মুক্তিযুদ্ধে জাফর ইকবালের ভূমিকা

জাফর ইকবাল কি মুক্তিযোদ্ধা? বা মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা কি ছিল?

হুমায়ূন আহমেদের ‘আমার দেখা ৭১’ বইতে উল্লেখ আছে জাফর ইকবাল বাবার খোঁজে জাফর ইকবাল ফিরোজপুর গিয়েছিলেন।কিন্তু বাবাকে রাজাকাররা ধরে নিয়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। বাবার লাশ উনি কবর খুঁড়ে লাশ শনাক্ত করেছিলেন। পরে আবার কবর দিয়েছিলেন স্থানীয় লোকজনের সহায়তায়।এরপর বরিশালের এ প্রান্ত থেকে মায়ের কাছে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে জীবন বাজি রেখে ‘বাবা আর নেই ‘ সেই খোঁজ নিয়ে মায়ের কাছে পৌঁছে দেন । এরপর তো সপরিবারে জীবন বাজি রাখার সংগ্রাম।



জাফর ইকবালের দুই প্রাপ্ত বয়স্ক বোন ছিল মুক্তিযুদ্ধের সময়,মা সহ ৩ জন মহিলার নিরাপত্তা বিধান করা সে সময়ে কতটা ভয়াবহ কল্পনা করুন একবার। জাফর ইকবাল তার মা সহ বোনদের দিয়ে দেশের ওই প্রান্তে ওই প্রান্তে জীবন বাঁচানোর জন্য পরিবার নিয়ে ছুটে বেড়িয়েছেন। কোন সময় জীবন বাঁচানোর জন্য মা বোন ভাই সহ নৌকা করে ,কিংবা গর্তে আশ্রয় নিয়ে এই জায়গা থেকে ওই জায়গা আত্মগোপনে ছিলেন মা-বোন সহ। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জাফর ইকবাল তার মা – বোনকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন নয়টা মাস অনেকটা যুদ্ধ করে! এর চেয়ে বড় যুদ্ধ কি হতে পারে আমার জানা নেই!

‘জোছনা ও জননীর গল্প’ উপন্যাসে হুমায়ুন আহমেদ তাদের পরিবারের সকলের মৃত্যুর হাত থেকে বারবার হানাদার বাহিনীর হাত থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে থাকার অনেক ঘটনা উল্লেখ করেছেন । যেভাবে পরিচিত লোকজন তার বাবা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে ছিল বিধায় বারবার পাকিস্তানীদের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিল তাদের সপরিবারে ,আশ্রয় দিতে বারবার প্রত্যাখ্যাত করেছিল এবং যেভাবে সপরিবারে অনেক সংগ্রাম করে জীবন বাজি রাখতে পেরেছিলেন সেসব ঘটনা জানলে হয়ত আর কেউ জাফর ইকবাল কিংবা হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধে অবদান নিয়ে প্রশ্ন তুলবে না।

হ্যা জাফর ইকবালের অপরাধ তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজের মা – বোনের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বিধান করেছিলেন, পাকিস্তানীদের হাত থেকে নিজের পরিবারকে রক্ষা করেছিলেন। হ্যা জাফর ইকবালের আরো বড় অপরাধ আছে তিনি সারাজীবন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলে গেছেন, স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির সাথে কোন আপোষ করেননি।
সবচেয়ে বড় অপরাধ জাফর ইকবালের যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর বিরূদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া! ছাগু বাহিনী এজন্যই জাফর ইকবালের উপর মহা ক্ষেপা।

