিল না বাকশালের মাধ্যমে। তাছাড়া প্রতিটি নির্বাচনে সমস্ত ভােটাররা ভােটপ্রদান এবং তাদের পেশাভিত্তিক প্রতিনিধিরা নির্বাচনে প্রার্থী হিশেবে প্রতিযােগিতা করতে পারে তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বিভিন্ন পেশাভিত্তিক জনপ্রতিনিধিরা যাতে শাসন ক্ষমতায় ও অন্যান্য পরিচালনা পরিষদে যেতে পারে তার জন্যে স্থানীয় গ্রাম সমবায়, থানা পরিষদ ও অন্যান্য জাতীয় নির্বাচনে প্রতিটি ক্ষেত্রে জাতীয় দল বাকশাল একই আসনে একাধিক প্রার্থীকে মনােয়ন দেবে। ফলশ্রুতিতে নির্বাচন প্রতিযােগিতায় অধিকতর যােগ্য প্রার্থীরা অংশগ্রহণের সুযােগ পাবে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় যথা প্রার্থীর প্রচার-পরিচিতি ইত্যাদি ক্ষেত্রের ব্যয় বহন করবে। কোনাে প্রার্থীই প্রকাশ্যে বা গােপনে অর্থ দিয়ে ভােটারদের প্রভাবিত করলে সেই প্রার্থীর প্রার্থীপদ বাতিল করে দেয়া হবে। তাই অর্থ দিয়ে যাতে ভােটারদের প্রভাবিত করা না হয় তার জন্যে পূর্বাহ্নেই প্রত্যেক প্রার্থীকে তার অর্থের তহবিলের হিশেব দাখিল করতে হবে। জাতীয় দল ও সরকার এ বিষয়ে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এ পদ্ধতিতে কোনাে প্রার্থী টাকা-পয়সা ও অন্যান্য প্রভাব খাটিয়ে ভােটারদের প্রভাবিত করার সুযােগ পাবে না। তাছাড়া পেশাভিত্তিক নির্বাচনের ফলে প্রার্থীর আয়-উপার্জন ও অর্থের সূত্রের পরিমাপ করা মােটেই দুরুহ নয়। ফলে নির্বাচনে জয়লাভ কেবলমাত্র প্রার্থীর চরিত্র ও সার্বিক যােগ্যতার মাপকাঠিতে নির্ধারিত হবে। এভাবে ক্ষমতার প্রতিটি কেন্দ্রে স্বাভাবিকভাবেই জনগণের বৃহত্তর সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের প্রকৃত মােগ্য সৎ নিষ্ঠাবান প্রতিনিধিরা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় যেতে পারবে। এবং এর ফলে বিভিন্ন পরিচালনা পরিষদে ও ক্ষমতার কেন্দ্রে তাদের নিরঙ্কুশ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়ে সবকিছু সরাসরি তাদের অনুকূলে এসে যাবে। অর্থাৎ এ প্রক্রিয়ায় গ্রামীণ শতকরা ৮০% ভাগ জনগণের প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে যাবে, অর্থাৎ এতােকাল যারা ছিলাে শোষিত অবহেলিত নিগৃহীত দুর্বল, তারাই এভাবে ক্ষমতার মূল কেন্দ্রে এসে যাবে। এ ব্যতীত বিভিন্ন পরিষদে পেশাভিত্তিক প্রতিনিধি থাকার ফলে কোনাে বিশেষ পেশার প্রাধান্য বা প্রভাব কার্যকর হবে না । তবে এক্ষেত্রে কৃষক শ্রমিক পেশাজীবিদের প্রাধান্য অবশ্যই থাকবে, যেহেতু তারাই হবে সংখ্যাগরিষ্ঠ। এভাবেই প্রকৃত জনগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে, এ বিষয়ে সন্দেহের কোনােই অবকাশ নেই। এটাই হলাে বঙ্গবন্ধুর বাকশাল সৃষ্টির মূল লক্ষ্য।

সেসময় বাকশার কমিটি জায়গা পাওয়ার জন্য জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে রীতিমত অস্থির করে ফেলেছিলেন। এবং সর্বশেষ লবিং এর মাধ্যমে জিয়া বাকশার কমিটিতে স্থান পায়। অাজকে জাতীয়তাবাদী দলের যারা টকশোতে এসে বাকশাল নিয়ে টকশো গরম করে ফেলেন তাদের কাছে প্রশ্ন জিয়া কেন বাকশালে যোগদান করেছিলেন?

