আশু সংস্কার জরুরি।উচ্চবিত্তদের করায়ত্ত ছাত্র রাজনীতি!

একজন শিক্ষার্থী যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে তখন পরিস্থিতি কোনভাবেই অনুকূলে থাকেনা,নতুন পরিবেশ,নতুন মানুষ, প্রতিকূল পরিবেশ অনেকের মানিয়ে নিতে অনেক সময় লাগে। সে পরিস্থিতিতে কোন কিছুই স্বাভাবিক থাকেনা না পড়াশুনা, না অন্য কিছু।সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সুযোগ পাওয়া অধিকাংশ ছেলে নিম্নবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ও সন্তান হয়। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য ভাল থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি অনুযায়ী এদের অনেকে প্রথম এক দুই বছর রাজনীতিতে সক্রিয় থাকে বা থাকতে হয়।এরপর বাস্তবতা বুঝে দীর্ঘসূত্রতা দেখে পারিবারিক প্ৰয়োজনে কিংবা জীবিকার তাগিদে রাজনীতি থেকে দূরে যায়। ছাত্র রাজনীতি করার শত ইচ্ছে থাকলেও অনেকে রাজনীতি চালিয়ে যেতে পারেনা বিভিন্ন কারণে।অনেকে শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও মাস্টার্স শেষ করা পর্যন্ত সক্রিয় রাজনীতি করে।পারিবারিক অবস্থা অগ্রাহ্য করে কিংবা টিউশনি করিয়ে সংগঠনের পেছনে ৫-৬ বছর ব্যয় করে।কিন্তু এত কষ্ট করে রাজনীতি করার পর যখন দেখে কোন কিছুই ঠিকমতো চলছে না,যখন দেখে পোষ্ট পদবী পেতে আরো এক দুবছর লাগবে তখন অনেকের রাজনীতি করার ইচ্ছে উবে যায়।একটি ছেলে যখন রাজনীতিতে জড়ায় তখন বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে জড়ায়, দীর্ঘদিন রাজনীতি করার ইচ্ছে নিয়ে জড়ায় কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৫-৬ বছর রাজনীতিতে ব্যয় করার পরে যখন দেখে ফলাফল শূন্য তখন বাধ্য হয়ে পরিবারের কথা ভেবে, নিজের কথা ভেবে পিছু হটতে বাধ্য হয়। ধীরে ধীরে রাজনীতি থেকে দূরে সরে যেতে হয়।
প্রকারান্তে যে ছেলের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী অথচ পারিবারিকভাবে সুবিধাবাদী রাজনৈতিক দলের অনুসারী সুযোগ বুঝে সংগঠনের ছত্রছায়ায় ঢুকে পড়ে,পোষ্ট পদবী বাগিয়ে নিয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছাত্ররাজনীতি এদের কুক্ষিগত হয়।কিন্তু এরা কখনো রাজনীতি সক্রিয়ভাবে করেনি, তাই সুবিধা নিয়ে ভেগে যায় প্রায় সময়,এরা কোন বিষয়ে দলের প্রতি অন্তপ্রাণ কর্মীদের সুযোগ দিতে চায়না ,নিজের স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টায় হন্যে হয়ে ছোটে। অথচ সংগঠনের জন্য যে ছেলে ৬-৭ বছর জীবনের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ সময় ব্যয় করে সে ছেলে মূল্যায়িত হলে সংগঠনের