পর্দার অন্তরালের বঙ্গতাজ

একজন তাজউদ্দীন… বঙ্গবন্ধুর পরে বাংলাদেশ সৃষ্টিতে যার অবদান সবচেয়ে বেশি..যদি প্রশ্ন করি বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে সবচেয়ে বেশি আড়ালে থাকা নাম কী??
উত্তরঃতাজউদ্দীন আহমদ ।

এক ক্ষুরধার নিভৃতচারী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব..যার ব্যাক্তিত্বের কাছে এভারেস্টের চূড়া় ও হার মেনেছিল বারবার…যার সততা,মেধা,কর্মদক্ষতা,প্রজ্ঞা, উপস্থিত বুদ্ধিতে ভয় পেত যেমন স্বৈরাচরী সামরিক শাসকরা তেমনি তার পলিসির কাছে হার মানত হেনরি কিসিঞ্জারের মত বাঘা বাঘা নেতারা … হয়তো মনে হবে বেশি বলে ফেলছি…কিন্তু তাজউদ্দীনের কীর্তি ও ইতিহাসের পাতা আপনাকে স্বীকার করতে বাধ্য করবে তাজউদ্দীন আহমদ ইতিহাসের পাতায় অন্তরিত, নির্লিপ্ত লুকায়িত এক ব্যাক্তিত্ব ,আপনি যতই জানবেন ততই আরো জানতে চাইবেন এ অবিশ্বাস্য মানুষ সমন্ধে..কিন্তু চাইলেও জানতে পারবেন না তেমন কিছু । কারণ তিনি যাবতীয় আলোর ঝলকানি থেকে নিজেকে দূরে রাখতেন। তাজউদ্দীন আহমদ কে বাংলাদেশের জন্য পরশপাথর বললেও অত্যুক্তি হবেনা, বঙ্গবন্ধুর অনুপুস্থিতিতে যার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব ও বুদ্ধিদীপ্ত কৌশলে আমরা মাত্র নয় মাসে এই স্বাধীনতা পেয়ে যাই…যেখানে পৃথিবীর অন্যান্য জাতির সশস্ত্র সংগ্রামের ইতিহাস কয়েক দশকের সেখানে আমরা কয়েক মাসের স্বাধীনতা পেয়ে যাই…


বঙ্গবন্ধুকে অবিসংবাদিত নেতা হওয়ার দুর্গম যাত্রায় যেমন ফজিলাতুন্নছা মুজিবের যেমন অসামান্য ভূমিকা ছিল তাজউদ্দিন এবং জাতীয় চার নেতার ভূমিকাও কম ছিল না…তাজউদ্দীন ছিলেন বলেই বঙ্গবন্ধু আকাশসম উচ্চতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন…আমাদের প্রজন্ম তাজউদ্দীন আহমেদ সমন্ধে তেমন কিছু জানেনা…আমাদের অনেকেই অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধা সম্মন্ধে যা জানি তাজউদ্দীন সমন্ধে তার সিকিভাগ ও জানিনা… তাই ইতিহাসের পাতা থেকে তাজউদ্দীন আহমদকে তুলে আনার জন্যই ক্ষুদ্র প্রয়াস…

মেধাবী ছাত্র


তাজউদ্দীন অল্প বয়সে কুরআন শরীফের ১১ পারা মুখস্ত করে ফেলেন…এরপর তার অসামান্য মেধা দেখে তার শিক্ষকরা তাকে স্কুলে ভর্তি হতে বলেন… তিনি সব সময় স্কুলে প্রথম স্থান অধিকার করতেন।ষষ্ঠ শ্রেণীতে থাকাকালীন ঢাকা বোর্ডে বৃত্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। মেট্রিক পরীক্ষার সময় তিনি তার বংশের আভিজাত্য বাদ দেন,নাম থেকে খান অংশ কেটে ফেলেন।মাধ্যমিক পরীক্ষায় কলকাতা বোর্ডে ১২ তম স্থান অধিকার করে সবাইকে চমকে দেন। ১৯৪২ সালে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে তিনি প্রগতিশীল ছাত্র হিসেবে অংশগ্রহন করেন,ফলে এক বছরের জন্য পড়াশোনা বর্জন করেন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে।এরপর তিনি ইন্টারমিডিয়েট এ ঢাকা কলেজে ভর্তি হন ১৯৪৩ সালে।ঢাকা কলেজে ভর্তি হয়ে তিনি ফুলটাইম রাজনৈতিক কর্মী হয়ে উঠেন।১৯৪৪ সালে মুসলিম লীগের সম্মেলন ,কৃষ্ণনগরে ছাত্রলীগের সম্মেলন,১৯৪৬ সালের সালের নির্বাচন, ১৯৪৬ সালে দাঙ্গা প্রতিরোধে, ৪৭এর দেশভাগ ,প্রায় সকল আন্দোলনে তিনি সক্রিয় কর্মী হিসেবে অংশগ্রহণ করতেন। রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে ইন্টার পাশ করতেই ১৯৪৮ সাল লেগে যায়।অনিয়মিত ছাত্র হিসেবে ইন্টার পরীক্ষায় তিনি চমকপ্রদ রেজাল্ট করে পুরো ঢাকা বোর্ডে চতুর্থ হয়ে তিনি সবাইকে চমকে দেন।এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন। তিনি ফজলুল হক মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।