’ভাটি এলাকার মুক্তিযুদ্ধ আমার অহংকার’
সালেহ চৌধুরী, এরিয়া কমান্ডার, ভাটি অঞ্চল। তাঁর বইয়ে উল্লেখ করেছেন- এক তরুন চিঠি পাঠিয়েছিলেন ছোট ভাই সহ এসে যোগ দিতে চান মুক্তিবাহিনীতে।
সেই তরুনের পুলিশ অফিসার বাবাকে গুলী করে হত্যা করেছে পাকিস্তান আর্মি সুদূর বরিশালের পিরোজপুরে। সেখান থেকে এসে তারা আশ্রয় নিয়েছে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে নানাবাড়িতে, নানা পাকিস্তানপন্থী এবং শান্তিকমিটির নেতা। মোহনগঞ্জ থেকে লুকিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন এই তরুণ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের কাছে। যুদ্ধে ব্যস্ত কমান্ডারের সময় সুযোগ ছিলোনা শহীদ পুত্রদ্বয়কে উদ্ধার করে নিয়ে আসার।
না, সেই তরুন তার ছোট ভাই সহ আর যুদ্ধে যোগ দিতে পারেনি। তাদেরকে ঢাকা চলে যেতে হয়েছিলো। তবে তারা ভয়ে গর্তে লুকিয়ে থাকেনি!
সমস্যা হচ্ছে, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশে এমন সব গরু ছাগলের উৎপাদন হয়েছে যারা বই পড়েনা, যুক্তি ও বিবেক দিয়ে চিন্তা করতে পারেনা। এই গরু ছাগলরা খোঁয়াড়ে না থেকে সোশ্যাল মিডিয়া আর টিভিতে এসে তাদের আব্বুদের বলে দেয়া মুখস্ত বয়ান জম্বির মতো জপতে থাকে ‘ জাফর ইকবাল গর্তে লুকিয়ে ছিলো, শাহরিয়ার কবীর মুরগী সাপ্লাই দিতো… ’ @হাসান মোরশেদ



কাদের সিদ্দিকী, জাফরউল্লাহ,এ কে খন্দকার কিংবা অন্য প্রতিক্রিয়াশীল মুক্তিযোদ্ধাদের মত দ্বিচারী আচরণ করেননি,তাদের মত স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির সাথে কখনো আপোষ করেননি,এদের মত স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির হাত শক্তিশালী করার চেষ্টা করেননি জাফর ইকবাল।এজন্যই রাজাকার ও তাদের বংশধর,এবং নব্য ছাগুদের কাছে তিনি যে দু-চোখের বিষ ।ছাগুরা বারবার মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান নিয়ে প্রশ্ন তোলে,অথচ ছাগুরা ভুলে যায় তাদের বাপ- দাদা, রাজনৈতিক গুরুরা সরাসরি খুন ,ধর্ষণ ,ডাকাতিতে জড়িত ছিল ১৯৭১ সালে। তাদের নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ভুলে যায় এই ছাগুরা আবার!!

অপশক্তির সাথে কখনো আপোষ করেননি তিনি



এজন্যই তারা তাকে বারবার হত্যা চেষ্টা করতে উদ্যত হয় নাস্তিক ,মুরতাদ ইত্যাদি খেতাব দিয়ে।অথচ তিনি নামাজ ও পড়েন। জাফর ইকবাল অনেক বড় উদার মনের মানুষ “যে তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল তার সাথে দেখা করে তাকে খুন করার চেষ্টার কারণ ও জানতে চেয়েছেন”। না তার কোন বিদ্বেষ ছিল না উগ্র মৌলবাদী খুনীর প্রতি।

জাফর ইকবাল ইকবাল স্যার ১৯৭১ এ সপরিবারে বেঁচে এসেছেন ,তাকে একাত্তরের পরাজিত শক্তি যতই কোপের ভয় দেখাক কোনভাবেই দমাতে পারবেনা।

হ্যা জাফর ইকবাল একজনই। তিনি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর,তিনি কোন দলের না তিনি শুধু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের। কোন রাজনৈতিক দল থেকে সুবিধা নেওয়ার ইতিহাস ও নেই তার।

শুভ জন্মদিন স্যার … শতায়ু হোন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উগ্র মৌলবাদ মুক্ত এবং বিজ্ঞানমনস্ক দেশ উপহার দেয়ার চেষ্টায় ব্রত থাকুন আজীবন।