ধর্মনিরপেক্ষতা এবং বাংলাদেশ



লেখক :– রাজিত তাহমীদ জিত
—————————————————————-


এক ১৫ই আগস্ট দেশটাকে একেবারে শেষ করে দিল!! বঙ্গবন্ধুর সেই অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ আর পাওয়া সম্ভব নয়।মানুষের অন্তরে, হৃদয়ে, মস্তিষ্কে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প মারাত্মকভাবে ঢুকে গেছে। ১৯৭৫ থেকে শুরু করে ২০০৮ পর্যন্ত সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প বাঙালির অন্তরে প্রবেশ করানো হয়েছে। মোশতাক-জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়া অত্যন্ত সুকৌশলে, দক্ষতার সাথে এই কাজটা করেছেন ৩০ বছর ধরে।

১৫ই আগস্টের পর খন্দকার মোশতাক আহমেদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নাম পরিবর্তন করে পাকিস্তানি ভাবধারায় “ইসলামিক রিপাবলিক অব বাংলাদেশ” করলো।’জয় বাংলা’ পরিবর্তন করে পাকিস্তানি স্টাইলে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ করা হলো।তারপর রক্তারক্তির মধ্য দিয়ে জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের নামে ধর্মভিত্তিক, স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে অবাধে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিলেন।গোলাম আযম বাংলাদেশে ফিরে এসে জামাতকে সংগঠিত করার কাজ করতে থাকলো।এভাবে জিয়াউর রহমান ধর্মনরপেক্ষতার চেতনাকে ধ্বংস করে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে বৈধ করে দিলেন। পুনর্বাসিত করলেন জাতির জনকের হত্যাকারীদের। ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর জিয়ার নির্দেশেই হত্যা করা হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা বিগ্রেডিয়ার খালেদ মোশাররফকে। খালেদ মোশাররফের মৃতদেহে তিনি জাতীয় পতাকা দেন নি ;বরং স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে তার গাড়িতে তিনি জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছিলেন। জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরী স্বৈরাচারী জেনারেল এরশাদও দাপটের সাথে দীর্ঘ সময় বাংলার মাটিতে রাজত্ব করতে পেরেছিলেন।ধর্মনিরপেক্ষতার উপর আবারো ছুরিকাঘাত করে তিনি রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ঘোষণা করলেন।যদিও তিনি নিজে রাসুলের সুন্নত দাড়ি রাখেন নি।আলহজ্ব হয়েছিলেন, আবার নারী কেলেঙ্কারির ঘটনাও কম নয়।
এরপর জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি জামাত জোট সরকার ক্ষমতায় আসে।বেগম খালেদা জিয়াও রাজাকার দেলোয়ার হোসেন সাইদী, কাদের মোল্লা, আলী আহসান মুজাহিদ, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীদের মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়ে ৩০ লক্ষ শহিদের রক্তের সাথে চরম বেইমানি করেন।

স্বাধীনতাবিরোধীর এই সুদীর্ঘ দুঃশাসনই বাংলার ধর্মপ্রাণমানুষের মন, মস্তিষ্ক ও জীবনে সাম্প্রদায়িকতা ও উগ্রবাদিতার বিস্তার ঘটিয়েছে, যার ফলশ্রুতিতে আজকে জামাত-শিবিরের এত শক্তি, তাণ্ডব, অপপ্রচার, শক্তি-সমর্থন।আজও এরা বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক করতে চায়, এখনো এরা বাংলার মাটিতে সাদা-সবুজের পতাকা ওড়ানোর স্বপ্ন দেখে।

