বঙ্গতাজ বঙ্গবন্ধুর খুবই গুরুত্বপূর্ণ সত্ত্বা

তাজউদ্দিন আমৃত্যু বঙ্গবন্ধুর বাইরে যাওয়ার কথা যেখানে চিন্তা করেননি সেখানে আপনারা কোথেকে আসছেন তাজউদ্দিন আর বঙ্গবন্ধুকে আলাদা সত্ত্বা হিসেবে উপস্থাপন করতে! অপরাজনীতি করতে করতে মানুষ যে কত নিচে নামতে পারে।

তাজউদ্দীন আহমদ জীবিত অবস্থায় সব সময়
বলতেন স্বাধীন বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর সৃষ্টি, বঙ্গবন্ধুর সাথে নূন্যতম কারো তুলনা হতে দিতেন না! আমৃত্যু বঙ্গতাজ
বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করেছেন।

শাবক ছানারা বঙ্গবন্ধুকে খাটো করতে একসময় ঘাতক জিয়াকে বাংলাদেশের জনগণকে গেলানোর চেষ্টা করেছে , গো আজম সহ রাজাকারদের গেলানোর চেষ্টা করেছে।কিন্তু সে অপচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় পাকি প্রজাতি তাজউদ্দিনকে নিয়ে এখন আরেক অপচেষ্টায় লিপ্ত! তাদের একটাই উদ্দেশ্য বঙ্গবন্ধুকে ছোট করা! এজন্য তারা সুচুতুরভাবে কাউকে না কাউকে বঙ্গবন্ধুর সাথে তুলনা করবেই! আফসোস এরা অনেকে ক্ষমতার খুব কাছে আছে রাজাকারের উত্তরসূরী হয়েও!

মুজিব ভাইর তাজ মুকুট



বঙ্গতাজ ছিলেন বঙ্গবন্ধুর পরম নির্ভরতার প্রতীক।তাজউদ্দীন সমন্ধে বঙ্গবন্ধু এতই উচ্চ ধারণা পোষণ করতেন।

সেটা গাফফার চৌধুরীর ভাষ্য থেকে জানা যায় –

“আমরা সাংবাদিকরা ছুটলাম শেখ সাহেবের ধানমণ্ডির বাসায়। শেখ বাইরে ইজি চেয়ারে বসে পাইপ টানছিলেন। আমাদের দেখে মৃদু হাসলেন। উত্তেজনায় তখন আমাদের রয়ে সয়ে কথা বলার সময় নেই। সরাসরি প্রশ্ন করলাম : মুজিব ভাই, আপনি কি ভূট্টোর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করবেন? বঙ্গবন্ধুর পাশে তাজুদ্দিনসহ আরাে কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা বসা ছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাদের দিকে তাকিয়ে আবার হাসলেন। বললেন : আমার প্রশ্নের জবাব দেবে তাজুদ্দিন”

বঙ্গবন্ধুকে বিতর্কিত করতে বামাতি মতি মিয়া ও তাজউদ্দীন আহমদকে প্রচ্ছন্ন টোপ দিয়েছিল, সেই টোপ বঙ্গবন্ধু বরং তো গিলেননি উল্টো প্রচন্ড রেগে গিয়েছিলেন ।

”আমি কথায় কথায় বলেই ফেললাম, বঙ্গবন্ধুর অবদানের চেয়ে আপনার অবদান তাে কম নয়!’আমার এই কথা শুনে তাজউদ্দীন সাহেব আমার উপর অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন। বললেন, ‘এ কথা কখনও বলবেন না। বঙ্গবন্ধুর অবদান আমার চেয়ে অনেক বেশি। এ কথা বলতে পারি, শেষ পর্যন্ত আমিই বঙ্গবন্ধুর সাথে থাকব। বর্তমানে সাময়িক এক বিভ্রান্তি হতে পারে, কিন্তু এটা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, বঙ্গবন্ধু না হলে এ দেশটা স্বাধীন হত না। আমরা এই স্বাধীনতার কাজে সহযােগিতা করেছি। বঙ্গবন্ধুর অবদান আর আমার অবদানের তুলনা করাটা আপনার ঠিক নয়, মতিউর রহমান।’

