বাংলাদেশ কেন বাঙালি জাতির দেশ!

অনেক লেবাসধারী ছাগু যারা প্রশ্ন রাখছে বাংলাদশ কেন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ার পরও কেন ইসলামী রাষ্ট্র না?

প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বেশিদূর যাওয়া লাগবেনা, উপ্রে থুথু মারেন নিজ মুখেই এসে পড়বে।

আপনার ঘরে যদি আপনার দাদা বেঁচে তাকে জিজ্ঞেস করেন আপনারা কি পাকিস্তানের পক্ষে না বিপক্ষে ছিলেন? তখন বুঝে যাবেন বাংলাদেশ কেন ধর্মরাষ্ট্র না।

আপনাদের ধর্মীয় গুরু যারা আজ ইসলামী রাষ্ট্রের স্লোগান তুলে তাদের জিজ্ঞাসা করবেন আপনাদের ভূমিকা কি ছিল ৭১ এ? কেন ৭১-৭৫ পাকিস্তান,লিবিয়া লন্ডনে পালিয়ে গিয়েছিলেন কিংবা আত্মগোপনে কেন ছিলেন?

উত্তর পেয়ে যাবেন!



ছয় দফা, ঊনসত্তরের গণ অভ্যুত্থান,একাত্তরের জন্মযুদ্ধ কোন ধর্মীয় রাষ্ট্রের জন্য হয়নি ,কেন হয়নি?

কারণ পাকিস্তানের শোষণের একমাত্র অস্ত্র ছিল ইসলামের দোহাই দিয়ে বাঙালিকে তাদের দাস বানিয়ে রাখা। পাকিস্তানীদের হাত থেকে বাঙালি জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করার জন্য বাঙালি জাতীয়তাবাদ ছিল বাঙালির পাশে । তোমরা যে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিরোধিতা করে এই বাঙালি জাতীয়তাবাদের উপর ভিত্তি করেই বাঙালি ২৪ টা বছর লড়াই করে ধর্মীয় রাষ্ট্রের লেবাস পরা পাকিস্তান থেকে বের হয়ে এসেছিল বাংলাদেশ নামক দেশের অভুদ্বয় ঘটেছিল।

আরো বেশি জানার ইচ্ছে থাকলে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার দেখে আসো ১৯৭০ এর নির্বাচনের।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে ধর্মনিরপেক্ষ দল হওয়ার পরেও আওয়ামী লীগকে ৯৯% আসনে ভোট দিয়ে দিয়ে নির্বাচিত করেছিল এদেশের মানুষ ? তখনো তো দেশে ৯০% মুসলামান ছিল তাই না? অথচ সেবারো ৯০% মুসলিমের দেশে আপনাদের পেয়ারে পাকিস্তানের সকল ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের সকলে মিলে ৬% ভোট পায়! বুঝুন ১০০ জনে ছয় জন! আপনাদের জন্য আরো দুঃসংবাদ এই ৬ জনের যারা জামাত বা অন্যন্য ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের সবাই রাজাকার,আলবদর, আল শামসে যোগ দিয়েছিল পেয়ারে পাকিস্তান রক্ষা করতে!

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র



এরপরেও যদি প্রশ্ন থেকে থাকে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র,কিংবা স্বাধীনতার ইশতেহার আরেকবার পড়ে আসুন। আর এরপর ও যদি জানার ইচ্ছে থাকে তাহলে চরমপত্র পড়ুন,তাহলে পরিস্কার বুঝে যাবেন বাংলাদেশ কেন ধর্ম রাষ্ট্র না!!

হ্যা একমাত্র বাহাত্তরে তখনই বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম থাকতো যখন গোলাম আযম,নিজামী সাঈদীরা সংবিধান লিখতো। অবশ্য তখন নতুন করে সংবিধান লেখার প্রয়োজন হতনা , কারণ ৭১ এ বাঙালি জাতি পরাজিত হলে এখনো বাংলা পাকিস্তানই থাকতো।

১৯৭১-৭৫ এরাই অর্থাৎ আপনাদের বাপ, দাদা , ধর্মীয় গুরুরা আবার দেশ থেকে হাওয়া হয়ে গিয়েছিল। এখন সে দেশে আপনি আপনার রাজনৈতিক স্বপ্ন হাসিল করতে চান ইসলামের নামে!

এরপর তো মোশতাক জিয়া গ্যাং বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে বাংলাদেশকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র করার ঘোষণা দিয়েছিল? কই করেছে তারা? করেনি!

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট কীভাবে খুন হত্যার মাধ্যমে করেছিল এরা একটু দেখুন এবং ভাবুন।

খন্দকার মোশতাক – বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর বাংলাদেশকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র করার ঘোষণা দেয়! বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে রেডিওতে এসে বলে “দেশে ইসলামী মূল্যবোধের সরকার ক্ষমতায় এসেছে”

জিয়া – ৩১৮৬ জন সেনা কর্মকর্তাকে বিনা বিচারে হত্যা করে ঘটনা আড়াল করতে সে সংবিধানে বিসমিল্লাহ যোগ করে! একদিকে সামরিক কারাগারে বিনা বিচারে ৩১৮৬ জন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ফাঁসি দেওয়া হয়,অন্যদিকে জিয়া সংবিধানে বিসমিল্লাহ যুক্ত করে পুরো ঘটনা আড়াল করে দেয়!