বাকশালের বৈঠকে জিয়া


ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলছেন বাকশাল নিয়ে সবসময় অপপ্রচারই হয়েছে।

“বাকশালকে বোঝানো হয়েছে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন কিন্তু এটা একদল নয় বরং তৎকালীন পরিস্থিতিতে অভিন্ন জাতীয় মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিলো। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন এটা সাময়িক ব্যবস্থা – কিন্তু পরে দীর্ঘকাল ধরে নেতিবাচক প্রচারণাই হয়েছে”।

তিনি বলেন তখন কাউকে বাকশালে যোগ দিতে চাপ দেয়া হয়নি বরং অনেকেই স্বেচ্ছায় যোগ দিয়েছে।

“আমলা সেনাবাহিনী সবাইকে এক মঞ্চে আসতে বলা হয়েছিলো, দলে নয়। কিন্তু এগুলো নিয়ে অপপ্রচার আর ভুল ব্যাখ্যার কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে”। ইরানের অায়াতুল্লাহ খামেনী ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর যেভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দীর্ঘদিন ধরে নিজের কব্জায় রেখেছিলেন কিংবা ফিদেল কাস্ত্রো যেভাবে ক্ষমতা ধরে রেখেছিলেন সেটা যদি সমালোচক মহল সাদরে গ্রহন করতে পারে তাহলে বঙ্গবন্ধু বাকশাল কেন তারা গ্রহন করতে পারবে না।

১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বাকশালের বৈঠকে উপস্থিত জিয়া ও খালেদা জিয়া




সুতরাং যে সকল মহল বাকশাল ব্যবস্থাকে স্বৈরতান্ত্রিক, একদলীয়, গণতন্ত্র হত্যাকারী ও ব্যক্তিশাসন প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিশেবে চিহ্নিত করেন এবং নানান কুৎসা ও অপপ্রচার চালান সেই সব মহলকে বাকশাল সৃষ্টির পটভূমিকা ইতিহাস ও পদ্ধতি-প্রক্রিয়া ভালােভাবে হৃদয়ঙ্গম করতে অনুরােধ করি। প্রকৃত কথা হলাে, বিরুদ্ধ মহলও জানে যে এ ব্যবস্থা ব্যতীত বৃহত্তর জনগণের সার্বিক কল্যাণ আসতে পারে না। তবুও তারা বাকশালকে গালিগালাজ করেন, নানান অপপ্রচার চালান এই জন্যে যে, তারাই শােষক-প্রতিক্রিয়াশীল চক্র ও সাম্রাজ্যবাদ পুঁজিবাদের এজেন্ট, সেবাদাস, অনুচর। বাকশাল ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে তাদের মৃত্যু অবধারিত হয়ে। যাবে, স্বেচ্ছাচারী-স্বৈরাচারী শাসন-শােষণ প্রভাব ও সুবিধাবাদী কার্যকলাপ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। এটাই তাদের ভয়। তাই তারা বাঙ্গলার সূর্য সন্তানকে সপরিবারে হত্যা করে। বাকশাল কেন কি কারনে হয়েছিল তা অার বাস্তবায়নের কোন সুয়োগ বঙ্গবন্ধুকে দেওয়া হয় নি। তাই পঁচাত্তরের বিপদগামী বেজন্মা দের উত্তরসূরীরা প্রকৃত ইতিহাস না জেনে এবং ১৫ ই অাগস্টকে বৈধতা দেওয়ার জন্য উঠতে বসতে, টিভি – টকশোতে বাকশালকে গালি দিতে দিতে মাঠ গরম ফেলে। তাদেরকে বাকশালেন ইতিহাস পড়ার জন্য অনুরোধ রইল।বাকশাল গঠনের পর দেয়া বঙ্গবন্ধুর একটি ঐতিহাসিক ভাষণ ইউটিউবে রয়েছে।

ভাষণটি ইউটিউবে আপলোড করেছেন এক গবেষক। সেখানে তিনি যা বলেছেন তা শুনলে যেকোন বাংলাদেশি বাঙালির গর্জে উঠতে মন চাইবে ফের।

দেশ নিয়ে বঙ্গবন্ধুর গঠনমূলক চিন্তার অনুভূতি কতটা গভীর ও সুদূপ্রসারী হতে পারে তা জানা যাবে এ ভাষণ শুনলে। এ ভাষণ শুনলে যেকোন বিবেকসম্পন্ন মানুষ বুঝতে পারবে বাকশাল ও বঙ্গবন্ধু নিয়ে এদেশের বখে যাওয়া বামপন্ডিত ও পশ্চিমকে মানদণ্ড মনে করে পরিচয় সংকটে পতিত ইতিহাসবিদ, কলামিস্ট ও মুজিববিরোধী গোষ্ঠী কী পরিমাণ মিথ্যাচার ও অপপ্রচার করেছে। বাকশালের এক ও অদ্বিতীয় উদ্দেশ্য ছিল বাংলার নিপীড়িত, খেটে খাওয়া কৃষক-শ্রমিক ও গরীবের অধিকার সংরক্ষণ করা।

তথ্যসূত্রঃ
১। বাকশাল উত্তরনের পথ- হাসানুর রশিদ
২। বঙ্গবন্ধু, বাকশাল ও মুক্তিযুদ্ধের
ইতিহাস-মুহম্মদ জে এ সিদ্দকী
৩।বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লবঃ কী ও কেন- হারুন-অর রশীদ
৪। বাকশাল প্রেক্ষাপট ও সমালোচনা- ড. অরুন কুমার গোস্বামী

আরো জানতে পড়ুন বাকশাল কেন প্রাসঙ্গিক – অমি রহমান পিয়াল

লেখক : শিক্ষার্থী ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়