সিস্টেমের মারপ্যাচে ছাত্রনেতাদের নৈতিক অবক্ষয়!!

“দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলায় ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি স্বীকারোক্তি আদায়”..সারাদেশে প্রত্যেকটি ইউনিটে এরকম অপকর্মের শত শত নজির খুঁজে পাওয়া যাবে…

একবার ভেবেছেন কেন এই নৈতিক অবক্ষয়???
নৈতিক অধঃপতন কেন সেটার কারণ অনুসন্ধান করেনা কেউ।করলেও নীরব ভূমিকা পালন করে নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য। তারা মনে হয় ভুলে যায় ‘নগর পুড়লে দেবালয় বাকী থাকেনা ‘

ধরুন কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একজন রাজনীতিতে সক্রিয় হয় তখন তার বয়স থাকে ১৮ বছর ।কিন্তু তাকে ইউনিট সভাপতি, সেক্রেটারি হতে হলে ৩০ বছর অর্থাৎ আরো ১২ বছর ধরে একনাগাড়ে রাজনীতি করতে হচ্ছে।সবাই চাইলেও হতে পারেনা নেতা! এই ১২ বছরের পরিশ্রমে ইউনিটের নেতা না হতে পারলেও খড়কুটো ধরে বেঁচে থাকার মত একটি পদ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়, অথচ তার ছাত্রত্ব থাকে ৬-৭ বছর!পড়াশুনা শেষ করে বাকী ৫-৬ বছর ধরে রাজনীতির পেছনে সময় দিয়ে যখন দেখে তার নেই কোন একাডেমিক ক্যারিয়ার, কোন স্কিল কিংবা নেই হতে নেই কোন টাকা পয়সা।

সে অবস্থায় নিজেকে একবার ভাবুন! ১০-১২ বছর রাজনীতি করার পর যখন দেখে তার এতদিনের পরিশ্রম বৃথা ,পকেটে খাওয়ার টাকা নেই ।তখন বাধ্য হয়ে অপকর্মে লিপ্ত হয়,মাদক ব্যবসা ,কমিটি বিক্রি,চাদাবাজিতে নিজেকে সপে দিয়ে নিজের ভবিষ্যত গড়ার চিন্তায় মগ্ন থাকে অনেকে। কারণ বেঁচে থাকার তাগিদ! যাদের পারিবারিক অবস্থা ভাল তারাও অনেকে অপকর্ম জড়িয়ে যায় আর্থিক সমস্যা না থাকা সত্ত্বেও। কারণ সবাই জানে সমাজে মুখ দেখাতে হলে কিছু করতে হবে! এর ফলে অপকর্ম হয়ে যায় পেশা , কারণ তারা জানে তাদের কিছু করার সময় পেরিয়ে গেছে।

এই অপকর্ম গুলোর জন্য কাউকে দোষ দিয়ে লাভ নেই, কারণ সমস্যা হচ্ছে সিস্টেমে । সিস্টেমে পরিবর্তন না আনলে ছাত্র রাজনীতি সামনে আরো মুখ পোড়াবে,মুখ রক্ষা করতে পারবেনা । লক্ষ লক্ষ বেকারের জন্ম দিবে এই ছাত্র রাজনীতি এই ধারা অব্যাহত থাকলে । কারণ পেটে ভাত না থাকলে কেউ আদর্শের কথা শুনবেনা।

এইজন্য অন্তত ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাদের অবশ্যই নিয়মিত ছাত্র হতে হবে,তার পাশাপাশি গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সংগঠন চালানোর মানসিকতা থাকতে হবে। মেয়াদ শেষে পদ আঁকড়ে ধরার মানসিকতা ছেড়ে নির্দিষ্ট সময়ে সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে হবে, দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দায়িত্ব অর্পণ করতে হবে।নিয়মিত সম্মেলন না হলে সংগঠনের স্তম্ভে ঘুণে ধরে, প্রকৃত কর্মীরা রাজনীতি থেকে দূরে সরে যায়…

এই সংস্কারের ফলে কি হবে জানেন??

ছাত্র রাজনীতির দীর্ঘসূত্রতা বন্ধ হবে।ছাত্র রাজনীতি শেষ করার পরেও নিজের জীবন গঠনের জন্য ৩-৪ বছর সময় পাবে।ফলে বেকারত্ব ঘুচবে অনেকের, দুর্নীতি করার মানসিকতা জন্মাবে না সহজে। ছাত্রনেতাদের সাথে কর্মীদের, শিক্ষার্থীদের দুরত্ব ও ঘুচবে নিয়মিত শিক্ষার্থী ‘ছাত্র সংগঠনের’ নেতা হলে।নিয়মিত ছাত্র ছাত্রনেতা হলে ছাত্র রাজনীতির কাঠামোর গুণগত পরিবর্তন আসন্ন।

ছাত্র রাজনীতির যে ধারা বর্তমানে নিম্নবিত্ত কিংবা মধ্যবিত্ত পরিবারের করো পক্ষে ছাত্র রাজনীতি করা পুরোপুরি অসম্ভব। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান হওয়া ব্যতীত সম্ভব নয়।

জানিনা কথাগুলো দায়িত্বশীল কারো চোখে পড়বে কিনা,তবে খুব দ্রুত যৌক্তিক সংস্কার না করলে ছাত্র রাজনীতিতে কর্মী খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে যাবে। দুর্নীতিবাজ নেতা তৈরীর সিস্টেম ও বন্ধ হয়ে যাবে নিমিষেই। ভালো ছেলেরা রাজনীতি করতে চাইবেনা,রাজনীতি বিমুখ হয়ে যাচ্ছে দিনকে দিন,এতে কিন্তু দেশেরই আখোরে ক্ষতি!