আজও দেশের বিশাল সংখ্যক মানুষ মনে করে, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বা আল-বদর বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড আলী আহসান মুজাহিদকে ফাঁসি দেওয়া ভুল হয়েছে।এখনো এদেশের মানুষ দেলোয়ার হোসেন সাইদীর মুক্তি চায়।তাদের যুক্তি — তিনি একজন আলেম।তিনি কীভাবে মানুষ হত্যা করতে পারেন??? তিনি তো আলেম, তিনি কোন খারাপ কাজ করতেই পারেন না।তিনি তো কুরানের পাখি, তিনি নিষ্পাপ, কনফার্ম জান্নাতি।
আর তাদের বিরুদ্ধে কিছু বললেই আমাদেরকে বলা হয় “নাস্তিক”, “মুর্তাদ”, “ভারতের দালাল”। যদিও আমরা ধর্মকে অস্বীকার করিনি, ধর্মের অবমাননা করে কোনো কথা বলিনি,আল্লাহ-রাসুলের অবমাননা করে বা অন্য ধর্মের কোন দেব-দেবীর অবমাননা করে কোনো কথা বলিনি।আমরা বাংলাদেশে ভারতীয় আগ্রাসন বা ভারতে চলমান মুসলিম নির্যাতন, এনআরসি, সিএএ, বিজেপি সরকারের কট্টর হিন্দুত্ব, গোরক্ষার নামে মুসলিম নিধন, সীমান্ত হত্যা ইত্যাদির পক্ষে বলিনি।

আমরা বলেছি স্বাধীনতাবিরোধী পরাজিত শক্তির বিরুদ্ধে, মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে,দুঃশাসনের বিরুদ্ধে, ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে।আর শুধু এজন্যই শুনতে হয় ” ভারতের দালাল”। ২ নং সেক্টরের কমান্ডার ও ‘কে’ ফোর্সের অধিনায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা বিগ্রেডিয়ার খালেদ মোশাররফকেও রুশ-দিল্লীর দালাল আখ্যা দিয়েই ৭ই নভেম্বর হত্যা করা হয়েছিল। ১৯৫২ সালের ভাষা সৈনিকদের পাকিস্তান সরকার ‘ভারতের চর’, ‘কমিউনিস্ট’, ‘হিন্দু’ আখ্যা দিয়েছিল।একইভাবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদেরকেঈ পাকিস্তান সরকার বলেছিল ‘ইন্ডিয়ার দালাল’।অতএব, দেশপ্রেমিক, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ মাত্রই পাকিস্তানপন্থীদের নিকট ‘ভারতের দালাল’।এ তো নতুন শোনা কোনো শব্দ নয়।এই শব্দ তো সেই ৫২ থেকেই শুনে আসছি।রাজাকারদের উত্তরসূরীরা আজও তাদের ‘বাবাদের’ ন্যায় আমাদেরকে বলে ‘ভারতের দালাল’।
অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠার কথা বললেই জামাত-শিবির রাজাকাররা আমাদের গায়ে তাদের পূর্বসূরী পাকিস্তানিদের ন্যায় ‘ভারতের দালাল’ বা ‘নাস্তিকের’ তকমা লাগানোর চেষ্টা করে।এ তো তাদের সহজাত প্রবৃত্তি ব্যতীত কিছুই নয়।

ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বাংলাদেশের অস্তিত্বের সাথে মিশে রয়েছে।এদেশ পাকিস্তানের মতো ইসলামের ভিত্তিতে স্বাধীন হয়নি, এদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ এক বাঙালিত্বের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে।এই দেশের মুক্তির জন্য কেবল মুসলমান রক্ত দেয়নি, এদেশের মুক্তির জন্য হিন্দু রক্ত দিয়েছে, হিন্দু নারীর সম্ভ্রমহানি হয়েছে এদেশের স্বাধীনতার জন্য।এদেশের মাটিতে হিন্দুর রক্তও লেগে আছে।এখন পাকিস্তানের দালালরা বলবে, হিন্দুরা তো সব ইন্ডিয়ায় পালিয়ে গেছিল। মুসলমানরাই বেশি লড়াই করেছে দেশের জন্য।তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, দেশের জন্য মুসলিম যেমন রক্ত দিয়েছে, হিন্দু তেমনই রক্ত দিয়েছে। এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ-সংখ্যালঘিষ্ঠ বলে কিছু নেই।এদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ, কাজেই স্বাভাবিকভাবে মুসলিমরাই যুদ্ধে বেশি অংশগ্রহণ করেছিল — এই মানদণ্ডে স্বাধীনতা বিচার করলে তো হবে না।হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই ভূখণ্ডের মুক্তির জন্য জীবন দিয়েছে, লড়াই করেছে।কীসের ভিত্তিতে তাঁরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন বলুন তো?? তাঁরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল বাঙালি জাতিত্ববোধের ভিত্তিতে।আমরা সবাই বাঙালি, আমরা সবাই এক বাঙালি সংস্কৃতি লালন করি, এক ভাষায় কথা বলি।আমাদের এই ভূখণ্ড বাঙালি জাতির ভূখণ্ড।এই জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে দেশের সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মরণপণ সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।অতএব, সেই রাষ্ট্রে কোন সাম্প্রদায়িক সংবিধান যদি করা হয়, তা হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থী।পাকিস্তানের স্বাধীনতা ছিল মুসলিম লীগের দাবি।পাকিস্তান স্বাধীন হয়েছিল দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে, যার উত্থাপক ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্। আর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল এক বাঙালিত্বের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে।কাজেই সাম্প্রদায়িক কট্টর ইসলামিস্ট রাজনীতি করতে হলে আপনাদের প্রাণের দেশ পাকিস্তানে গিয়ে করুন।

