বিস্মৃতপ্রায় ভাষা সৈনিক মমতাজ বেগম

এমন গল্প শুনেছেন কেউ প্রেমের টানে পরিবার ছেড়েছে ,ধর্ম ছেড়েছে এমনকি দেশ ছেড়েছে ? আবার সে প্রেম তুচ্ছ হয়ে যায় ভাষার প্রেমের কাছে!ভাষার জন্য প্রেম কিংবা পরিবার কুরবানী করতে দ্বিধা করেননি এমন মহিয়াসী মহিলা আছেন তা কল্পনা করা যায়!

না এটি কোন সিনেমার কিংবা গল্প না,এটি ভাষা আন্দোলনের মহান ভাষাসৈনিক মমতাজ বেগমের গল্প। এ গল্প একজন অতিমানবী মমতাজ বেগমের।
বাংলা ভাষার জন্য মমতাজ বেগমের ত্যাগ বা অবদান বলে শেষ করা যাবেনা। অথচ আমাদের প্রজন্মের কেউ মমতাজ বেগমের সম্মন্ধে তেমন কিছু জানিনা।৬০ এর দশকে একজন নারীর এধরণের সংগ্রাম আসলে কল্পনা করা যায় না। অথচ এই মহিলা জন্মসূত্রে বাংলাদেশী ও না ভারতীয়! যেখানে অনেক বাংলাদেশী উর্দু ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য পাকিস্তান সরকারের তাবেদারী করেছিল সেখানে একজন ভারতীয় হয়ে এমন বাংলা ভাষার জন্য এমন আত্মবিসর্জন কেউ করেনি সম্ভবত ইতিহাসে।


পরিচয়

মমতাজ বেগম ১৯২৩-১৯৬৭
ছবি : somewhereinblog.net


কল্যাণী রায় মিনু কলকাতার হাওড়ায় জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৩ সালে।মিনুর পূর্বপুরুষ ছিলেন রাজশাহীর রঘুনন্দপুরের জমিদার।তাঁর বাবা রায় বাহাদুর মহিমচন্দ্র রায় ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি মা মাখনমতি দেবী ছিলেন স্কুল শিক্ষক। বাবা বিচারপতি হওয়া সত্ত্বেও তার নিজ মেয়ের শিক্ষার ব্যাপারে অনেক রক্ষণশীল ছিলেন। তিনি নিজ মেয়েকে স্কুলে না ভর্তি করিয়ে প্রাইভেটে পড়িয়ে মেট্রিক পাশ করান। মহিমচন্দ্র রায় মিনুকে এর বেশি পড়াতে রাজী ছিলেন না। কিন্তু মিনু
উচ্চশিক্ষার গ্রহণের ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয়ী ছিলেন।বাবার চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে মামা বিখ্যাত সাহিত্যিক প্রমথনাথ বিশীর সহয়তায় বেথুন কলেজে ভর্তি হন। সেকালের কঠিন রক্ষণশীল প্রথা মান্য করে তাকে কলেজে যেতে হত পর্দাবৃত গাড়িতে করে।১৯৪২ সালে মিনু বেথুন থেকে বি এ সম্পন্ন করেন। বি এ পাশ করেই মিনু ’দি স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ‘র কলকাতা শাখায় যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। সেখানেই তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পালাবদল ঘটে।