মানবিক কাজ


তেতাল্লিশ সালের দুর্ভিক্ষ তার অন্তরে গভীর রেখাপাত করে গিয়েছিল। তিনি দুর্ভিক্ষের কারণে মানুষের অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে পারেন নি, তাইতো তিনি গ্রামের যুবকদের একত্রিত করে কাছ থেকে চাল এবং অন্যান্য শুকনা খাবার সংগ্রহ করে ধর্মগোলা গঠন করে সেখান থেকে গরিবদের খাবার দান করতেন।তাজউদ্দিনের একটি বড় গুণ ছিল মানুষের সেবা করা,তার গ্রামে এক মহিলা ছিল যার দুপায়ে ঘা ছিল যার সাথে কেউ মিশতো না।তাজউদ্দিন নিজ হাতে সেবা শুশ্রুষা করে ঘা দূর করে মহিলাটিকে সুস্থ করে তোলেন। তিনি বসন্ত রোগে আক্রান্তদের নিজ হাতে সেবা করতেন।তিনি কাপাসিয়া বন বিভাগের কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে দুর্নীতি বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
কথায় আছে সকালের সূর্যের আলো পূর্বাভাস দিয়ে দেয় সারাদিন কি রকম যাবে।”ঠিক তেমনি তাজউদ্দিনের ছোটবেলায় মানবিক কাজ ত ভবিষ্যতের বঙ্গতাজ হওয়ার আভাস দিচ্ছিলো।


রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড


ইতিহাস থেকে নিজেকে গুটিয়ে রেখে আড়ালে থাকা তাজউদ্দিন আহমেদের স্বভাব ছিল। তার রাজনৈতিক জ্ঞান অর্জন শুরু হয় ১৯৩৭ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে ।কাপাসিয়া থানায় বন্দী স্বদেশী আন্দোলনের তিনজন বিপ্লবীর সাথে দেখা হয় এক রেল স্টেশনে। তিনি তাদের বিপ্লবী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হন তিনি। তাদের থেকে তিনি প্রায় ৫০-৬০ টি সমকালীন ইতিহাস নিয়ে বিভিন্ন বই পড়ে
রাজনীতির প্রাথমিক দীক্ষা লাভ করেন।এছাড়া বিপ্লবীরা তাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা,উত্থান-পতন ইত্যাদি নিয়ে তাজউদ্দিনকে অনেক উপদেশ দেন।
ঢাকা কলেজে পড়ার সময় তিনি ঢাকা উত্তর মহকুমা মুসলিম লীগের সদস্য হন। এরপর থেকে তিনি পুরোপরিভাবে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে যান।
মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি বঙ্গীয় মুসলিম লীগের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন ১৯৪৪ সালে। এ সময়ে তিনি কলকাতা গিয়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী,আবুল হাশিম,শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে পরিচিত হন।১৯৪৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ঢাকা জেলার দায়িত্ব পালন করেন, এ নির্বাচনে ঢাকা জেলার সব আসনে মুসলিম লীগ জয় লাভ করে । এ নির্বাচনে তাজউদ্দীন নিজেকে মুসলিম লীগের একনিষ্ঠ সক্রিয় কর্মী হিসেবে প্রমাণ করে দলের নীতিনর্ধারকদের কাছে নিজের কর্মদক্ষতা ও প্রয়োজনীয়তা জাহির করেন।১৯৪৬ সালে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা দমনে তিনি ঢাকায় বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে ও তিনি সক্রিয় কর্মী ছিলেন।পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার পর তিনি ভাষা আন্দোলন সহ বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন।তিনি ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন। তিনি ভাষা আন্দোলনের ও সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ১৯৪৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী দের অধিকার আদায়ের জন্যে ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন । ১৯৫০ সালে দাঙ্গা প্রতিরোধ ও ১৯৫১ সালে যুবলীগ গঠনে তিনি অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন।১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের তিনি অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন।২১ শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভাঙার জন্য তিনি অন্যতম অনুঘটক ছিলেন।১৯৫৪-৫৭ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন।১৯৫৪ সালে তাজউদ্দীন সাহেব যুক্তফ্রন্ট থেকে এমএলএ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন এবং বিপুল ব্যবধানে এমএলএ নির্বাচিত হন কাপাসিয়া থেকে।১৯৫৫ সালে তাজউদ্দীন আহমেদ আওয়ামীলীগ এর দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে আওয়ামীলীগকে অসাম্প্রদয়িক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্যে ছাত্র ও যুবসমাজকে একত্রিত করে জোর দাবি তোলেন।তার কর্ম তৎপরতায় মুগ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধু তাকে আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করেন।তাজউদ্দীন মেধা,সততা ও কর্মনিষ্ঠার কারণে তিনি মাত্র ৩০ বছর বয়সে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে সারা দেশে পরিচিতি পেয়ে যান।