এখন ভারতের বিষয়ে আসি।শুরুতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিতে দেশ স্বাধীনের আন্দোলন চালালেও পরবর্তীতে মুসলিম লীগ মুসলমানদের ও কংগ্রেস প্রধানত হিন্দুদের রাজনৈতিক দল হিসেবেই আবির্ভূত হয়েছিল।কংগ্রেসের দাবি ছিল অবিভক্ত ভারত। ধর্মের ভিত্তিতে মুসলমানদের আলাদা পাকিস্তান রাষ্ট্রের ধারণা মুসলিম লীগই তুলে ধরে।শেষে ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ হয়।মুসলিম সংখ্যালঘু অংশ নিয়ে ভারত সৃষ্টি হয়।ভারতবর্ষ ঐতিহাসিকভাবে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র, সকল ধর্মের মানুষের সহাবস্থান ভারতবর্ষের বৈশিষ্ট্য।ভারতের জাতীয় সংগীত ”জনগণ মন অধিনায়ক জয় হে” গানে ভারতে বসবাসকারী বিভিন্ন ধর্ম- হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ,খ্রিষ্টান, শিখ, জৈন, পারসিক ইত্যাদির কথা বলা হয়েছে।

কিন্তু বর্তমান ক্ষমতাসীন কট্টরপন্থী বিজেপি সরকার ধর্মনিরপেক্ষ ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্র, একটি সাম্প্রদায়িক হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের যুক্তি এই যে, ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ হলে ভারত হিন্দুরাষ্ট্র নয় কেন? ভারত-পাকিস্তান বিভক্ত হয়েছিল হিন্দু-মুসলিম দুই ধর্মের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে।তাহলে পাকিস্তান যদি ইসলামিক রিপাবলিক হয়, তবে ভারত কেন হিন্দুপ্রজাতন্ত্র হবে না??

এই যুক্তির উপর দাঁড়িয়ে হিন্দুত্ববাদী মোদী সরকার সাম্প্রদায়িকতাকে, হিন্দুত্বকে ভারতের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে দিচ্ছে।গোরক্ষার নামে ভারতে মুসলিম নিধন, মুসলমান নির্যাতন, এন আর সি, সিএএ ইত্যাদির মাধ্যমে বিজেপি সরকার চরম দুঃশাসন চালাচ্ছে ভারতে।বিজেপির নেতারা কথায় কথায় বলেন, মুসলিমদের জন্য দেশভাগ হয়েছিল।অতএব, মুসলমানদের উচিত বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে চলে যাওয়া।এক বিজেপি নেতা বলেছিলেন,খুলনা থেকে সিলেট পর্যন্ত মুসলমানদের বসবাসের জন্য ভারতকে দিতে হবে।বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশকারী মুসলিমদের বিজেপি সরকার বলে অনুপ্রবেশকারী আর হিন্দুদের বলে শরণার্থী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সুদক্ষতার সাথে পশ্চিমবঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষতা টিকিয়ে রেখেছেন, তা বিজেপি নেতৃবৃন্দের সহ্য হয় না।তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের অগ্রগতির জন্য যেসব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে, সেগুলোকে বিজেপি নেতৃবৃন্দ বলে ‘মুসলিম তোষণ’।কলকাতার মেয়র একজন মুসলিম (ফিরহাদ হাকিম), এটা তাদের সহ্য হয় না, তারকেশ্বর মন্দিরের চেয়ারম্যান একজন মুসলিম (ফিরহাদ হাকিম), এটা তারা সহ্যই করতে পারেন না।রেজ্জাক মোল্লা, ফিরহাদ হাকিম তারা কেন রাজ্য সরকারের মন্ত্রিত্ব লাভ করবেন — এই প্রশ্ন বিজেপি নেতাদের সবসময় আছে।যে দেশে করোনা থেকে মুক্তির জন্য হিন্দু মহাসভা গোমূত্র পার্টির আয়োজন করে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রাধান্য পায় ভূমিপূজা, সেই দেশের তো এই অবস্থাই হবে।
এ-ই হলো পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের অবস্থা।