মিনু কল্যাণী রায়ের মমতাজ বেগমে হওয়ার গল্প


কলকাতা সিভিল সাপ্লাই অফিসের কর্মকর্তা আবদুল মান্নাফের ’দি স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ‘র কলকাতা শাখায় প্রায়ই অফিসের কাজে আসতে হতো। তার একাউন্টে প্রচুর টাকা লেনদেন করতো হতো চেক বইয়ে। চেক বইয়ে লেনদেনের সূত্র ধরেই মিনু কল্যাণী রায়ের সাথে মান্নাফ সাহেবের পরিচয় ঘটে। এরপর কারণে অকারণে মান্নাফ সাহেব ব্যাংকে যেতে থাকেন মিনুর সুনজরে পড়ার জন্য। ভাগ্যক্রমে মান্নাফ মিনুর সুনজরে পড়ে যান এবং পরিচয় থেকে পরিণয়ে জড়ান।কিন্তু তাদের সুখ বেশি দিন থাকলো না ।এক কান দু কান করে মহিমচন্দ্র রায়ের কানে মিনুর সাথে মান্নাফের সাথে সম্পর্কের কথা আসে।এরপর মিনুর বাবা মিনুর ব্যাংকে চাকুরি এবং বাইরে বের হওয়া বন্ধ করে দেন।মিনু মান্নাফ সাহেবের প্রেমে এতটাই মগ্ন ছিল যে পরিবার পরিজন,ধর্ম চিরতরে পরিত্যাগ করে মান্নাফকেই বেছে নিলেন। মান্নাফের সাথে আজীবন থাকার স্বপ্নে বিভোর হয়ে কলকাতার মিনু কলেমা পড়েন নাখুদা মসজিদের ইমামের কাছে এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন । এরপর থেকে মিনু কল্যাণী রায়ের নাম হয়ে যায় মমতাজ বেগম। এরপর মান্নাফের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং চিরতরে কলকাতা ছেড়ে বাংলাদেশে চলে আসেন মমতাজ বেগম।তারা মান্নাফের রেল কর্মকর্তা বাবার ময়মনসিংহ রেল কলেনীর বাসায় চলে আসেন এবং শহরের বিদ্যাময়ী স্কুলে সহকারী শিক্ষিকা পদে সাত মাস শিক্ষকতা করেন।এরপর ঢাকায় চলে আসেন।১৯৫১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিএড পরীক্ষায় পাশ করেন এবং নারায়ণগঞ্জের ‘মর্গ্যান হাইস্কুলে’ প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করেন।



সংগ্রামী ভাষাসৈনিক মমতাজ বেগমের গল্প


তখন চারদিক উত্তাল রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে। নারায়নগঞ্জ ও উত্তাল ছিল।এদিকে আওয়ামীলীগ নেতা শেখ মুজিব ও তার সহযোগী মহিউদ্দিন অনশন করে বসেন রাষ্ট্র ভাষা বাংলা করা এবং তাদের মুক্তির দাবিতে। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে ঢাকা কারাগার থেকে খুবই গোপনে পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী শেখ মুজিব কে গোপনে ফরিদপুর জেলা কারাগারে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেন। তখনকার সময়ে ঢাকা থেকে ফরিদপুর যেতে হলে নারায়নগঞ্জ থেকে স্টিমারে করে যেতে হত। বঙ্গবন্ধু এ সুযোগ লুফে নেন,তিনি ফরিদপুরে যাওয়ার আগে যাত্রাবিরতিতে নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের তাদের ভাষার দাবিতে অনশনের কথা জানিয়ে দেন এবং রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে কঠোর কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান।কারণ নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী ছিলো।এরপর নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হতে থাকে ভাষার দাবিতে উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় জনসাধারণ ২০ তারিখ ২১ তারিখে পুরো নারায়নগঞ্জ অচল করে দেন।
২১ শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় পুলিশের গুলিতে অসংখ্য ছাত্র হতাহত হবার খবর নারায়ণগঞ্জে পৌছালে নারায়ণগঞ্জের জনসাধারণ ক্ষোভে ফুঁসে উঠে। রাস্তায় রাস্তায় নেমে পড়ে নির্ভীকচিত্তে,পুরো নারায়নগঞ্জ হয়ে ওঠে আগুনের স্ফুলিঙ্গ।একুশে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে রহমত উল্লাহ মুসলিম ইনস্টিটিউট ময়দানে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ময়দানের পাশেই ছিল মর্গান স্কুল।
মমতাজ বেগম ভাষার প্রশ্নে ছিলেন আপোষহীন ,ছাত্র হত্যায় ছিলেন বিক্ষুব্ধ। তাই তিনি নিয়ে নেন এক অসাধারণ পদক্ষেপ – মমতাজ বেগমের নেতৃত্বে মর্গ্যান স্কুলের ছাত্রীসহ মহিলাদের প্রায় ৩০০ জনের মিছিল রহমত উল্লাহ মুসলিম ইনস্টিটিউট ময়দানের জনসভায় উপস্থিত হয়। তৎকলীন রক্ষণশীল সমাজে এ ধরণের পদেক্ষেপ অসম্ভবের চাইতেও বেশী কিছু ছিল। কিন্তু মমতাজ বেগম অসম্ভব কে সম্ভব করে পাকিস্তানী শোষক গোষ্ঠীকে ভড়কে দিয়েছিলেন।মমতাজ বেগমের এ উদ্যোগ ভাষা আন্দোলনের গতিকে আরো বেগবান করে ।তিনি শুধু নারীদের ভাষা আন্দোলনে এনে ক্ষান্ত হননি,আদমজী জুটমিলের শ্রমিকদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার বৈঠক করে তাদেরকে আন্দোলনের তাৎপর্য বোঝাতে চেষ্টা করেন এবং এক পর্যায়ে শ্রমিকদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হন।
সুনিপুণ সাংগঠনিক দক্ষতা, উপস্থিত বুদ্ধি ,কর্মনিপুনতার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে ভাষা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ হয়ে উঠেন।
মমতাজ বেগমের মত কিছু নিবেদিত প্রাণ কর্মীর কারণেই ঢাকার পরে নারায়ণগঞ্জে ভাষা আন্দোলন সবচেয়ে বেশি বেগ পেয়েছিল দেশের অন্য যে কোন অঞ্চলের চাইতে।