১৯৬২ সালে তিনি স্বৈরাচার আইয়ুব সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এবং কারারুদ্ধ হন।১৯৬৪ সালে তিনি আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত হন।এ সময়ে তিনি বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠতম রাজনৈতিক সহচর হয়ে যান এবং আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী বনে যান।১৯৬৬ সালে তিনি আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন।বঙ্গবন্ধু তাজউদ্দিনের পরামর্শে ৬ দফা উত্থাপিত করেন। তৎকালে আওয়ামীলীগের প্রবীণ নেতাদের ছয় দফার বিরোধিতা অগ্রাহ্য করে বঙ্গবন্ধু তাজউদ্দীনের পরামর্শ অনুযায়ী ৬ দফা উত্থাপিত করেন।১৯৬৬-৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি কারাগারে অন্তরীণ ছিলেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় ১৯৬৮ সালে তিনি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুনরায় নির্বাচিত হন ।১৯৬৯ সালে গণ অভ্যুত্থানের দরুনে পাকিস্তানী সমরিক শাসকেরা তাকে জেল থেকে মুক্তি দিতে বাধা হয়। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার ও বঙ্গবন্ধুকে জেল থেকে মুক্তির জন্যে তাজউদ্দীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।১৯৭০ সালে তিনি তিনি আবার আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হন।তাজউদ্দীন ঘুমাতেন কম ,রাতজেগে দলীয় বিবৃতি,কর্মসূচী,ও রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করতেন।বঙ্গবন্ধু অনেক দলীয় সিদ্ধান্ত তাজউদ্দীন আহমদের পরামর্শে গ্রহণ করতেন। তাজউদ্দীন নিজ দলে নির্ভরতার প্রতীক ছিলেন আর প্রতিপক্ষ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর কাছে ত্রাস ছিলেন প্রচন্ড বুদ্ধিমত্তার কারণে। তাজউদ্দীন সমন্ধে জুলফিকার আলী ভুট্টো একবার বলেছিলেন, ‘আমি তো শেখ মুজিবকে ভয় পাই না, আমি ভয় পাই তার পাশে বগলে ফাইল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ঐ খাটো মানুষটিকে।’ একবার বঙ্গবন্ধু তাজউদ্দিনের স্ত্রীকে বলেন “তুমি ওর দিকে খেয়াল রেখো,ওকে ছাড়া কিন্তু সব অচল”।তিনি ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ম্যানিফেস্টো প্রনয়নে,প্রার্থী নির্বাচনে,প্রধান ভূমিকা পালন করেন।বঙ্গবন্ধুর আওয়ামীলীগে তাজউদ্দীন আহমেদ এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ও পরম নির্ভরতার বাতিঘর ছিলেন।১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে করতে টালবানাহা শুরু করলে তাজউদ্দীন বঙ্গবন্ধুর পরামর্শে কেন্দ্রীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন।১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধু সিরাজুল আলম খান ও তাজউদ্দীনের পরামর্শক্রমে স্বাধীনতা ঘোষণা দিতে সম্মত হন। এ সময় তাজউদ্দীন ও সিরাজুল আলম খান স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পরিমার্জন করে দেন। ২৫ শে মার্চ রাতে তিনি বঙ্গবন্ধুর পরামর্শক্রমে আত্মগোপন করেন নিজের পরিবারকে অরক্ষিত অবস্থায় রেখে।২৭ শে মার্চ তিনি ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হোন…এরপরের গল্পটা তাজউদ্দীনের বঙ্গবন্ধুহীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনা মোতাবেক বাংলাদেশেদ সশস্ত্র সংগ্রামের নেতৃত্ব দেয়া… ২৮ মার্চ তিনি মেহেরপুর সীমান্ত দিয়ে ভারত যানআমির-উল ইসলাম সহ।সেখানে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়াপূর্বক তাদের ইন্দিরা গান্ধীর সাথে ৪ এপ্রিল যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দেন। ইন্দিরা গান্ধী তাজউদ্দীনের সাথে দেখা হওয়ার শুরুতেই প্রশ্ন করেন ” মুজিব কেমন আছে? সে ঠিক আছে?”


