জয় বাংলার ‘ শেখের বেটি’

১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা যখন বাংলাদেশে আসেন, বাংলার জনতার বুকভরা দরদ ভালোবাসায় শেখ হাসিনা আপ্লুত হয়েছিলেন।দেশের মানুষ শেখের বেটিকে আবেগের মুর্ছনায় জড়িয়ে ছিলেন..দেশের মেহনতি মানুষের কাছে শেখ মুজিব যেমন মুজিব ভাই নামে পরিচিত ছিলেন তেমনি শেখ হাসিনা পরিচিতি পান শেখের বেটি হিসেবে.. সেই থেকে দেশের মানুষের ভালোবাসাকে সঙ্গী করে এগিয়ে চলেছেন শেখের বেটি..

সংগ্রাম


১৯৭৫ সালে পরিবারের সব হত্যার পর শরণার্থীর মত এদেশে ওইদেশে গুপ্তঘাতকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ঘুরে বেড়ানো সংগ্রামী মেয়েটির নাম শেখ হাসিনা,যিনি আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
১৯৮১ সালে দেশে আসলেন নিজের জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও এবং আওয়ামীলীগ এর সভানেত্রী নির্বাচিত হন।দেশে এসেই দল পুনর্গঠন করার চেষ্টায় দিনরাত ব্রত থাকলেন।বিভিন্ন দল – উপদলে বিভক্ত থাকা আওয়ামী লীগকে আবার সংগঠিত করলেন…তিলে তিলে পুনঃজন্ম ঘটালেন আওয়ামী লীগের সারাদেশের এপ্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ঘুরে।
১৯৮৯-৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সফলতার শেখের বেটির রাজপথে সংগ্রামের আপোষহীন মনোভাব…১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সফল নেতৃত্ব দিয়ে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটান। কিন্তু ১৯৯১ সালে নির্বাচনে দেশীয় এবং বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ক্ষমতায় আসা হয়নি।

শেখ হাসিনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন দেশকে

সফলতা

বিএনপির টানা ৫ বছরের ব্যর্থতার পর দেশের জনগণ ভুল বোঝে নিজেদের,ফলশ্রুতিতে ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসা। স্বাধীন পরবর্তী ১৯৭৫ সালের পর সবচেয়ে বেশী অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয় শেখ হাসিনার আমলেই।বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা এবং স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যবস্থা গ্রহন করেন ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে…

হত্যাচেষ্টা

বারবার ঘাতকদের দমন করেছেন , হাজারো যন্ত্রণা হাসিমুখে বরণ করেছেন



পঁচাত্তরের ঘাতকেরা সক্রিয় হয়ে ওঠে শেখ হাসিনা কে হত্যা করার জন্য আবার। ১৫ আগস্ট শেখ হাসিনাকে স্পর্শ করতে না পারা বুলেট পিছু নেয় আবার। দেশে ফেরার পর বাবার মতো তাঁকেও হত্যার চেষ্টা হয়েছে বহুবার।হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রপতি থাকাকালে দুটি, ১৯৯১ থেকে ’৯৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের আমলে চারটি, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে চারটি, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে চারটি, সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে একটি এবং আওয়ামী লীগের বর্তমান আমলে চারটি হত্যা চেষ্টা।অনেকবার (১৯ বার) হত্যাচেষ্টার শিকার হওয়া সত্ত্বেও শেখের বেটি উদ্যম হারাননি। সমস্ত চক্রান্ত কাটিয়ে সৃষ্টিকর্তার অপার মহিমায় শেখ হাসিনা আবার প্রবল প্রতাপে চালকের আসনে বসেন..

কিন্তু ২০০১ সালে আবার বিএনপিকে ক্ষমতায় বসায় বিদেশী অপশক্তি।শেখ হাসিনার একটাই অপরাধ ছিল তিনি দেশের স্বার্থ বিকিয়ে গেস রপ্তানি করবেন না….ফলাফল যাই হওয়ার তাই হলো। দেশ আবার তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত হয়,দেশের অর্থনীতি আবার স্থবির হয়ে যায়, দেশ দুর্নীতিতে বিশ্বসেরা হয়ে যায় পরপর ৫ বছর,আন্ধকারে পতিত হয় দেশ,রাজাকারের গাড়িতে বাংলাদেশের পতাকা উঠে আবার।এরপর আসে ২০০৪ সালে ২১ শে আগস্টের হত্যাচেষ্টা।মহান আল্লাহর অপার মহিমায় এবারো তিনি বেঁচে যান নিজ দলের ২২ জন নেতাকর্মীর জীবনের বিনিময়ে।

সংকট নিরসন

সংকটে বীরদর্পে শেখের বেটি



২০০৭ সালে এক এগারোর প্রেক্ষাপটে নিজ দলের লোকেরা তার সাথে বেঈমানী করলো,তারপরেও তিনি ভেঙে যান নি,বঙ্গবন্ধুর রক্ত যে তার শরীরে বহমান তিনি তা আবার প্রমাণ করলেন প্রবল মানসিক শক্তি দিয়ে জেলে বন্দী থাকা অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও।দোর্দন্ড প্রতাপে আবার বীরের বেশে আওয়ামী লীগ কে আবার সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী করে তোলেন। জেলে অবস্থায় বাবার অসমাপ্ত আত্মজীবনীর কাজ শুরু করেন।

