শাহজাহান সিরাজ এক কক্ষচ্যুত নক্ষত্রের বিষম পতন

১৯৭১ সালের দুই মার্চে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক ( তৎকালীন ইকবাল হল) হলে ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদের রুমে মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যাবধানে ছাত্রলীগের নিউক্লিয়াস সেলের নেতৃত্বে “স্বাধীনতার ইশতেহার – জয় বাংলা” রচনা করেন সিরাজুল আলম খান, তোফায়েল আহমেদ,ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি আব্দুর রউফ, আব্দুর রাজ্জাক,কাজী আরেফ।

আদর্শচ্যুতির জন্য অমর হয়ে থাকবেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শাহজাহান সিরাজ



নিউক্লিয়াস সেলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে ৩ মার্চ ১৯৭১ পল্টন ময়দানে বিশাল এক ছাত্র জনসভায় বঙ্গবন্ধুর সামনে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ।মুক্তিযুদ্ধে তিনি শাজাহান সিরাজ মুজিব বাহিনীর অন্যতম প্রধান কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

না শাহজাহন সিরাজ তার শপথ রক্ষা করতে পারেননি, জীবনের অধিকাংশ সময় স্বাধীনতা বিরোধীদের হাত শক্ত করতে ব্যয় করেছেন


স্বাধীনতার পর মূলধারার রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শাজাহান সিরাজ জাসদে যোগদান করেন। পরবর্তীতে সারাদেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে জাসদ বঙ্গবন্ধু হত্যার পটভূমি রচনা করে । জাসদ থেকে ৩ বার নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুবার এমপি হয়েছিলেন শাজাহান সিরাজ। পরবর্তীতে আদর্শচ্যুৎ হয়ে বিএনপি জামাত জোটের পতাকাতলে গিয়ে একবারের জন্য আবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।জীবিত অবস্থায় তিনি জাসদ নেতা হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত ছিলেন।

স্বাধীনতার পরবর্তী ভূমিকার জন্য শাহজাহান সিরাজ নিন্দিত হবেন যেমনি,তেমনি আরো বেশি নিন্দিত হবেন বিএনপি জামাত জোটের পতাকা তলে আশ্রয় নেওয়ার জন্য। প্রতিভার কি নিদারুণ অপব্যাবহারের উদাহরণ শাহজাহান সিরাজ, যার উচিৎ ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত করা অথচ তিনি সারা জীবন ব্যয় করেছেন স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির উত্থানের জন্য।

স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এর বঙ্গবন্ধুর সাথে শাহজাহান সিরাজ



এতকিছুর পরেও শাজাহান সিরাজ বাংলাদেশের স্বাধীনতায় অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম।আজ শাজাহান সিরাজ নামক নক্ষত্রের পতন হলো।৭৭ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।ভাল থাকবেন বীর যোদ্ধা।