গ্রেফতার ও জনতার প্রতিরোধ



নারায়ণগঞ্জে ভাষা আন্দোলনের গতিকে স্তিমিত করতে পাকিস্তানীরা মমতাজ বেগমকে গ্রেফতারের সিন্ধান্ত নেয়। তার বিরুদ্ধে ‘ স্কুলের ফান্ডের টাকা আত্মসাৎ’ এর অভিযোগ এনে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। ১৯৫২ সালে ২৯ ফেব্রুয়ারি সকালবেলায় মমতাজ বেগমকে গ্রেফতার করে নারায়ণগঞ্জ কোর্টে নিয়ে যাওয়া হয়। কোর্টে তাঁর জামিনের আবেদন নামঞ্জুরও হয়। তাঁর গ্রেপ্তারের খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা কোর্ট ভবন ঘিরে ফেলে। তাকে পুলিশ ঢাকা কোর্টে নিয়ে যেতে চাইলে জনতা রাস্তা অবরোধ করে দেয়। মুহুর্তেই তা জনস্রোতে রূপ নেয়।পুলিশ জনসমুদ্র এড়িয়ে চাষাড়া পর্যন্ত গেলেও সেখানে উত্তাল জনসমুদ্রে থমকে যেতে হয়।পুলিশ জনতার ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস প্রয়োগ করে পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাধ্য হয়ে ঢাকা থেকে আরো পুলিশ এবং ইপিআর আনায় প্রশাসন। জনতার প্রতিরোধে যোগ দেন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কের আশেপাশের গ্রামবাসীও।তারা চাষাঢ়া থেকে পাগলা পর্যন্ত ছয় কিমি রাস্তার দুপাশের শতশত গাছ কেটে ব্যারিকেড সৃষ্টি করেন। পুলিশের ভারী অস্ত্রের মুখে এক পর্যায়ে জনতা পিছু হটতে বাধ্য হয়।এরপর পুলিশ মমতাজ বেগমকে ঢাকা জেলে নিয়ে আসে।প্রায় রাত আটটা পর্যন্ত পুলিশের সাথে জনতার সংঘর্ষ চলে,সংঘর্ষে ৪৫ জন আহত হন। একজন অতিমানবী কে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে নারায়ণগঞ্জের জনতা যে বীরত্ব প্রদর্শন করেছিল তা ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

ভাষা না পরিবার কোনটি আগে?

মমতাজ বেগমের বীরত্বের গল্প এখানেই সমাপ্ত নয়।
সামনে আরো বড় আত্মত্যাগ অপেক্ষা করছে ভাষার জন্যে। যে প্রেমের জন্য পরিবার ছেড়ে ছিলেন সে প্রেম যখন তার ভাষা আন্দোলনে আপোষহীন মনোভাবে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় তখন তিনি ভাষার প্রশ্নে প্রেমের সাথে আপোষ করেন নি। মান্নাফ সরকারি চাকুরি করতেন,তার বউ ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে মান্নাফ সরকারের উপর মহল থেকে প্রচুর চাপ পেতে থাকেন। মান্নাফ সরকারের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে জেলে এসে বারবার মমতাজ বেগমকে বন্ড সই দিয়ে মুক্তি নিতে বলে।
মান্নাফ একজন ছাপোষা সরকারী চাকুরে হিসেবে ভাষার প্রশ্নে আপোষ করতে মান্নাফ রাজি করানোর জোর প্রচেষ্টা চালায় যাতে মান্নাফ এর সরকারি চাকুরী টিকে যায় এবং প্রশাসনের কাছে ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন থাকে। কিন্তু মমতাজ বেগম কিছুতেই বন্ড সহ দিতে রাজি হননি, একপর্যায়ে যখন বন্ড সই নেয়ার সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় তখন মান্নাফ মমতাজ বেগম কে তালাকের হুমকি দেন যদি বন্ড সই না দেন। কিন্তু মমতাজ বেগম কিছুতেই টলেননি বলেন