এরশাদ – সারাদেশে মানুষ যখন এরশাদের শাসনে ক্রুদ্ধ, বিক্ষুব্ধ হয়ে যায় তখন এরশাদ সেই পুরোনো অস্ত্র ব্যবহার করে,রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ঘোষণা করে সব অপকর্ম আড়াল করে ফেলেছিল। শুধু আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রধর্ম করার বিরোধিতা করেনি বরং জামাত ও প্রতিবাদ করেছিল এমনকি বিএনপিও প্রতিবাদ জানিয়েছিল রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম করার প্রতিবাদ!🙄 কয়েকদিন দেশের সকল রাজনৈতিক দলের স্বতস্ফূর্ত হরতাল পালন করেছিল !

আচ্ছা এই ভাবে রাষ্ট্রধর্মে কায়েম কি ইসলাম সমর্থন করে 🙂? ইসলামের ইতিহাসে একরকম নজির আছে?

একজন মুসলিম হিসেবে এভাবে দেশে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য যেভাবে নরখাদকরা ইসলাম কে ব্যবহার করেছে তখন সত্যিই লজ্জা আসে!

অবৈধ স্বৈরাচারীদের অবৈধভাবে সকল ডিক্রি অবৈধ ঘোষণা করে বাহাত্তরের সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা ছাড়া দেশে উগ্র ধর্ম ব্যবসায়ীদের আস্ফালন বন্ধ হবেনা।

আর সবচেয়ে বড় কথা বাংলাদেশের মানুষ ধর্ম ব্যবসায়ীদের চিনে তাইতো প্রত্যেক জাতীয় নির্বাচনে ৪-৫% এর বেশি ভোট পায়না 🥴 ।

তাহলে কি বাংলাদেশের মানুষের ধর্ম নাই ওদের ভোট দেয় না বলে? 🙂

আরো কিছু পয়েন্ট বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া ,মালয়েশিয়া কিংবা তুরস্ক ও ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। আপনারা যাদের আব্বা ডাকেন তারাও ধর্মনিরপেক্ষ দেশ!

মানুষ শান্তি চায় ,মানুষ ধর্মের নামে হানাহানি চায় না ,মানুষ ধর্ম পালন করতে চায় নির্বিঘ্নে ,ধর্ম নিয়ে অহেতুক বাড়াবাড়ি চায় না এজন্যই বারবার ধর্ম ব্যবসায়ীদের প্রত্যাখ্যান করে।

আর একটা কথা ১৯৭১ এ নির্ধারিত হয়ে গেছে এদেশ বাঙালির ,এদেশ সকল ধর্ম, বর্ণ,মতের। এখন ৭১ এ মীমাংসিত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলে কাদের উত্তরসূরিরা আশা করি বোঝা হয়ে গেছে।

আর উত্তরসূরিদের বোঝা হয়ে গেছে কেন বাংলাদেশ ধর্ম রাষ্ট্র না।

……………………………………

স্বাধীনতার ইশতেহার

১৯৭১ সালের ৩ মার্চ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন পল্টন ময়দানে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের ডাকা ছাত্র জনসভায় আকস্মিকভাবে উপস্থিত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এ সভায় বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। সেদিনই সভা থেকে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের চার নেতা নূরে আলম সিদ্দিকী, শাজাহান সিরাজ, আ স ম আবদুর রব ও আবদুল কুদ্দুস মাখন স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার শপথ গ্রহণ করেন।

স্বাধীনতার ইশতেহারে বলা হয় –

৫৪ হাজার ৫০৬ বর্গ মাইল বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকার সাত কোটি মানুষের জন্য আবাসভূমি হিসেবে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের নাম বাংলাদেশ।

এই দেশ গঠন করে তিনটি লক্ষ্য অর্জন করতে হবে: ১. স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠন করে পৃথিবীর বুকে একটি বলিষ্ঠ বাঙালি জাতি সৃষ্টি ও বাঙালির ভাষা, সাহিত্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি বিকাশের ব্যবস্থা করতে হবে। ২. স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠন করে অঞ্চলে অঞ্চলে, ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে বৈষম্য নিরসনকল্পে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি চালু করে কৃষক শ্রমিক রাজনীতি কায়েম করতে হবে। ৩. স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠন করে ব্যক্তি, বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতাসহ নির্ভেজাল গণতন্ত্র কায়েম করতে হবে।

এছাড়া বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলন পরিচালনার জন্য গ্রহণ করতে হবে পাঁচটি কর্মপন্থা: ১. বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম, মহল্লা, থানা, মহকুমা, শহর, জেলায় দস্বাধীনতা সংগ্রাম কমিটি’ গঠন করতে হবে। ২. সকল শ্রেণীর জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা ও তাদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। ৩. শ্রমিক এলাকায় শ্রমিক ও গ্রামাঞ্চলে কৃষকদের সুসংগঠিত করে গ্রামে গ্রামে, এলাকায় এলাকায় দমুক্তিবাহিনীদ গঠন করতে হবে। ৪. হিন্দু-মুসলমান ও বাঙালি-অবাঙালি সাম্প্রদায়িক মনোভাব পরিহার এবং সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। ৫. স্বাধীনতা সংগ্রামকে সুশৃঙ্খলতার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষা এবং লুটতরাজসহ সকল প্রকার সমাজবিরোধী ও হিংসাত্মক কার্যকলাপ বন্ধ করতে হবে।