বঙ্গবন্ধু+বঙ্গতাজ = বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে ফিরে আসার পর মুক্তিযুদ্ধকালীন তাজউদ্দিন আহমেদের গণসংযোগ কর্মকর্তা আলি তারেক তাজউদ্দিন আহমেদ কে জিজ্ঞাসা করেন
“আপনি কাকে বেশি ভালবাসেন, বঙ্গবন্ধুকে,নাকি বাংলাদেশকে?”
তাজউদ্দিন দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে জবাব দিলেন, “আলি তারেক, আমি বঙ্গবন্ধুকে বেশি ভালবাসি।”

বঙ্গবন্ধুর ছায়া হয়ে থাকতে পছন্দ করতেন তাজউদ্দীন



সারা জীবন বঙ্গতাজ বঙ্গবন্ধুর প্রতি আস্থা , বিশ্বাস ,অনুগত্য ও ভালোবাসা প্রমাণ দিয়ে গেছেন ,এমনকি জীবন দিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসার স্বাক্ষর রেখে গিয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য আমেরিকা পাকিস্তানের হয়ে মোশতাক গ্যাং ( মাহবুব আলম চাষী,তাহের ঠাকুর, মওদুদ আহমেদ) এই প্রচার চালিয়েছিল যে ‘স্বাধীনতা চাও না মুজিবকে চাও। যদি স্বাধীনতা পেতে হয়, তাহলে মুজিবকে পাবে না। আর মুজিবকে পেতে হলে স্বাধীনতা সংগ্রামকে বিসর্জন দিতে হবে।’ কিন্তু তাজউদ্দিন সেদিন প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসে বলেছিলেন আমি বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ দুটোই চাই,এবং সেটা ৯ মাসের মধ্যে সম্ভব করেছিলেন তিনি সকল ষড়যন্ত্র পাশ কাটিয়ে।

জনতার বঙ্গতাজ



৬ ডিসেম্বর ভারত যেদিন বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্ররূপে স্বীকৃতি দিল, দেশ–বিদেশের সাংবাদিকেরা তাঁর মনোভাব জানার জন্য তাঁকে যখন ঘিরে ধরেছেন, তিনি আবেগ আপ্লুত হয়ে অশ্রুসজল কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘আমার কাছে আপনারা এসেছেন আমার অনুভূতি জানার জন্য? যে শিশুর জন্মগ্রহণ হলো, সেই শিশুর খবর আমি তাঁর পিতার কাছে পৌঁছাতে পারিনি। আমি ধাত্রীর কাজ করেছি’

যখন জাসদ প্রতিষ্ঠিত হয় সে সময় তাজউদ্দিন আওয়ামীলীগে দক্ষিণপন্থী মোশতাক গ্যাং এর প্রভাবে অপাংক্তেয় হয়ে পড়েছিলেন। তখন জাসদের নেতা সিরাজুল আলম খান,অ.স.ম আবদুর রব তাজউদ্দিনকে জাসদে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানায়। কিন্তু তাজউদ্দীন আহমেদ তাদের সে হঠকারী প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন ” আমি বঙ্গবন্ধুর বাইরে কখনো যেতে পারবোনা,তোমরা যেতে পারো”।

তোফায়েল আহমেদের ভাষায় “
বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গতাজ একে অপরের পরিপূরক ছিলেন,একে অপরকে খুব ভাল বুঝতেন”

বঙ্গবন্ধুর নির্ভরতার বাতিঘর ছিলেন বঙ্গতাজ



এভাবে আমৃত্যু একনিষ্ঠভাবে বঙ্গবন্ধুর নীতি অনুসরণ করে গেছেন বঙ্গতাজ….

মোশতাকের চক্রান্তে বঙ্গতাজ দূরে সরে যাওয়ার কারণে ঘাতকদের ৭৫ এর পটভূমি তৈরি করতে সুবিধে হয়। প্রকারান্তে বঙ্গবন্ধু আর বঙ্গতাজের বিচ্ছেদের মাধ্যমে দীর্ঘকাল জন্য মূলধারা থেকে বাংলাদেশের বিচ্ছেদ রচিত হয়।

তাজউদ্দিনের কোলে সোহেল তাজ



আজকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার অন্যতম নায়কের জন্মদিবস ,কিন্তু তাকে যে ধরণের মূল্যায়ন করা উচিৎ আমরা আদৌ করতে পেরেছি?

তাজউদ্দীন নিজে হয়ত তাই চেয়েছিলেন,তাই তো মুক্তিযুদ্ধের সময় বলেছিলেন” আমি দেশের জন্য এমনভাবে কাজ করবো যাতে দেশের ইতিহাস লেখার সময় সবাই এদেশটাকে খুঁজে পায়,কিন্তু আমাকে হারিয়ে ফেলে।

ইতিহাসের আলোকচ্ছটা না পেয়ে নিভৃতচারী তাজউদ্দীনের
বরং সুবিধা হয়েছে। মুজিববর্ষে কতিপয় অপশক্তির দ্বারা বঙ্গবন্ধু যেভাবে অবমাননার শিকার হচ্ছেন তাজউদ্দিন অন্তত সেটা থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তাজউদ্দীন বোধহয় বুঝেছিলেন বাঙালি ভাল মানুষের মূল্যায়ন করেনা ,তাই নিজে আড়ালে চলে গিয়েছিলেন।