জন্য ভালো হতো,সংগঠনের স্বার্থ কিংবা কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা যেন হয় সেটা সব সময় প্রাধান্য পেত তার কাছে। উচ্চবিত্তদের করায়ত্ত বর্তমান ছাত্র রাজনীতি! অর্থবিত্ত আর প্রভাব প্রতিপত্তির কাছে হার মানতে হয় আদর্শিক কর্মীদের। দলের অন্তপ্রাণ কর্মীটি সুযোগ না পাওয়ায় দিনশেষে তার যে ক্ষতি হয় তার চাইতে আখরে সংগঠনের ক্ষতি হয় বেশি। কারণ যে ছেলে এত বছর সংগঠনের পেছনে নিজের অর্থ,মেধা মূল্যবান সময় ব্যয় করেছে তার ভালোবাসা অন্যদের চাইতে বেশি হবে সংগঠনের জন্য,জীবনযুদ্ধে জয়ী হয়ে রাজনীতির ময়দানে টিকে থাকতে চাওয়া ছেলে খুব কোনভাবেই নিজ সংগঠনের সম্মানহানি হবে এমন কোন কাজে নিজেকে জড়াবে না ,এমনকি সে কর্মী যদি নেতা হয় তাহলে কর্মীদের পালস বুঝে সংগঠন চালাবে।ক্ষমতায় টিকে থাকার মোহের চাইতে সংগঠনের মঙ্গল চিন্তা সর্বক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে তার সময়কালে। অন্যদিকে যেসকল কর্মীদের আর্থিক কিংবা পারিবারিক অবস্থা ভাল তারা কোন পিছুটানে থমকে না থেকে রাজনীতি করে যেতে পারে নিশ্চিন্তে, যা একজন অস্বচ্ছল পরিবারের সন্তানের জন্য অলীক কল্পনা বটে। বাস্তবতায় পরাজয় বরণ করে রাজনীতির মাঠ থেকে নীরবে প্রস্থান করতে হয় দলের প্রতি অন্তঃপ্রাণ একনিষ্ঠ কর্মীকে।কিন্তু ৫-৬ বছর রাজপথে কাটিয়ে যখন দলের অন্তঃপ্রাণ কর্মী সংগঠন থেকে দূরে যায় তখন তার কিছুই থাকেনা হাতে, কারণ বর্তমান সক্রিয় ছাত্ররাজনীতির ধারা অনুযায়ী ছাত্রনেতাদের সক্রিয় একাডেমিক পড়াশুনো করার সুযোগ কম। ফলশ্রুতিতে খুব বেশি মেধাবী না হলে চাকুরী পরীক্ষায় ভাল করতে না পেরে অনেকে জীবনযুদ্ধে হার মেনে নিতে বাধ্য হয়।অতিরিক্ত পরিশ্রমের জোরে যখন কেউ চাকুরী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় তখন লিংক লবিংয়ের অভাবে প্রাপ্য চাকুরী থেকে বঞ্চিত হয়। এভাবে প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হতে হতে জীবনযুদ্ধে পরাজিত হয়ে চরম হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে জীবন কাটায় একসময়ের সংগঠনের প্রতি অন্তঃপ্রাণ কর্মীটির। তখন সংগঠন কিংবা দলের প্রতি একসময়ের নিবেদিত কর্মীদের খোঁজ নেওয়ার জন্য আর কেউ থাকেনা।এভাবে নেতাদের বা সংগঠনের অদূরদর্শিতার জন্য প্রতি বছর হাজার হাজার নিবেদিত কর্মীকে মহাকালের গহ্বরে হারিয়ে যেতে হয়। আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল কিংবা সংগঠনের প্রতি আন্তঃপ্রাণ কর্মীদের যদি পরিচর্যা এবং সমর্থনের ব্যবস্থা যদি শুরু থেকে নেওয়া সম্ভব হয় তাহলে অকালে হারাতে হতোনা মেধাবী পরিশ্রমী কর্মীদের।