বিজয়ের গল্প


২০০৮ সালে জেল থেকে মুক্তি পেয়ে নির্বাচনের জন্য কাজ শুরু করেন ডিজিটাল বাংলাদেশ আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে। ২০০৯ সালে আবার দেশের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলেন ২০০৮ সালের ২৯ শে ডিসেম্বর এর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে৷ ২৬২ টি আসন জিতে নির্বাচনে বাজিমাত করেন মুজিবের আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।ক্ষমতা গ্রহণের কয়েকদিনের মধ্যেই সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র বিডিআর বিদ্রোহের মাধ্যমে,এক্ষেত্রে ও সৃষ্টিকর্তা সহায়।

এরপরের গল্পটি শুধু এগিয়ে যাওয়ার, স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের৷ স্বপ্নের বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সরকার প্রথমেই বিদ্যৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করে, এখন দেশের বিদ্যৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২০০০০ মেগাওয়াট।২০২১ সালের মধ্যে দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা হবে।ক্লাসরুম ডিজিটালাইজেশন হতে শুরু করে স্যাটেলাইট পাঠানো মহাকাশে সবই শেখের বেটির অবদান।রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র শেখ হাসিনার সাহসী পদক্ষেপ।এককালে এদেশের মানুষ বিদ্যুৎ পেতনা আর এখন সরকার দেশের চাহিদা মিটিয়ে বাইরে রপ্তানীর পরিকল্পনা করছে। খালি বিদ্যুৎ না দেশের অবকাঠামোগত, স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বাংলাদেশ স্মরণকালের সবচেয়ে ভাল সূচকে অবস্থান করছে।সারা দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ শেখ হাসিনার আমলেই।ধর্মীয় সম্প্রতি সবচেয়ে সুন্দর অবস্থায় আছে বর্তমানে।জঙ্গি দমন বা যেকোন ধরণের সন্ত্রাস মোকাবেলায় শেখ হাসিনা সবচেয়ে বেশি সফল।

পদ্মাসেতু হতে শুরু করে মেঘনা গোমতীসহ অসংখ্য সেতু,অসংখ্য ফ্লাইওভার, সারাদেশের হাইওয়ে গুলোর চার লেনে রুপান্তর,কৃষিক্ষেত্রে ভর্তুকি,বেকার তরুণদের আইটি প্রশিক্ষণ,মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি,নতুন বিশ্ববিদ্যালয় , মেডিকেল কলেজ স্থাপন,মেট্রোরেলের কাজ,শিক্ষার হার বৃদ্ধি,অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ,সমুদ্রসীমা বিজয়,ছিটমহল স্থানান্তর, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা,কৃষিক্ষেত্রে ভর্তুকি,মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহতদের পুনর্বাসন, কোটা ব্যবস্থার সংকার সহ অসংখ্য কাজ করে যাচ্ছেন বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করতে।

তবে শেখের বেটির সবচেয়ে বড় সফলতা বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিচার ও দেশের প্রধান রাজাকারদের বিচারকাজ সম্পূর্ণ করা ।

দেশের ভাগ্য পরিবর্তনে আত্মত্যাগ


আর একাজগুলো করতে তিনি দিনে মাত্র ৫ থেকে সাড়ে ৫ ঘন্টা ঘুমান শেষ কয়েকছর ধরে।হ্যা ইনিই শেখের বেটি যিনি বাবার স্বপ্নপূরণে নিজের আরাম আয়েশ বাদ দিয়ে নিজের আশা আকাঙ্ক্ষাকে নিজের দেশের মানুষের দিনবদলের সাথে সম্মিলন ঘটিয়েছেন।শেখ হাসিনা স্বজন হারানোর ব্যাথা নিয়ে যেভাবে দেশের জনগণের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন তা নিঃসন্দেহে প্রসংসার দাবিদার,শেখ হাসিনার দেখানো পথে যদি বাংলাদেশ আগামী ৫০ বছর হাটতে পারে তাহলে স্বাধীনতার ১০০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের কাতারে থাকবে।

তরুণ প্রজন্মের জন্য আদর্শ



তরুণ সমাজ শেখের বেটিকে দেখে শিখতে পারে কীভাবে নীতি ও নৈতিকতা ধরে রেখে শুন্য থেকে সফলতার সর্বোচ্চ শিখরে আরোহন করা যায়। তরুণেরা সামান্য ধাক্কা খেলেই হাল ছেড়ে দেয়, তারা শেখ হাসিনাকে দেখে শিখতে পারে কীভাবে হাজারবার ধাক্কা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে, ষড়যন্ত্র বা বিপদ মোকাবেলা করে দেশের মানুষের জন্য নিজ স্বার্থত্যাগ করে একনিষ্ঠভাবে কাজ করা যায় কোন কিছু পাওয়ার আশা না করেই।আমদের তরুণ প্রজন্ম মমতাময়ী থেকে কয়েকটা গুণ শেখা উচিৎ তা হচ্ছে সততা,আদর্শ, দৃঢ় মনোবল ও আত্মবিশ্বাস,এছাড়া শত ঘাত প্রতিঘাতেও নিজ আদর্শ, নীতি ও আদর্শ থেকে কক্ষচ্যুত না হতে ও শেখা উচিৎ।শোককে শক্তিতে পরিণত করার শিক্ষাও আমরা শেখের বেটি থেকে পাই ।


বর্তমানে ২০২০…আমরা শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি। প্রকৃতপক্ষে আমরা জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি না,শেখ হাসিনার কীর্তির সফলতা উদযাপন করছি।বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক, সামাজিক অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সবচেয়ে সুন্দর সময় অতিবাহিত করছে দেশ হাসু আপার আমলে।সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা শেখের বেটি যেন শতবর্ষী হোন, জীবদ্দশায় বাংলাদেশকে যেন উন্নত দেশে দেখে যেতে পারেন…