জবাবে তাজউদ্দীন বলেন “২৫ শে মার্চের পরে তার সাথে আমার কোন যোগাযোগ হয়নি,বঙ্গবন্ধু আমাদের দায়িত্ব দিয়ে এখানে পাঠিয়েছেন।বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়েছে।যেকোন মূল্যে আমাদের স্বাধীনতা অর্জন করতে হবে।মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।শরনার্থীদের জন্য প্রয়োজন আশ্রয় ও খাদ্য। ”
ওই বৈঠকে তাজউদ্দীন ইন্দিরা গান্ধীকে বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন।ইন্দিরা গান্ধী তাকে আশ্বস্ত করেন যথাযময়ে স্বীকৃতি দেয়া হবে।ওই বৈঠকে তিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন।৫ এপ্রিল তিনি আবার ইন্দিরা গান্ধীর সাথে আলোচনায় বসেন।ওই বৈঠকে ইন্দিরা গান্ধী স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারকে ভারতে অবস্থানের অনুমতি, সরকার পরিচালনায় সহয়তা দেন,আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে সহায়তা, শরণার্থীদের জন্য আশ্রয় ও খাদ্যে সহয়তা প্রদান, বেতার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সহয়তা প্রদান.,মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য বিমান প্রদান সহ অনেক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।৭ এপ্রিল তিনি ও আমির-উল ইসলাম কলকাতায় ফিরে আসেন।আমির-উল ইসলাম স্বাধীনতার ঘোষণা পত্রের খসড়া প্রণয়ন করেন এবং তাজউদ্দীন তা অনুমোদন করেন। দিল্লীতে অবস্থানরত অবস্থায় তাজউদ্দীন আহমেদ ভাষণ রেকর্ড করেন, বঙ্গবন্ধুকে রাস্ট্রপতি ঘোষণা করে এ ভাষণ প্রকাশ করা হয়,সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি ও তাজউদ্দীন নিজেকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার গঠন করেন ।পরে ১০ এপ্রিল শিলিগুড়ির এক গোপন স্থান থেকে আকাশবাণী বেতারে এ ভাষণ প্রকাশ করা হয়।এরপর তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম পরিচালনা শুরু করেন অত্যান্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে।তাজউদ্দীন বুঝতে পারেন বৈদেশিক সাহায্য পাওয়ার জন্য স্বীকৃত একটি সরকার দরকার।এজন্য প্রবাসী সরকার গঠনের জন্য সৈয়দ আমির উল ইসলাম কে সাথে নিয়ে আগরতলা রওনা দেন, যাওয়ার পথে তিনি সৈয়দ নজরুল ইসলাম কে ময়মনসিংহ সীমান্ত থেকে নিয়ে যান।১৭ এপ্রিল তাজউদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয় এবং শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। তিনি এদিন মেহেরপুরের নামকরণ করেন মুজিবনগর। এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান প্রক্রিয়া অত্যান্ত গোপনীয়তার মাধ্যমে সম্পন্ন হয় কারণ ১৪ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গায় শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায়…ফলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হামলা চালিয়ে প্রবাসী সরকারের শপথ গ্রহণের পরিকল্পনা ভন্ডুল করে দেয়।মেহেরপুরে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করে তাজউদ্দীন অত্যান্ত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন।১৯৭১ সালের ২৮ এপ্রিল তিনি আরেক রেডিও বার্তায় পাশ্ববর্তী দেশসমূহের প্রতি আহবান জানান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি ও অস্ত্র সহয়তা দেওয়ার জন্য। এরপর থেকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য তিনি সারাদেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে যাতায়াত করেন বিমানে করে। তিনি সারা রাত-দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করেন মুক্তিযুদ্ধে বিজয় ছিনিয়ে আনার জন্য।রাতে মাত্র এক দুই ঘন্টা বিশ্রাম নিতেন তিনি।তিনি মুক্তযুদ্ধের সময় চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে ২০ ঘন্টাই কর্মব্যস্ত থাকতেন।মুক্তিযুদ্ধের সময় তার পরিবার কলকাতায় থাকলেও তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন ‘বাংলাদেশ স্বাধীন না করে তিনি দাম্পত্য জীবন উপভোগ করবেন না।’ মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকালীন সময়ে তিনি মাসের পর মাস এক কাপড়ে থাকতেন।তিনি প্রায়ই হঠাৎ করে বিভিন্ন ক্যাম্পে ও রণক্ষেত্রে,দুর্গম অঞ্চলে চলে যেতেন মুক্তিযোদ্ধা ও জনসাধারণকে অনুপ্রেরণা দিতে,তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে বসে একসাথে আহার গ্রহণ করতেন।মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দিয়ে উজ্জীবিত রাখতেন।
এছাড়া তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রায়ই বেতার বার্তা পাঠাতেন দেশের জনসাধারণের উদ্দেশ্যে শত্রুদের নিঃশেষ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সহয়তা করতে।
মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস তিনি অত্যান্ত কঠোর পরিশ্রম করে বিজয় প্রক্রিয়া তরান্বিত করতে অনেক বড় ভূমিকা পালন করেন।১৯৭১ সালের ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ বেতারে তিনি ভাষণে উল্লেখ করেন “বাংলাদেশের বিজয় আসন্ন। তিনি এ ভাষণে বঙ্গবন্ধুর মুক্তি কামনা, বাংলাদেশের স্বীকৃতি ও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে পাকিস্তানীদের নৃশংস হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানান। ”
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জিত হওয়ার পর তিনি ডিসেম্বরের ১৭ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এক বেতার বার্তায় “দেশের সকল নাগরিক ও মুক্তিযোদ্ধাদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান বিজয়ের জন্য।তিনি বেতার বার্তায় আরো বলেন ” বাংলাদেশের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষ হয়েছে,কিন্তু সংগ্রাম শেষ হয়নি।তিনি বঙ্গবন্ধুর মুক্তি দেয়ার জন্য পাকিস্তানি শাসকদের আহবান জানান।তিনি আরো বলেন বঙ্গবন্ধুর মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত বিজয় অর্জিত হবেনা।”তিনি তার ভাষণে স্বাধীন বাংলাদেশ পুনর্গঠনে বাংলাদেশের জনগণের ও ভারতের সহয়তা কামনা করেন।”
বঙ্গবন্ধুর অনুপুস্থিতিতে পরাধীন পূর্ব বাংলা নামক ভূ-খন্ডকে স্বাধীন বাংলাদেশে রুপান্তর করতে সুদক্ষ নাবিকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এরপর তিনি ২২ ডিসেম্বর বাংলাদেশে এসেই সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সাথে দেখা করেন ও তাদের খোজখবর নেন। তিনি বিশ্বনেতৃবৃন্দের নিকট বারবার আহবান জানান পাকিস্তানি শাসকদের চাপ দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য।বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ শে জানুয়ারি দেশে ফিরে আসলে তাজউদ্দীন আহমেদ অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে তিনি পাট, মৎস্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পান।বঙ্গবন্ধু তার পরামর্শনুযায়ী পার্লামেন্টারি গণতন্ত্র গ্রহণ করেন। তিনি দায়িত্ব পাওয়ার সাথে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যত রুপরেখা প্রণয়ন করেন।তিনি চীন, ভারত,রাশিয়া সহ অনেক সমাজতান্ত্রিক দেশ ভ্রমণ করেন অর্থনৈতিক সাহায্যের জন্য।তিনি দায়িত্ব গ্রহণের ৫ মাসের মধ্যে ৫ লাখ টন খাদ্যশস্য আনার ব্যবস্থা করেন।তিনি ১৯৭২-৭৩,৭৩-৭৪,১৯৭৪-৭৫ সালের বাজেট প্রণয়ন করেন অর্থমন্ত্রী হিসেবে। তিনি পাট-শিল্পের রাষ্ট্রায়ত্ত করেন ও বিজেএমসি প্রতিষ্ঠা করেন। তাজউদ্দীন দেশের বাজারে পাকিস্তানি মুদ্রা নিষিদ্ধ করেন।স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের অর্থনীতিকে মোটামুটি স্থিতি এনে দিয়েছিলেন তাজউদ্দীন। তাজউদ্দীন আমেরিকার বিরোধীতা করতেন ও নিজে মস্কোপন্থী ছিলেন।বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে তিনি আমেরিকার শাসকগোষ্ঠী ও অর্থমন্ত্রীকে চরম অপমানিত করেন,তাছাড়া তিনি দেশের স্বার্থে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতেন না।ফলে পুঁজিবাদী রাষ্ট্রসমূহ কোন অযাচিত চুক্তি চাপিয়ে দিতে পারত না বাংলাদেশের উপর। তিনি কোথাও দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিতেন না, সাহায্য আনতেন মাথা উচুঁ করে।নিজ দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে তিনি অনেকের চক্ষুশূল হন।এ ছাড়া তার নিজ দলের সিনিয়র নেতারা ও তাজউদ্দীনের অর্জনে ঈর্ষান্বিত হয়ে তাকে সরিয়ে দিতে নানা চক্রান্ত শুরু করে…যারা বাংলাদেশ চায়নি তারা জানত বঙ্গবন্ধু কে দুর্বল করতে হলে তাজউদ্দীনকে সরিয়ে নিজেদের রাস্তা পরিস্কার করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করা যাবে। তাইতো খন্দকার মোশতাক সহ কিছু ক্ষমতালোভী ব্যাক্তি,বহুদলীয় ও বহুরাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় তাজউদ্দীনকে অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারণ করায় ১৯৭৪ সালের ২৬ শে অক্টবর।তাজউদ্দীনের সাথে বঙ্গবন্ধুর সম্পর্কের টানপোড়ন ও তাদের চক্রান্তের সফল মঞ্চায়ন।১৯৭৪ সালের শেষ দিক থেকে শুরু করে ১৯৭৫ সালের শুরুর দিকে তাজউদ্দীন আওয়ামীলীগে ও সরকারে একেবারে কোনঠাসা হয়ে যান……তাজউদ্দীন চলে যাওয়ার পর বঙ্গবন্ধু একেবারে কোনঠাসা হয়ে যান।তাজউদ্দীনের অনুপস্থিতিতে ঘাতকেরা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটানোর জন্য ফাঁকা মাঠ পেয়ে যায়…ফলশ্রুতিতে ঘাতকদের পরিকল্পনার অব্যর্থ বাস্তবায়ন আর বঙ্গবন্ধুর সপরিবারে লাশ হওয়া যেন বাংলাদেশের অদৃষ্টে লিখা ছিল তাজউদ্দীন বঙ্গবন্ধু থেকে দূরে সরে যাওয়ার পর থেকে….