ত্যাগী ও মেধাবী কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে



কি কি ব্যাবস্থা গ্রহণ করলে এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে

দীর্ঘসূত্রতা দূর করে

সংগঠনকে সক্রিয় করতে হলে যেকোন মূল্যে দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে হবে। কারণ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যেকোন ইউনিটের সর্বোচ্চ মেয়াদ এক থেকে দুবছর। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ইউনিটের কমিটির কার্যকাল ৪-১০ বছর স্থায়ী হয়। এর ফলে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সংগঠনে।কমিটির মেয়াদ যত বাড়ে সংগঠনের সাথে কর্মীদের দুরত্ব বাড়তে থাকে, অন্তপ্রাণ কর্মীরা দূরে সরে যায়, সুবিধাবাদী চরিত্রের নতুন নতুন কর্মীদের আগমন ঘটে ।কারণ ৮-১০ বছর ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার ইচ্ছে কিংবা সামর্থ্য অনেকের থাকেনা।এক্ষেত্রে দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতাদের সদিচ্ছা অত্যন্ত জরুরি।নিজের ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার থাকার প্রবণতা সংবরণ করে সংগঠনকে সক্রিয় ,গতিশীল করার প্রচেষ্টা চালানো উচিৎ।কর্মীরা সংগঠনের প্রাণ ,কর্মীরা টিকে থাকলে সংগঠন টিকে থাকবে, নিবেদিত কর্মীদের অবহেলা করা হলে সংগঠমের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যায়। বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির স্বর্ণযুগের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে উত্তাল পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও ৭০ কিংবা ৮০ দশকে বাংলাদেশের ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রত্যেক ইউনিটের সবগুলোতে নিয়মিত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু নব্বই দশকের অগ্রভাগ থেকে ছাত্র সংগঠনগুলোর যথা সময়ে নিয়মিত সম্মেলনের সংস্কৃতি বন্ধ হয়ে যায়, যা আজ অবধি চলমান।ঠিক এই কারণে ছাত্র রাজনীতির নিবেদন বর্তমানে হারিয়ে যাচ্ছে। কারণ সম্মেলন নিয়মিত অনুষ্ঠিত হওয়া মানে কর্মীদের মধ্যে প্রাণ সঞ্চার হওয়া,নিয়মিত সম্মেলন হওয়া মানে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হওয়া,নতুন নতুন কর্মী প্রবেশ করা সংগঠনে। মূলত নিয়মিত সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনের পাইপলাইন সমৃদ্ধ হয়। কিন্তু নিয়মিত সম্মেলন না হলে সংগঠনের পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যায়,সংগঠন স্থবির হয়ে যায়, বদ্ধ পরিস্থিতি ও কর্মীজটের উদ্ভব ঘটে। দীর্ঘসূত্রতা বন্ধ না হলে অমিত প্রতিভাবান কর্মীরা আর সংগঠনের পতাকাতলে সমবেত হতে চাইবেনা সহজে।

কর্মীদের সাথে সম্পৃক্ততা বাড়ানো

কর্মীদের সাথে সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের



সংগঠনকে ভাল করে চালাতে হলে কর্মীদের সাথে নেতাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি,কিন্তু বর্তমানে ছাত্র রাজনীতিতে নেতাদের সাথে কর্মীদের দূরত্বের কারণে ছাত্র রাজনীতি আগের আবেদন হারিয়েছে।অতীতে সংগঠনের নিয়মিত সভা অনুষ্ঠিত হতো কর্মীদের নিয়ে,কর্মীদের মতামত শোনা হতো,এবং সে অনুযায়ী সংগঠন চালাতেন নেতারা কিন্তু বর্তমানে কর্মীদের সাথে নিয়মিত আলোচনা সভা না হাওয়ার কারণে নেতারা নিজের ইচ্ছেমত সংগঠন চালনা করেন।ফলে সংগঠন অনেকটা জনবিচ্ছিন্ন দ্বীপের রূপ ধারণ করে। ফলে অস্বচ্ছল কর্মীদের অনবরত সংগ্রামী জীবনের গল্প অগোচরে থেকে যায় নেতাদের তথা সংগঠনের কর্মীদের সাথে দূরত্বের কারণে। সংগঠন ভালোভাবে চালাতে হলে কর্মীদের মতামত শুনতে হবে,কর্মীদের গুরুত্ব দিতে হবে,কর্মীদের জীবনের সুখ দুঃখের সঙ্গী হতে হবে।
বঙ্গবন্ধু যেটি করতেন তিনি সকল কর্মীর কথা শুনতেন,তাদের বিপদে আপদে পাশে দাঁড়াতেন।
বঙ্গবন্ধুর রাজনীতিতে একটি বড় গুণ দেখা যায় তিনি সবার কথা শুনতেন ,কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতেন নিজে,কেউ কখনো তাঁকে প্রভাবিত করতে পারতোনা।অথচ বর্তমানের ছাত্রনেতারা এর সম্পূর্ণ বিপরীত এবং বর্তমান কর্মীদের কথা শোনার মত নেতা দেখা যায়না। তাই এধরণের অচলবস্থা যেন সৃষ্টি না হয় সেজন্য নিয়মিত আলোচনা সভা আয়োজন করতে হবে কর্মীদের সাথে।

মাথা গোনার রাজনীতির ধারা পরিবর্তন করে গুণগত ছাত্র রাজনীতির ধারা প্রবর্তন করতে হবে



