পিতা পুত্রের যুগলবন্দি ভূমিকায় বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছিল

মোঃ ইমরুল হাসান ইমনঃ

জাতির পিতার হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রচুর লেখালেখি হয়েছে৷ বই বেরিয়েছে অনেক৷ কিন্তু জাতির পিতার হত্যা মামলা যে আইনজীবীরা পরিচালনা করেছেন তাদের নিয়ে লিখালিখি হয়নি সেরকম।

৭৫ এ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর তার প্রতিবাদ করার সাহস খুব কম লোকই দেখিয়েছিলেন৷ তাদের একজন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে যার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল মধুর, সিরাজুল হকের ডাক নাম বাচ্চু। বঙ্গবন্ধুর ডাক নাম খোকা। দু’জনের মধ্যে সম্বোধন ছিল ডাক নামেই।

সিরাজুল হক বাচ্চু



হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া তিনিই শুরু করেছিলেন। আর শেষ করেছিলেন তারই সুযোগ্য পুত্র বর্তমান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে বাঘা বাঘা আইনজীবীদের বাদ দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা সিরাজুল হককেই বেছে নিয়েছিলেন৷ কারণ সিরাজুল হক আর বঙ্গবন্ধুর প্রাণের বন্ধন সম্পর্কে জ্ঞাত ছিলেন তিনি। কলকাতার বেকার হোস্টেলেও একসাথেই ছিলেন সিরাজুল হক আর বঙ্গবন্ধু।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা পরিচালনার জন্য প্রয়োজন ছিলো একজন অকুতোভয় আইনজীবীর৷ কারণ মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে আসতে পারে অনেক বাধা বিপত্তি আর আইনি চড়াই-উতরাই কিংবা প্রাণনাশের হুমকি। আর এসবের মোকাবিলা একটি মাত্র দৃঢ়চেতা ব্যক্তিই করতে পারবেন – সিরাজুল হক। যিনি হত্যাকাণ্ডের পর বঙ্গভবনে ফারুক – রশিদ বেষ্টিত মোশতাককে বলেছিলেন

“তুমি খুনী “



সিরাজুল হক শেখ হাসিনাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন বিচারকার্যের জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করতে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তনয়া তার মন্ত্রীসভার সদস্যদের সাথে পরামর্শ করে বিদ্যমান ফৌজদারি আইনেই মামলা পরিচালনার কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেছিলেন

” জাতি প্রতিশোধ চায় না,  খুনীর বিচার চায়৷” সেই বিচার প্রক্রিয়া যাতে স্বচ্ছ এবং প্রশ্নাতীত হয় এবং বহিঃর্বিশ্বে যাতে এ নিয়ে  কোন বিভ্রান্তি তৈরী না হয়”



কারণ বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হলে তার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারতো। বলা হতো ধরে বেধে ফাঁসি দেয়া হয়েছে৷

কিন্তু ফৌজদারি আইনে বিচার যে স্বচ্ছ হয়েছে তা আসামী পক্ষও স্বীকার করেছে। তাই তারাও আসামীদের নির্দোষ দাবি করেন নি, শুধু শাস্তি কমাতে চেয়েছিলেন৷

সিরাজুল হক মামলার নিষ্পত্তি দেখে যেতে পারেন নি। কিন্তু তার অসমাপ্ত কাজ তারই নিষ্ঠাবান সন্তান বর্তমান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক নিষ্ঠার সাথেই সম্পন্ন করেছেন।

বর্তমান আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল হক



বাবা-ছেলের ঐতিহাসিক এই মামলা জয় বাঙালীকে দিয়েছে কলঙ্ক মুক্তির স্বাদ। জাতি পেয়েছে তার জন্মদাতা হত্যার বিচার। এই বাবা ছেলেকে জাতির সমৃদ্ধ ইতিহাসের আড়ালে হারিয়ে যেতে দেওয়া যায় না।

জাতির পিতা একটা অনুভূতির নাম ছিল বাংলাদেশীদের কাছে। কিন্তু অনেকসময় সেই অনুভূতির বন্দুকের বেয়নেটের কাছে হার মেনে যায়। কিন্তু অন্ধকার যুগ শেষ হয়েছে। ১৫ ই আগস্টের রাতে শহীদ হওয়া সকলের আত্মা হয়ত একটু শান্তি পাবে দেশরত্নের সাফল্য দেখে।
বঙ্গবন্ধু বেঁচে আছেন, বেঁচে থাকবেন সীমাহীন স্বপ্নে, বাঙালীর হাসিমুখে।



লেখক
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
সলিমুল্লাহ মুসলিম হল