এখন প্রশ্ন হলো আমরা কি ভারতের এই কট্টর হিন্দুত্ববাদ ও মুসলিম নিধনকে সমর্থন করছি?? না, সমর্থন করছিনা।আমরা কি দেশকে হিন্দুরাষ্ট্রে পরিণত করার কথা বলেছি?? না আমরা বলিনি।কারণ, এটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নয়।

আমরা বলেছি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা।আমরা ভারত সরকারের এই চলমান দুঃশাসনকে সমর্থন করি না। আমরা বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠা করতে চাই, ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠা করতে চাই।এটা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চেতনা।যদি প্রশ্ন করা হয় ধর্মনিরপেক্ষতা কী??

ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়।ধর্মনিরপেক্ষতা মানে সকল ধর্মের মানুষের সমান মর্যাদা, ধর্মীয় স্বাধীনতা।এইদেশে ওয়াজ মাহফিল থাকবে, মাদ্রাসা থাকবে, গজল থাকবে,ওলি-আউলিয়ার মাজার শরীফ থাকবে, ঈদ থাকবে, আশুরা থাকবে, মসজিদ থাকবে,ইমামবাড়া থাকবে একইভাবে মন্দির থাকবে, কীর্তন থাকবে, শারদীয় দূর্গোৎসব থাকবে, জন্মাষ্টমী থাকবে, প্যাগোডা থাকবে, দোলযাত্রা থাকবে, কালীপূজা থাকবে, স্বরস্বতী পূজা থাকবে, বৌদ্ধ পূর্ণিমা থাকবে, চার্চ থাকবে, মুর্শিদি থাকবে, রবীন্দ্র সংগীত থাকবে, নজরুল সংগীত থাকবে, ভাস্কর্য থাকবে, স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের অধিকার থাকবে, আবার পালন না করার স্বাধীনতাও থাকবে ;থাকবেনা শুধু উগ্রবাদ, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,পবিত্র ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার——- এটাই ধর্মনিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ।

এই বাংলাদেশে মৌলবাদ, জঙ্গিবাদের কোন স্থান নেই।এই দেশের মাটিতে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি চলবে না, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা যাবে না।রাজনীতিতে যারা সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করে তারা হলো পাকিস্তানের প্রেতাত্মা, তারা ৭১ এর পরাজিত শক্তি, তারা রাজাকারের বংশধর।তাদের স্থান বাংলাদেশে নয়, তাদের স্থান তাদের ‘বাবাদের দেশ’ পাকিস্তানে।সুতরাং, তাদেরকে সেখানেই পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশের অস্তিত্বের সাথে মিশে আছে।দেশের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যই ধর্মনিরপেক্ষতাকে টিকিয়ে রাখতে হবে।সুদীর্ঘ সময়কাল ধরে এদেশে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির রাজত্ব চলেছে।নতুন করে আর স্বাধীনতাবিরোধীদের উত্থান হতে দেওয়া যাবে না।এদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে, এই মৌলবাদী সাম্প্রদায়িকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আবারো যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে আমাদেরকে, বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদেরকে।
আমাদের যুদ্ধ ইসলামের বিরুদ্ধে নয়, ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, আমাদের যুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, উগ্রবাদী একাত্তরের পরাজিত শক্তির বিরুদ্ধে।একাত্তরে আমরা জয়ী হয়েছি, আবারো জয়ী হব ইনশাল্লাহ্।

লেখক:

শিক্ষার্থী, ৮ম শ্রেণি, পাবনা জেলা স্কুল, পাবনা