সীমান্তে হত্যা কমলেও শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা উচিত


বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে বিচারবহির্ভূত  হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত বর্বরোচিত। প্রতিনিয়ত অসংখ্য নিরীহ মানুষ সীমান্তবর্তী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় বিএসএফ কর্তৃক।ভারত বাংলাদেশের আন্তজার্তিক রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় মিত্র হওয়া সত্ত্বেও সীমান্ত পাখির মতো বাংলাদেশী হত্যাকাণ্ড সবচেয়ে বিস্ময় জাগানিয়া।ভারতের আগ্রাসী কূটনীতি বা পররাষ্ট্র নীতি যেমন দায়ী অসংখ্য বাংলাদেশী হত্যার পেছনে তেমনি আমাদের দেশের সরকারের কূটনৈতিক ব্যার্থতা ও দায়ী। পৃথিবীর অন্য কোন সীমান্তে এত হত্যাকাণ্ড দেখা যায় না যা বাংলাদেশ- ভারত সীমান্তে করে থাকে ভারত সরকার।

আসুন দেখে নেই সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশী হত্যাকাণ্ড বিভিন্ন সরকারের আমলে….

সীমান্তে হত্যা আওয়ামী লীগ সরকারের আমল

বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশী হত্যা (১৯৯৬-২০০০)

১৯৯৬ সালে  ১৩ জন
১৯৯৭ সালে  ১১ জন
১৯৯৮ সালে ২৩ জন
১৯৯৯ সালে  ৩৩ জন
২০০০ সালে  ৩৯ জন

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে সীমান্তে ৫  বছরে ১১৯ জন হত্যার শিকার হয় বিএসএফ কর্তৃক।

সীমান্তে হত্যা বিএনপি জামাত জোটের আমল

বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশী হত্যা (২০০১-২০০৬)

২০০১ সালে ৯৪ জন
২০০২ সালে ১০৫ জন
২০০৩ সালে ৪৩ জন
২০০৫ সালে ১০৪ জন
২০০৬ সালে ১৪৬ জন

বাংলাদেশের সীমান্তে ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত ৪৯২ জন হত্যার শিকার হয় বিএসএফ কর্তৃক।

বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি কে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হচ্ছে

সীমান্তে হত্যা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল

বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশী হত্যা (২০০৭-২০০৯)

২০০৭ সালে ১২০ জন
২০০৮ সালে ৬২ জন
২০০৯ সালে ৯৬ জন

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ২.৫ বছরে ২৭৮ জন বাংলাদেশি হত্যার শিকার হয় বিএসএফ কর্তৃক।

সীমান্তে হত্যা আওয়ামীলীগ সরকারের আমল

বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশী হত্যা (২০০৯-২০২০)

২০১০ সালে  ৭৪ জন নিহত
২০১১ সালে  ৩১ জন
২০১২ সালে  ৩৮ জন
২০১৩ সালে  ২৯ জন
২০১৪ সালে ৩৩ জন
২০১৫ সালে  ৪৫ জন
২০১৬ সালে ২৫ জন
২০১৭ সালে ১৭ জন
২০১৮ সালে ১৪ জন
২০১৯ সালে  ৪৩ জন
২০২০ সালে প্রথম ছয় মাসে ২৫ জন।

আওয়ামী লীগের আমলে গত ১২ বছরে ৩৭৪ জন বাংলাদেশি হত্যার শিকার হয় বিএসএফ কর্তৃক।

আওয়ামী লীগের সর্বমোট ১৭ বছরের আমলে সীমান্তে মোট হত্যার শিকার বাঙালি ৪৯৩ জন!

অন্যদিকে বিএনপির  আমলে ৫ বছরে বিএসএফ কর্তৃক  ৪৯২ জন বাংলাদেশি হত্যার শিকার হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২.৫ বছরে ২৭৮ জন হত্যার শিকার হয় সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক।

অর্থাৎ বিএনপি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ৭.৫ বছরের আমলে সীমান্তে প্রাণ হারায় প্রায় ৭৭০ জন বাংলাদেশি   অন্যদিকে আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের আমলে ৪৯৩ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারায় সীমান্তে।গত ১২ বছরে সীমান্তে বিএসএফের হত্যা অনেকাংশে কমে এসেছে অন্য যেকোন সময়ের তুলনায়।

উপরোক্ত পরিসংখ্যান কোন সরকারি পরিসংখ্যান না,এটি আইন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এর ডাটাবেজ থেকে নেওয়া।

সীমান্তে চোরাচালান ও বাংলাদেশ থেকে তথাকথিত অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর(বিএসএফ) বিতর্কিত শ্যূট-অন-সাইট (দেখামাত্র গুলি) নীতি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বহাল আছে, যার প্রেক্ষিতে বিএসএফ কারণে কিংবা অকারণে বাংলাদেশি নাগরিককে গুলি করতে পারে। আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে যাওয়া, হাট-বাজারে বেচাকেনা করা, এবং কাজ খোঁজার জন্য অনেক মানুষ নিয়মিতভাবে সীমান্ত পারাপার করে। এছাড়াও সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে কৃষিজমিতে কৃষিকাজ কিংবা নদীতটে মৎস্য আহরণের জন্যও অনেক মানুষকে সীমান্তপথ অতিক্রম করতে হয়। এর মধ্যে অনেকে  বিভিন্ন ছোটখাটো এবং গুরুতর আন্তঃসীমান্ত অপরাধে জড়িত। অবৈধ  মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানকারী চক্রের সদস্যরা ঠিকই বেঁচে যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে  নিরীহ জনগোষ্ঠী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।

বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে নির্বিচারে পাখির মত মানুষ হত্যার প্রতিবাদ করা হলেও সীমান্তে হত্যা এখনো কমেনি বরং গত দুই বছরে আরো বেড়েছে।
এটা ঠিক যে আওয়ামীলীগের আমলে বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে হত্যা অন্যান্য সরকারের চাইতে অনেক কম থাকে।কিন্তু সীমান্তে  নির্বিচারে মানুষ হত্যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য না। ভয়ঙ্কর অপরাধী যেমন ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার আছে তেমনি সাধারন মানুষের সীমান্তে নিরপত্তা নিশ্চিত করা  প্রধান কাজ সরকারের।

সীমান্তে সতর্ক দৃষ্টিতে বিএসএফ

সীমান্তে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে বাংলাদেশ সরকারের আরো উদ্যোগী হওয়া প্ৰয়োজন।বর্তমানে সীমান্তে একজন ব্যক্তিও নির্বিচারে  হত্যার শিকার হলে সেটা কূটনৈতিক ব্যার্থতার ফল।তবে এটা ঠিক আওয়ামীলীগ সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে বলেই বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে হত্যার হার অনেকাংশে কমে এসেছে গত ১২ বছরে,কিন্তু প্রচেষ্টা আরো জোরদার করা দরকার নির্বিচারে হত্যা বন্ধ করার জন্য । সরকারের সীমান্তে হত্যা শূন্যের কোঠায়  নিয়ে আসতে  উদ্যমী হতে হবে, প্ৰয়োজনে হতে হবে কঠোর।ভারত আন্তজার্তিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মিত্র, সবচেয়ে বড় মিত্রের কাছ থেকে এ ধরণের বর্বর আচরণ অগ্রহণযোগ্য।কারণ পৃথিবীর অন্য কোন দেশের সীমান্তে নির্বিচারে এ ধরণের বর্বরোচিত  হত্যাকান্ড সংঘটিত হয় না।