সোফিয়া জাদুঘর নিয়ে এরদোগানের কূটচাল

সোফিয়া গির্জা বা মসজিদ না জাদুঘর সে বিতর্কে যাবেনা..কিন্তু জানুন!

পশতুন উপজাতি ১৯৪৮ সালে কাশ্মীরকে আক্রমণ করলে রাজা হরি সিং ভারতের কাছে সমর্পণ করে দেন কাশ্মীর।অথচ কাশ্মীর ৯৫% শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল ছিল,কিন্তু কেনা সূত্রে মালিক কিংবা রাজা ছিলেন হরি সিং। আইনত এবং রাজার ক্ষমতা বলে হরি সিং কাশ্মীর কে বিক্রি করতে পারতেন কিংবা হস্তাস্তর করতে পারেন ,মুসলিমদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখানে কোন ব্যাপার না কারণ কাশ্মীরের মালিক ছিলেন হরি সিং। সুতরাং কাশ্মীরকে ভারতের কাছে বিক্রি বা হস্তাস্তর করার সিদ্ধান্ত হরি সিংয়ের সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।

অনিন্দ্য সুন্দর হাজিয়া সোফিয়া



এবার আসুন দেখে নেই বাইজেন্টাইন নির্মিত আয়া সুফিয়ার ইতিহাস..
বাইজান্টাইন খ্রিস্টান চার্চ (৫৩৭-১০৫৪)
গ্রীক অর্থোডক্স চার্চ (১০৫৪-১২০৪)
রোমান ক্যাথলিক চার্চ (১০৫৪-১২৬১)
গ্রীক অর্থোডক্স চার্চ (১২৬১-১৪৫৩)
অটোমান মসজিদ (১৪৫৩-১৯৩৫)
মিউজিয়াম (১৯৩৫-২০২০)
মসজিদ (২০২০-)

নির্মাণের ১০০০ বছর পর্যন্ত এটি চার্চ হিসেবে বিদ্যমান ছিল।১৪৫৩ সালে সুলতান মেহমেদ আল ফাতির কনস্ট্যাটিনোপল(ইস্তানবুল) বিজয়ের স্মারক হিসেবে আয়া সুফিয়াকে কিনে মসজিদে রুপান্তর করেন।এরপর ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত এটি মসজিদ হিসেবে বিদ্যমান ছিল…১৯৩৫ সালে কামাল আতাতুর্ক এক ডিক্রি জারি করে একে জাদুঘরে রুপান্তরিত করেন।২০২০ সালে এরদোগান আবার পুণঃদখল করে মসজিদে রূপান্তর করেন।
একটি বিশেষ শ্রেণীর মতে আইন অনুযায়ী মুসলিম শাসকের কেনা হওয়ায় এটি মসজিদে রূপান্তর করা সঠিক এবং বৈধ। ঠিক একইভাবে রাজা হরি সিংয়ের কাশ্মীরকে ভারতের হাতে দিয়ে দেওয়াটা বৈধ এবং নীতিসুদ্ধ!ভারতে নিরীহ মুসলিমদের উপর অত্যাচার ও আইনত বৈধ, কারণ হরি সিং কাশ্মীরের ক্ষমতা ভারতের হতে সমর্পণ করেছিলেন,ভারত তার ক্ষমতাবলে কাশ্মিরীদের সাথে যা ইচ্ছে করতে পারে এটা ভারতের অধিকার।ঐ শ্রেণীর যুক্তি অনুযায়ী সোফিয়া গির্জাকে /জাদুঘরকে মালিকানা সূত্রে দখল করা যেরকম বৈধ কাশ্মীর দখল করা কিংবা বিক্রি করা,কাশ্মীরদের সাথে বর্বর ব্যবহার ও বৈধ। কারণ মালিকানা সূত্রে সবই জায়েজ।! দ্বিচারিতার সুযোগ নেই , বিশেষ শ্রেণীর যুক্তি মোতাবেক উভয় ঘটনা যৌক্তিক।

