খালেদ মোশাররফ কিংবা কর্ণেল তাহের বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নিতে নয় ক্ষমতা দখলের জন্য অভ্যুত্থান করেছিলেন।

“খালেদ মোশাররফ বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নিতে ৪ নভেম্বর অভ্যুত্থান ঘটিয়েছিলেন” এটা একটা ডাহা মিথ্যা। মিথ্যা মানে এর চাইতে বড় মিথ্যা আর নেই।

বঙ্গবন্ধু হত্যার চার মাস অতিবাহিত হবার পরও খালেদ মোশাররফ যেখানে নূন্যতম প্রতিবাদ করেনি। উল্টো অভ্যুত্থান করেই খালেদ মোশাররফ ক্ষমতা দখলের পর তার ভাগিনা ফারুক সহ বঙ্গবন্ধুর সকল খুনিকে বিদেশে পালিয়ে যেতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছিলেন তিনি , এমনকি ৪ নভেম্বর ক্ষমতা দখল করে মোশতাককে হাতে পেয়েও জামাই আদরে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন এই খালেদ মোশাররফ। পাল্টা অভ্যুত্থানে খালেদ মোশাররফের ক্ষমতা দখল প্রধান উদ্দেশ্য ছিল অন্য কিছু নয়।

অভ্যুত্থান সফল হওয়ার পর খালেদ মোশাররফ



অন্যদিকে কর্ণেল তাহের তো অনেকবার জাসদের মিটিং কিংবা জনসভায় প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধুকে হটিয়ে কিংবা রক্তপাতের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ৪ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি জিয়ার সহযোগীই ছিলেন। এমনকি সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বেতার ভবনে ইনু সহ তাহের মোশতাককে অভিনন্দন জানাতে গিয়েছিল।

১৫ আগস্টের ঘটনা প্রবাহ থেকে খালেদ মোশাররফ কিংবা কর্নেল তাহেরকে আলাদা করার সুযোগ নেই। জিয়া মোশতাক বিদেশী শক্তির সাহায্যে মাস্টার প্ল্যান করলেও কর্নেল তাহের কিংবা খালেদ মোশাররফ এসব সমন্ধে ভালই অবগত ছিলেন। এমনকি ৩ নভেম্বরে জাতীয় চার নেতা হত্যার খবর শুনেও খালেদ মোশাররফ কোন প্রতিক্রিয়া দেখাননি মোশতাকের নির্দেশে হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে জেনেও,অথচ মোশতাক তখন খালেদ মোশাররফের কাছে বন্দী ছিল।

ছবি: গেরিলা ৭১



১৫ আগস্টের ঘটনায় সুবিধাবাদী মনোভাবই খালেদ মোশাররফ কিংবা তাহেরের নির্মমভাবে জিয়া এবং তার অনুগতদের দ্বারা হত্যার শিকার হয়েছিলেন সত্য কিন্তু খালেদ মোশাররফ কিংবা কর্ণেল তাহের ক্ষমতায় বসার সুযোগ পেলে জিয়ার মত নৃশংস হতেন এ নিয়ে দ্বিমতের সুযোগ কম।

হ্যা এটা ঠিক মুক্তিযুদ্ধের বীর সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফকে যেভাবে হত্যা করেছে তাহের এবং জিয়ার সৈনিকেরা ,আবার তাহেরকে জিয়া যেভাবে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে তার বিচার হওয়া উচিৎ এবং সাথে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।

ছবি: গেরিলা ৭১



তবে কর্নেল তাহের কিংবা খালেদা মোশারফের প্রতি আলাদা দরদ দেখানোর কিছু নেই কারণ তারা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে কোন প্রতিক্রিয়া দেখাননি বরং বঙ্গবন্ধুর খুনি মোশতাক জিয়া – ফারুক, রশিদের সাথে আতাত করে বাংলাদেশে স্বাধীনতাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছিলেন! খালেদ মোশাররফ এবং কর্ণেল তাহেরের বঙ্গবন্ধু হত্যায় যোগসাজশ নিয়ে গবেষণা দরকার,এরা খুব সম্ভবত বঙ্গবন্ধু হত্যার খুটিনাটি সমন্ধে ওয়াকিবহাল ছিলেন এবং খুনিদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।