অথচ এই মতি মিয়া মুক্তিযুদ্ধের সময় ২৫ বছর হওয়া সত্ত্বেও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি। ছাত্র অবস্থায়
ছয় দফার বিরোধিতা, মুক্তিযুদ্ধের সময় নীরব থাকা কিংবা সুযোগ সন্ধানী বামাতী মতি মিয়ারা বারবার বঙ্গবন্ধুকে বিতর্কিত করতে চেয়েছে ,কিন্তু সে অপচেষ্টায় সফল হতে পারেনি

বঙ্গবন্ধুর পরম নির্ভরতার বাতিঘর ছিলেন বঙ্গতাজ


বঙ্গতাজ আমীর-উল ইসলামকে প্রয়ই একথা বলতেন যে, ‘দেশকে আমি ভালবাসি, দেশকে ভালবাসতে গিয়েই বঙ্গবন্ধুকে ভালবেসেছি এবং দেখেছি যে, দেশের এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে বঙ্গবন্ধুর মত একজন নেতা দরকার।’

আমৃত্যু বঙ্গবন্ধুপন্থী ছিলেন বঙ্গতাজ



বঙ্গবন্ধু সর্বদা তাজউদ্দীনের নেতা ছিলেন , কারণ সেই ১৯৪৯ থেকে তাজউদ্দীনকে নিজ হাতে গড়ে তুলেছেন,নিজ হাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বানিয়েছেন,সবার চাইতে গুরুত্ব দিতেন।এমনকি মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার দায়ভার ও তাজ উদ্দিনকে দিয়েছিলেন। একমাত্র মুজিব ভাই ছিলেন তাজউদ্দিনের নেতা,অন্য কেউ না।

বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধের আগে উত্তাল সময়ে শেখ ফজলুল হক মণি,সিরাজুল আলম খান,আবদুর রাজ্জাক,তোফায়েল আহম্মেদ কে ডেকে বলেন “আমি যদি না থাকি তোমরা এ লোকটির (তাজউদ্দীন) কথা শুনবে”…
বঙ্গবন্ধু নিজের অবর্তমানে তাজউদ্দীনকে বিশ্বাস করতেন ,আর তাজউদ্দীন ও বঙ্গবন্ধুর উপরে রাখতেন অগাধ বিশ্বাস!
তাইতো বঙ্গতাজ আলী তারেকের “আপনি কাকে বেশি ভালবাসেন, বঙ্গবন্ধুকে,নাকি বাংলাদেশকে?” প্রশ্নের জবাব তাজউদ্দিন দিলেন, “আলি তারেক, আমি বঙ্গবন্ধুকে বেশি ভালবাসি”

যারা তাজউদ্দীন কে বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে চান ,তারা বোধহয় জানেন না তাজউদ্দীন আহমদের
আস্থা বিশ্বাস নীতির প্রতীক ছিলেন একমাত্র বঙ্গবন্ধু!

১৯৭৪ সালে তাজউদ্দিন আহমেদ যখন মন্ত্রিসভা থেকে সরে যান তখন বঙ্গবন্ধু তার ঘনিষ্ঠ সহচর আরহাম সিদ্দিকীকে বলেন

“এটা তাে অল্প, কয়দিনের ব্যাপার, আমি অন্যভাবে চিন্তা করছি।“ একদিন বঙ্গবন্ধু আমাকে বললেন যে, তাজউদ্দীনকে আমি আমার প্রধান উপদেষ্টা বানাব এবং ওর মর্যাদা কোন অংশেই প্রধানমন্ত্রীর চাইতে কম হবে না”