পর্দার আড়ালের নায়ক


তাজউদ্দীন কখনোই মুখ ফুটে তার কীর্তির কথা বলতেন না বা কাউকে বলতেও দিতেন না,তিনি দেশ ও দেশের জন্য পর্দার আড়ালে থেকে চুপিসারে কাজ করে যাওয়াকে নিজের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করতেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বাঙালি জাতির জন্য কি আত্মত্যাগ করেছিলেন কখনোই তা জনসম্মুখে বলেন নি…তিনি চেয়েছেন সবসময় অন্ধকারে আলোর স্ফুরণ ঘটিয়ে নিজে আবার অতল অন্ধকারে ডুব দিয়ে নিজেকে আবার কর্মব্যাস্ত রাখতেন। ভাব নিতেন যেন তিনি কিছুই করেন নি।
তাজউদ্দীন আহমেদ একবার বলেছিলেন

“মুছে যাক আমার নাম, তবু থাকুক বাংলাদেশ “

তিনি কখনোই প্রচারের আলোয় আসতে চাইতেন না,তিনি নীরবে নিভৃতে থেকে একনিষ্ঠভাবে পরিশ্রম করে যেতে পারতেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এক ক্যাম্পে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের বলেছিলেন,

‘চলো, এমনভাবে কাজ করি, যেন ইতিহাসের পাতায় আমাদের খুঁজেই পাওয়া না যায়।’

বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত সহচরঃ


বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে ফিরে আসার পর মুক্তিযুদ্ধকালীন তাজউদ্দিন আহমেদের গণসংযোগ কর্মকর্তা আলি তারেক তাজউদ্দিন আহমেদ কে জিজ্ঞাসা করেন

“আপনি কাকে বেশি ভালবাসেন, বঙ্গবন্ধুকে,নাকি বাংলাদেশকে?”

তাজউদ্দিন দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে জবাব দিলেন,

“আলি তারেক, আমি বঙ্গবন্ধুকে বেশি ভালবাসি।”

তাজউদ্দীন বঙ্গবন্ধুকে যোগ্য শিষ্যের মত অনুসরণ করতেন,বঙ্গবন্ধু প্রায়ই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো তাজউদ্দীনের সাথে আলোচনা করে নিতেন।
বঙ্গবন্ধু তাজউদ্দীনকে এতটা বিশ্বাস করতেন যে একবার ছাত্রলীগের নিউক্লিয়াস নামে খ্যাত সিরাজুল আলম খান,শেখ ফজলুল হক মণি,আবদুর রাজ্জাক,তোফায়েল আহম্মেদ কে ডেকে বলেন

“আমি যদি না থাকি তোমরা এ লোকটির (তাজউদ্দীন) কথা শুনবে”..

বঙ্গতাজকে এতটাই বিশ্বাস করতেন বঙ্গবন্ধু।

১৯৭২ সালে জাসদ গঠনকালে জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সিরাজুল আলম খান তাজউদ্দিনকে জাসদে যোগ দেওয়ার আহবান জানালে তাজউদ্দীন উত্তর দেন

“শেখ মুজিব যতদিন বেঁচে আছেন ততদিন আমার পক্ষে কোন রাজনৈতিক দল করা সম্ভব হবেনা”

মৃত্যু


বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর থেকে তাজউদ্দীন আহমেদকে এক সপ্তাহ গৃহবন্দী করে রাখা হয়।২৩ আগস্টে তাকে জেলে নিয়ে যাওয়া হয়।।খন্দকার মোশতাকের নির্দেশে কতিপয় বিপথগামী সৈন্য কেন্দ্রীয় কারাগারে সেলের ভেতর বন্ধী অবস্থায় ১৯৭৫ সালের নভেম্বরের তিন তারিখ রাতে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয় তাজউদ্দীন আহমেদ সহ জাতীয় চার নেতাকে। তাজউদ্দীনের পেটে ও পায়ে গুলি লাগে।তিনি তৎক্ষনাৎ মৃত্যুবরণ করেন।বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গতাজের সম্পর্কের ফাটল ধরিয়ে ঘাতকেরা দেশ ও জাতির অপূরণীয় ক্ষতি করে দিয়ে যায়…যার ক্ষতচিহ্ন আজ ও আমরা বাঙালি জাতি বয়ে চলেছি….হয়ত বয়ে বেড়াবো চিরকাল…

তথ্যসূত্রঃ
নেতা ও পিতা- সিমিন হোসেন রিমি
তাজউদ্দীন আহমদ -স্বকৃত নোমান
যারা ভোর এনেছিলো- আনিসুল হক
জাসদের উত্থানপতন অস্থির সময়ের গল্প- মহিউদ্দিন আহম্মেদ।
আওয়ামীলীগের উত্থানপর্ব (১৯৪৮-১৯৭০) – মহিউদ্দিন আহম্মেদ আমি সিরাজুল আলম খান বলছি – শামস উদ্দিন পেয়ারা