যুগের সাথে তাল মেলানো

সংগঠনের কর্মীরা যেহেতু দলের ভবিষ্যত সেহেতু তাদের শুরু থেকে পরিচর্যা করতে হবে। আদর্শিক রাজনীতি(মুজিববাদ), বুদ্ধিবৃত্তিক,তথ্যপ্রযুক্তি, সাংগঠনিক কাঠামো এবং কর্মকাণ্ডে দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্যে কর্মীদের নিয়ে নিয়মিত কর্মশালা কিংবা আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে। সংগঠনের প্রত্যেক ইউনিটের আওতায় সমৃদ্ধ লাইব্রেরী তৈরি করা উচিৎ বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের জন্য
দলে অভ্যন্তরীণ সমালোচনার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। কারণ অভ্যন্তরীণ সমালোচনার মাধ্যমে ভুল শোধরানো যায়,ভুল কাটিয়ে ওঠার প্রবণতা সৃষ্টি হবে। তাই সংগঠনের মঙ্গলের জন্য হলেও অভ্যন্তরীণ সমালোচনার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
যোগ্যতা অনুযায়ী পদ পদবী বন্টন করতে হবে।যেমনঃ কেউ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞ ,তাকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক পদবী দিতে হবে, যে তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষ তাকে তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক পদবী দিতে হবে। ছাত্র রাজনীতিতে যোগ্যতা অনুযায়ী পদবী বণ্টনের ধারা সৃষ্টি হলে কর্মীরা নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে আগ্রহী হবে। ফলে কর্ম জীবনে প্রবেশের জন্য দক্ষতা সৃষ্টি হবে ,অনেকের বেকারত্ব ঘুচাতে সহায়ক হবে।অস্বচ্ছল কর্মী কিংবা শিক্ষার্থীদের ছাত্র রাজনীতি করার পাশাপাশি চাকুরী করতে,আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উদ্ধুব্ধ করতে হবে ,এজন্য গঠনতন্ত্র সংস্কার করে ছাত্র সংগঠনগুলোর আধুনিকায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।

কর্মীদের জন্য কল্যাণ ফান্ড –

সংগঠনের কর্মীরা প্রায় বিপদে পড়ে কিংবা তাদের পিতা মাতা বা পরিবারের সদস্যরা সড়ক দুর্ঘটনা বা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় ,অনেকের পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য থাকেনা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য ।কর্মীদের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যদি পাশে দাঁড়ানোর ব্যাবস্থা করা যায় তাহলে কর্মীদের সংগঠনের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং নিবেদন বাড়বে। কর্মীদের মধ্যে যারা পড়াশোনায় ভাল ফলাফল করবে তাদের জন্য উৎসাহমূলক বৃত্তির ব্যবস্থা করা যেতে পারে ।কর্মীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা সম্পর্কিত বৃত্তি পেতে সাহায্য করে যুগের সাথে তাল মেলাতে সহয়তা করা উচিৎ।


একবিংশ শতাব্দীতে উন্নত বিশ্বের ছাত্র রাজনীতির ধারা অনুসরণ করতে হবে আমাদের দেশের রাজনৈতিক আবহ অনুযায়ী। অবাধ তথ্য প্রবাহের এই যুগে ‘ ইনফরমেশন ওয়ার’ তথা তথ্য যুদ্ধে আমাদের জয়ী হতে হলে আমাদের পিছিয়ে থাকলে চলবেনা। উচ্চবিত্ত,মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত সকল কর্মীকে ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় রাখার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। বৈষম্যহীন ছাত্র রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত কর্মীদের যুগের সাথে তাল মেলাতে হবে, না হয় চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ময়দান থেকে আমরা ছিটকে পড়বো এবং পরবর্তীতে ছাত্র রাজনীতি দেশের উপর এক বিশাল বেকারত্বের বোঝা চাপিয়ে দিবে। ভবিষ্যত দুরাবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য আমাদের এখনই আমাদের ছাত্র রাজনীতির ধারা আশু পরিবর্তন এবং সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। কারণ আজকের ছাত্রনেতা আগামীর জননেতা ,এরা যদি ছাত্রজীবন থেকে আদর্শিক,স্বনির্ভর না হয় তাহলে ভবিষ্যতে দেশ ও জাতি ভুগবে।