কোন প্রকার ষড়যন্ত্রে কান না দিয়ে বঙ্গবন্ধুর তাজউদ্দীনের উপর ছিল অগাধ বিশ্বাস।তাইতো বঙ্গবন্ধু তাজউদ্দীনের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের কদিন পর বাসায় ডেকে পরিস্থিতি বুঝিয়ে বললেন আমেরিকা তোকে চায় না,দেশে দুর্ভিক্ষ থামাতে হলেও আমেরিকার খাদ্য সাহায্য দরকার।পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাজউদ্দিন আহমদ ও কী করণীয় বুঝেছিলেন। কারণ তাজউদ্দীনের ছিল বঙ্গবন্ধুতে অগাধ বিশ্বাস।



তাজউদ্দীন আহমেদকে জাসদের নেতারা জাসদে যোগ দেবার আমন্ত্রণ জানালে সে হঠকারী প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন ” আমি বঙ্গবন্ধুর বাইরে কখনো যেতে পারবোনা”,তোমরা যেতে পারো।

তোফায়েল আহমেদের ভাষায় “
বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গতাজ একে অপরের পরিপূরক ছিলেন,একে অপরকে খুব ভাল বুঝতেন”।

বঙ্গবন্ধুতে অগাধ বিশ্বাসের মূল্য তাকে সহ জাতীয় চার নেতাকে দিতে হয়েছে পৈশাচিক জেল হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে।

বঙ্গবন্ধুর একটা বৈশিষ্ট্য ছিল যেটা বঙ্গবন্ধুকে অবিসংবাদিত নেতা করেছে সেটা হল।বঙ্গবন্ধু সবার কথা শুনতেন কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতেন নিজে! জাতীয় চার নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর স্তম্ভ। আর তাজ উদ্দিন ছিলেন মেইন থিংক ট্যাঙ্ক,প্রধান সেনাপতি,প্রধান সহচর ছিলেন বঙ্গবন্ধুর।

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এবং জাতীয় চার নেতার সুযোগ্য ব্যাবস্থাপনায় আমরা একটা স্বাধীন দেশ। জাতীয় চার নেতার মধ্যে বাংলাদেশের সৃষ্টিতে তাজউদ্দিনের ভূমিকা অনেক বেশি এটা যেমন অস্বীকার করার উপায় নেই যেমনি তেমনি বাকী তিন নেতার ভূমিকাও কম সেটাও এড়িয়ে যাওয়া যাবেনা!

স্বাধীনতা বিরোধীরা এবং অপশক্তি বঙ্গবন্ধুর সাথে তাজউদ্দিনকে তুলনা করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু ও তাজউদ্দিনকে বিতর্কিত করে ফেলে প্রকারান্তে!
অথচ এদের অনেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের দালালী করেছে ,স্বাধীনতার পর রাজাকারদের মুক্তিযোদ্ধা রূপে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছে, জিয়ার আমলে পাওয়া সুযোগ সুবিধার উপর ভর করে জিয়াকে জাতির নায়ক বানাতে চেয়েছে।এদের সবার উদ্দেশ্য এক বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করা।না এদের কোন চেষ্টাই সফল হতে পারেনি।



বঙ্গবন্ধু যদি বাংলাদেশের সূর্য হোন, বঙ্গতাজ বাংলাদেশের চাঁদ! বঙ্গতাজ বঙ্গবন্ধুর আলোয় উদ্ভাসিত। বঙ্গবন্ধুর আলো ব্যতীত তাজউদ্দিন যেমন আলোহীন,তাজউদ্দিন তথা জাতীয় চার নেতা ছাড়া বঙ্গবন্ধু অপূর্ণ!বঙ্গবন্ধু থেকে জাতীয় চার নেতাকে আলাদা করার কোন সুযোগ নেই। বঙ্গবন্ধু তথা জাতীয় চার নেতা এক সত্ত্বা।কিন্তু আলাদা করার অপচেষ্টা এখনো চলছে , কারণ বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করতে পারলে তাদের উদ্দেশ্য সফল। এজন্যই রাজাকারদের বংশধররা রাষ্ট্র যন্ত্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়েছে!