এবার আসি কিছু বাস্তবতায় এরদোগান নিজের নেমে যাওয়া জনপ্রিয়তার লাগাম টেনে ধরতে সোফিয়া জাদুঘরকে মসজিদে রূপান্তর করে করে
নিজেকে আবার জনপ্রিয় নেতা হিসেবে উপস্থাপন করতে একেবারে সফল। সম্প্রতি মাহাথির মোহাম্মদ
ইসরাইলি অপশাসনের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি বার্তা উচ্চারণ করছেন ,এবং বারবার ব্যাবস্থা নেওয়ার ঘোষণা করেছেন , এমনকি মাহাথির মোহাম্মদ নতুন শক্তিশালী মুসলিম জোট করার ঘোষনা দিয়েছেন। এধরনের উদ্যোগের ফলে মাহাথির মোহাম্মদ মুসলিম বিশ্বে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছেন অনেক। অন্যদিকে এরদোগান ২০২০ এর ইসরাইলে চিকিৎসা সামগ্রী পাঠিয়ে নিজের ক্ষমতার মসনদ শক্তিশালী করেন। হ্যা মুসলিম বিশ্বের একমাত্র নেতা হিসেবে এরদোগান ইসরাইলে প্রকৃতিক গ্যাস রপ্তানিতে এক ধাপ এগিয়ে গেছেন।হাজার হাজার ফিলিস্তিনি হত্যা করে ইসরাইল আর তুরস্কের এরদোগান ইসরাইলকে ফিলিস্তিনি দের হত্যার উপহারস্বরূপ চিকিৎসা সামগ্রী পাঠায় ,গ্যাস পাঠাচ্ছে, ফিলিস্তিনি হত্যা করার রসদ জোগাড় করে দিচ্ছে ইসরাইলিদের… হ্যা এই হচ্ছে বিশেষ শ্রেণীর নেতা এরদোগানের আসল স্বরূপ।এদিক দিয়ে এরদোগান মাহাথির মোহাম্মদের সাথে রাজনীতিতে কুলিয়ে উঠতে পারছেনা তাই এরদোগানের এই কূটচাল,আবার ইসরাইলের সাথে দহরম মহরম সম্পর্ক!

এরদোগানের বর্তমান রাজনীতির মুলকেন্দ্র হাজিয়া সোফিয়া


ভাবছেন এরদোগান এক মসজিদ রক্ষা করে অনেক বড় বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন,তাহলে আপনি মরিচিকায় সম্পূর্ণ মোহগ্রস্থ।এ সিদ্ধান্তে এরদোগান নিজে লাভবান হলেও সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে মুসলিম উম্মাহর! কারণ খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ ইউরোপ আমেরিকায় মুসলিমরা সংখ্যালঘু। এই নিরীহ মুসলিমরা খ্রিস্টান দের হাতে কি পরিমান দমন পীড়নের স্বীকার হবে একবার ভাবুন! আল কায়েদার টুইন টাওয়ারে বোমা হামলা অর্থাৎ নাইন ইলেভেনের পর কত নিরীহ মুসলিম সমগ্র বিশ্বে নামে মোহাম্মদ,ইসলাম ,খান কিংবা ইসলামিক নাম বা মুসলিম পরিচয় থাকার কারণে কত হাজার হাজার মুসলিম দমন পীড়নের হত্যা স্বীকার হয়েছিল তার ইয়ত্তা নেই। সমগ্র ইউরোপ আমেরিকায় মুসলিম বিদ্বেষ চরমে আছে বর্তমানে,এরদোগানের এই সিদ্ধান্তে কত নিরীহ মুসলিমের কপাল পুড়বে কে জানে? মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাব সম্পূর্ণ উস্কে দিবে এরদোগানের এই হঠকারী সিদ্ধান্ত। এরদোগানের এই সিদ্ধান্ত মুসলিম বিদ্বেষীদের মুসলিম বিদ্বেষের উনুনে কেরাসিনের ভূমিকা পালন করবে।

সোফিয়া জাদুঘরকে মাসজিদে রূপান্তর করে এরদোগান রাজনৈতিক ভাবে লাভবান হবেন ঠিকই, নির্বোধদের চোখে ধুলো দিতে পারলেন ঠিকই কিন্তু হঠকারী সিদ্ধান্তে সারা বিশ্বে মুসলিমদের খুব বড় ক্ষতি করে দিয়েছেন সেটা সময় সবার চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিবে। মুসলিমরা খুব ভুগবে এরদোগানের এই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের জন্য ,খুব ভুগবে।