সূর্যের দিন উপন্যাসে হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধ কথন

তারিক বাপ্পী 👤


সূর্যের দিন।
-হুমায়ূন আহমেদ।

প্রকাশনীঃ জ্ঞানকোষ ।
প্রকাশ কালঃ ১৯৮৬ সাল।
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৮৪।
মূল্যঃ ৪০ টাকা।
নিজস্ব রেটিংঃ ৭/১০ ।
এটি একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

খোকনের বয়স তেরো বছর তিন
মাস।শুধুমাত্র এই বয়সটার কারনেই সে পদে পদে নানান রকম যন্ত্রণার স্বীকার হচ্ছে। যন্ত্রণাগুলো মূলত সৃষ্টি করছে খোকনের বড় চাচা। ভারি ভ্যাজাইল্যা একজন মানুষ তিনি।খোকনদের এই বাড়িতে শুধু তার হুকুমই চলে। তার কথার উপর কেউ টু শব্দটা পর্যন্ত করার সাহস পায়না! কি করে লোকটা ? তার এই একচেটিয়া আধিপত্যের কারটাই বা কি ? আর কেনই বা সবাই তার উপর এতো বিরক্ত ?

শত যন্ত্রণার মধ্যেও খোকনের জন্য আশার খবর হচ্ছে শীঘ্রই তার ছোটো চাচা আসছে আমেরিকা থেকে। খবরটা শুনে খোকন আনন্দে প্রায় স্ট্রোক করে ফেলছিল।কিন্তু কথা হচ্ছে ছোটো চাচার আসার সাথে খোকনের এতো আনন্দিত হওয়ার কি সম্পর্ক?

খোকন তার বন্ধু সাজ্জাদ,টুনু সহ স্কুলের মোট পাঁচ জন বন্ধু নিয়ে “ভয়াল ছয়” নামের একটা গ্রুপ তৈরি করেছে।ক্লাসের ফার্স্ট বয় মুনির কে সবাই অপছন্দ করে।কেন করে এ এক রহস্য। অথচ সেই মুনিরই এখন খুব ঘ্যাসাঘেসি করছে তাদের এই গ্রুপে জয়েন করার জন্য ,কিন্তু গ্রুপ মিটিং ছাড়া তো আর তাকে দলে নেয়া যায়না।দেশের যা পরিস্থিতি তাতে মিটিংটা হবে কিভাবে কিংবা আদৌ হবে কিনা তারই বা নিশ্চয়তা কি? নানা কারনে এই গ্রুপটা গুরুত্বপূর্ন, কিন্তু কারনগুলো কি কি ?

একদিকে খোকনের ছোট চাচার দেশে ফেরা,বিমান বন্দরে জীবন মরন সমস্যা,খোকনের মায়ের মৃত্যু, খোকনের বাপ চাচাদের তর্ক যুদ্ধ, যুদ্ধে বড়চাচার নিরঙ্কুশ পরাজয় আর অন্যদিকে সাজ্জাদের জীবনে একের পর এক ঝড় ,নীলু আর দাদুমনির দেখা , হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষের আহাজারি ! সব মিলিয়ে কোথাকার গল্প কোথায় গিয়ে গড়ায় কিছুই বলা যাচ্ছে না !

মতামতঃ বইটা খুব এলোমেলো পরিস্থিতিতে পড়েছি।মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক যেকোনো গল্প আমি মনোযোগ দিয়ে পড়ি।খুব ভালোলাগে।ওই সময়ের দুই তিন শ্রেণীর মানুষের অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে লেখক মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের অনেক কিছুই তুলে এনেছেন এই গল্পে।

পুনশ্চঃ গল্পের শেষটায় লেখক একটা বড় ধরনের চমক রেখেছেন। চমকটা কি , তা জানতে হলে বইটা আপনাকে পড়তে হবে।