শোক দিবস কি লোক দেখানো?

রাব্বি আহমেদ রাফিঃ

এদিকটায় অহরহ মুজিব কোট।এই কোট গায়ে জড়ানো লোকের সংখ্যা বাড়লেও আমাদের আদর্শের কর্মী বা নেতৃবৃন্দের সংখ্যা এক ছিটেও বাড়েনি।৬ বোতামের কোটটিকে কেউ ব্যবহার করে ব্যবসায়ে,কেউ প্রতারণায়।এর মাহাত্ম্য দুরে থাক,অর্থও অনেকে জানেনা।রাজনীতিবিদ থেকে শুরু,ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার,উকিল,মোক্তার,শিল্পপতি ,বিদ্যাপতি,সুযোগ পেলে গায়ে জড়ান,আর লেগে পড়েন স্ব স্ব ব্যবসায়ে।


বৃক্ষ তোমার নাম কি?ফলে পরিচয়।প্রবাদটিকে মিথ্যা করে তোলে!ফল নয় ছালে পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে ওরা।



৩২ নম্বরের বাড়িতে যারা গিয়াছেন,টুঙ্গিপাড়ায় মাজার জিয়ারত করেছেন।ছোট্ট রাসেলের আর্তনাদের ইতিহাস পড়েছেন তাদের কেউ এগুলোর সাথে জড়িত হতে পারে এটা মেনে নেওয়া কঠিন।তবে অসম্ভব নয়।

সুবিধাবাদী একটা শ্রেণি রাষ্ট্রে সর্বদাই থাকে,ছিলো,আছে, এবং থাকবে।তাদের উদ্দেশ্যই আত্মস্বার্থ হাসিল।কিন্তুু আজকাল এ সংখ্যা মাত্রা ছাড়িয়েছে।সমাজে মানুষের চেয়ে স্বার্থান্বেষীর সংখ্যাই বেশী।


নিয়মিত খবর হয়,এই প্রতারক,সেই ধর্ষক,অমুক রাজনীতিবিদ,তমুক শিল্পপতি,এখানে হত্যা,সেখানে মাদক,ওখানে ক্রসফায়ার,এদিকে চোরাচালান,সেদিকে ব্যাংকলোন,ঋণখেলাপী,সিন্ডিকেট,টেন্ডার বিজনেস এর সাথে যারা জড়িত সবাই ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলে জন্ম নেওয়া কোন বাংলা মায়ের সন্তান।অনেকেরই আত্মরক্ষার প্রতীক সেই কালো কোট।অথচ ওদের কোন দায় নেই।বাঙালিত্ব নেই।যদি পারতাম একটা টানে এই কোট টাকে ছাড়িয়ে নিতাম এদের নোংরা শরীর থেকে।

১৫ আগষ্ট!দিনটা অন্ধকার লাগে।পুরোটায় যেন চাঁদহীন অমাবস্যার ২৪ ঘন্টার একটা দীর্ঘ রাত।কেউ তো ফিরবে না জানি।তবু কেন মনে হয় ফিরবে,ফিরে আসুক।বাঙালী অস্তিত্বের এই অন্ধকার দিনকেও অন্ধকারে রাখার অপচেষ্টা তখন থেকেই।বাঙালীর স্বাধীনতা,সার্বভৌম, স্বায়ত্তশাসন যাকে ছাড়া কল্পনাতীত,তাকেই ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা।এই অপচেষ্টা কেন করা হয়?কারা করেন?তারা কি এখন থেমে আছেন?নাকি চলছে তাদের ষড়যন্ত্র?আবারও কি তারা রক্তপ্লাবনে ভাসানোর মহাপরিকল্পনা করছেন?প্রশ্নগুলো একান্ত ব্যক্তিক।


আজকে যারা সুপুরুষ সেজেছেন,পরিপাটি পরিচ্ছদ,পার্টি, ডিনার,হ্যাশট্যাগ,এটা সেটা তাদের অনেকের পূর্বপুরুষ যিনি সগর্বে সানগ্লাস পরা লিডারের এমন ডিনারপার্টি, হ্যাশট্যাগ এটাসেটার সহযাত্রী ছিলেন।এই যে সম্প্রদায়,এ সংখ্যা যে দিনে দিনে বাড়ছে তা নিরেট সত্য।এখন নিয়ন্ত্রণ করার পন্থা অবলম্বন করা জরুরি।শুধু মুখে নয় বাস্তবেই করা জরুরি। দল ক্ষমতায় এসময়ে স্রোতের অনুকুলে গা ভাসালে ভয়াবহ পরিনাম দেখতে হতে পারে।সময় আমাদের আছে কাজে লাগানো উচিৎ। এই পিশাচ বর্বর শ্রেনীর কোন মানবতা নাই।ওরা কালসাপ,সুযোগ ছাড়তে ওরা জানেনা।সুযোগ পেলে কপালে ঠোকর দেওয়া ওদের স্বভাব।ওদের খুঁজে বের করা অধিক জরুরি,নতুবা পস্তাতে হবে আমাদের।আদর্শের টুপি পরে ওৎপেতে আছে ওরা।মিশে আছে আমাদের মাঝেই।আবার অনেক নপুংসক স্বার্থের টানে মিশিয়ে রেখেছেন যত্নে।বেদনা হয়!এদের জন্যই হয়তো সবার ভুগতে হবে।আগষ্ট আসলে লোক দেখানো শোক প্রকাশ করে লাভ নাই।এ কাজ ঐ ছাল পরে ওঁৎপেতে থাকা প্রেতাত্মাদের।যারা এদেশে আগষ্টের কালো দিন কায়েম করেছিল।তাদের থেকে সচেতন ও সাবধান হওয়া দরকার।বাঙালীর সচেতনতা সৃষ্টি করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

আরও বলি,আর্থিক উন্নয়নের চেয়েও মানুষের বিবেকবোধ,দেশপ্রেম,চারিত্রিক উন্নয়ন,যে জরুরি সে কথা যেকোন সভ্য রাষ্ট্রের দিকে তাকালেই আমরা দেখতে পাব।অথচ আমরা ভিন্ন পথেই বোধহয় হাটছি।চীনদেশের মহাপ্রাচীর নির্মানের পরবর্তী ইতিহাসও আমাদের শিক্ষা হতে পারে।চরিত্র বিসর্জন দিয়ে অর্থের মালিক হওয়া খুব সহজ।অথচ এমন অর্থের চেয়েও চরিত্রবান মানুষ হওয়া যে গর্বের।আদর্শ মানবসম্পদ গড়া যে কল্যাণকর। এ বোধ আমাদের হয়নাই।


যেদিন আমাদের এই বিবেকবোধ জাগ্রত হবে,ব্যক্তিক ভোগবৃত্তি আর স্বার্থচিন্তা থেকে বের হয়ে জাতির মঙ্গলচিন্তা করতে পারবো,ব্যক্তি থেকে জাতিতে পরিনত হবো,লোক দেখানো নয় আদর্শ ও চেতনাগত ভাবে আগষ্টের শোক শ্রদ্ধা স্মরণ করতে পারবো,সেদিন স্বাধীনতার,বাঙালীর পূর্ণরুপ,পূর্ণসুখ বাস্তবায়িত হবে।


শোককে শক্তিতে পরিনত করে,এইহোক আমাদের এবারের ১৫ই আগষ্টের প্রত্যয়।

লেখকঃ শিক্ষার্থী ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়