” ঠিক আছে, তুমি যদি আমাকে তালাক দিতে চাও দাও,তবু আমি বন্ড সই দিয়ে মুক্তি নিতে চাইনা “

এরপর পুলিশ,কারারক্ষী, প্রহরী সবার সামনে মান্নাফ মমতাজ বেগমকে বলেন

” তুমি তো তাই বলবে,আমি জানতাম।বাজে মহিলা কোথাকার! ঠিক আছে তালাক ই দেব।”

ঘটনার আকস্মিকতায় উপস্থিত সবাই হতবিহবল হয়ে যায়। পরে মান্নাফ নিজের ভুল বুঝতে পেরে সোমবার পর্যন্ত মমতাজ বেগমকে সময় দিয়ে যান বন্ড সইয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে। কিন্তু মমতাজ এক সপ্তাহ পরের সোমবারে ও নিজ সিদ্ধান্তে অটল থাকেন ।তিনি মান্নাফকে সাফ জানিয়ে দেন ‘ তিনি বন্ড সই দিয়ে মুক্তি নিবেন না ‘ । ফলাফল মান্নাফ তার সরকারি চাকুরে রক্ষা করার জন্য মমতাজ বেগমকে তালাক দিয়ে দেন। ভাষার প্রশ্নে মমতাজ বেগম পর্বতসম দৃঢ়তা দেখিয়েছিলেন।পরিবার,স্বামী ,একমাত্র মেয়ে,সরকারি চাকুরি সব ছেড়ে দিয়েছিলেন তবু ভাষার মর্যাদার প্রশ্নে অনমনীয় থেকে বন্ড সই নিয়ে মুক্তি নিতে রাজি হননি। এ অনমনীয় মনোভাবের কারণে মমতাজ বেগম প্রায় দেড় বছর কারাবাস ভোগ করার পর ১৯৫৩ সালে মে মাসের চতুর্থ সপ্তাহে মুক্তি পান। ততদিনে মমতাজ বেগমের সবকিছু তছনছ।পরিবার পরিজন কেউ নেই, মাথা গোঁজার ঠাঁই ও নেই। ভাষার জন্য এরূপ আত্মত্যাগ কেউ করেছেন কিনা আমরা কেউ জানিনা,তবে এই মহিয়সী নারী যা করেছেন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে শতবছর ।

শিক্ষা প্রচার

না তিনি বিবাহ বিচ্ছেদের পরে আর কলকাতা ফিরে যাননি,পরবর্তী জীবন উৎসর্গ করেছেন এদেশের শিক্ষার প্রসারে জেল থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি’ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটি স্কুল পরিদর্শক’ হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৫৪ সালে তিনি আনন্দময়ী গার্লস স্কুলে প্রধান শিক্ষিকা পদে যোগদান করেন। পরে স্বল্প সময়ের জন্য তিনি আহমদ বাওয়ানী জুটমিল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পদে চাকরি করেন। জীবনের অবশিষ্ট সময় শিশুদের সেবা ও শিক্ষা বিস্তারের মধ্যে দিয়েই কাটিয়েছেন। শিক্ষা বিস্তার ও প্রসারের জন্য ’শিশু নিকেতন’ নামে একটি কিন্ডার গার্টেন প্রতিষ্ঠা করেন এবং মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।

মৃত্যু

মমতাজ বেগম ১৯৬৭ সালের ৩০ জুন ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।



জন্মসূত্রে বাংলাদেশী না হয়েও মমতাজ বেগম বাংলা ভাষার জন্য যে আত্মত্যাগ করেছেন তা আর কেউ করেনি । ভাষার প্রশ্নে সবকিছু ছেড়ে দিতে যিনি কুণ্ঠাবোধ করেননি বরং সহাস্যে সকল বিষাদ আকুণ্ঠে পান করেছেন। দীর্ঘদিন কারাবাসের পর পরিবার পরিজন কেউ না থাকা সত্ত্বে তিনি কখনো ভেঙে পড়েননি ,উল্টো এ বঙ্গের সকলকে তিনি পরিবার পরিজন ধরে নিয়ে তাদের জন্য আজীবন শিক্ষা বিস্তারে কাজ করে গেছেন। আফসোসের বিষয় এ মহিয়সী নারী সমন্ধে আমরা তেমন কিছুই জানিনা,উল্লেখ করার মত কোন সরকারি উদ্যোগ ও নেই নতুন প্রজন্মকে এ’ অতিমানবী ‘র আত্মত্যাগ জানানোর জন্য।

তথ্যসূত্র


ঊষার দুয়ারে – আনিসুল হক ( পৃষ্ঠা ৪০-৫০)