আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার এবং মার্কিন রাজনীতি

পুরো বিশ্বে আমেরিকার ৮০০টি দৃশ্যমান সামরিক ঘাঁটি আছে,অজ্ঞাত কয়টা ঘাঁটি আছে সেটা কে জানে!।এগুলো থেকে প্রতিদিন বিশ্বের যেকোন স্থানে কয়েকবার হামলা চালানো সময়ের ব্যাপার। পুরো পৃথিবী বলতে গেলে তথ্য প্রযুক্তি এবং স্যাটেলাইটের সহায়তায় আমেরিকার ২৪ ঘণ্টা সার্ভিলেন্সে আছে। গুগল আর্থে আমরা পৃথিবীর যে ভিজ্যুয়াল দেখি তার চাইতে কয়েকশত গুন ভাল কোয়ালিটির ভিজ্যুয়াল আছে তাদের কাছে। আপনার ঘরের ভেতর কিসের উপস্থিতি আছে এটা দেখা তাদের জন্য তেমন কঠিন কিছু না।

৮০০ সামরিক ঘাঁটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের

ভাল কথা আমেরিকার আয়ত্বে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের শতাধিক আইল্যান্ড দখলে আছে… সেগুলোর প্রায় সবগুলোই আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি! ফেসবুক,গুগল, আমাজন কিংবা প্রায় প্রধান সকল হোস্টিং সার্ভিস আমেরিকার করায়ত্ব। আপনি যেখান থেকেই পোষ্ট দেন ,ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেন আপনার আইপি অ্যাড্রেস ওদের কাছে চলে যায় ,আপনার লোকেশন ট্রেস করা ওদের কাছে সেকেন্ডের ব্যাপার।আর ওদের তৈরি ডিভাইসগুলো তো আপনাকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রেখেছে,মাঝে মধ্যে আপনারা যা বলেন কিছুক্ষণের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এড দেখতে পান ,এই নিয়ে অনেকে আশ্চর্য হন এই নিয়ে। আমেরিকার যে পরিমাণ অস্ত্র আছে তা দিয়ে পুরো পৃথিবী কয়েকবার ধ্বংস করতে পারবে, পারমাণবিক অস্ত্রের কথা বাদ দিলাম।

সারা পৃথিবীতে মার্কিনী সামরিক ঘাঁটি



আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা চলে যাওয়ার ঘটনায় অনেকে জেনে কিংবা না জেনে উচ্ছাসিত। তারা মনে হয় আফগানিস্তানের বর্তমান অবস্থা জানেন না, আফগানিস্তান থেকে আমেরিকার প্রাপ্তি সর্বোচ্চ। তালেবানদের অস্ত্র দিয়ে মুজাহিদীন বলে রাশিয়াকে খেদিয়েছে,এরপর ১৫-২০ বছর আফগানিস্তান শাসন করেছে,নিজেদের প্রয়োজনে তালেবানদের মুজাহিদীন বানিয়েছে ,আবার জঙ্গি বানিয়েছে নিজেদের প্রয়োজনে। আফগানিস্তান থেকে পাওয়ার মত কোন খনিজ সম্পদ নেই আমেরিকার হতে,বছরের পর বছর খনিজ সম্পদের জন্যই এখানে ঘাঁটি গেড়েছিল,সাথে রাজনৈতিক সূত্র তো ছিলই । মোদ্দাকথা আফগানিস্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিকভাবে পুরো লস প্রজেক্ট,কিন্তু সামরিকভাবে বিশাল ফায়দা নিয়ে যাচ্ছে। আর আফগানিস্তান ছেড়ে যাচ্ছে যেটা খালি চোখে কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ায় আফগানিস্থানের আশেপাশে এখনো মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রায় ৫০ এর মত ঘাঁটি আছে।ড্রোন হামলায় পাকিস্তান মডেলে সফলতার পর আফগানিস্তানে ক্রমাগত সৈন্য কমানো শুরু করে ওবামা প্রশাসন ,সেটা বাইডেন এসে পুরোপুরি বন্ধ করেছে অফিসিয়ালি… ড্রোন হামলা চালিয়ে কয়েকবার আফগানিস্তান ধ্বংস করে দিতে পারে আমেরিকা,কিন্তু তা করবেনা কারণ নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে আমেরিকা জঙ্গীদের লালন পালন করে,সুযোগ দেয় জঙ্গিবাদের প্রসার ঘটাতে । এদিকে বিশ্ব রাজনীতিতে চীনের প্রভাব ক্রমাগত বাড়ছে,এই জন্য চীনকে প্রেসারে রাখতে আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়া অন্যতম রণকৌশল হতে পারে আমেরিকা ও ন্যাটোর।আফগানিস্তানে জঙ্গিবাদ বাড়লে আমেরিকার এখন লস নেই উল্টো লাভ, শুধু ক্ষতি আফগানিস্তানের মানুষের এবং চীনের। কারণ আফগানিস্তানের জঙ্গিদের আশু হামলার শঙ্কায় চীন মারাত্মক হুমকিতে পড়বে। সমানে হয়ত জঙ্গিবাদ বাড়লে আবার আসবে আমেরিকা ,কিন্তু চীনকেও বাধ্য করবে আসতে… এর বিনিময়ে চীন থেকে কিছু ব্যাপার দরকষাকষি করে নেবে আমেরিকা।মূলত সৈন্য প্রত্যাহার বাইডেন প্রশাসনের রাজনৈতিক কৌশল না বলে সিআইএর দীর্ঘদিনের সফল মাস্টারপ্ল্যান। বর্তমানে আফগানিস্তানে না থাকাটাই সবেচেয়ে বড় ফায়দা আমেরিকার জন্য, কারণ ওপাশে পাকিস্তান এখন চীনের আজ্ঞাবহ দাস। আফগানিস্তানে থেকে আমেরিকার প্রস্থান চীন এবং পাকিস্তানকে বিরাট হুমকিতে ফেলবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় চরম ঝাঁকুনি দিবে। হ্যাঁ আফগানিস্তানের অবস্থা বেশি খারাপ হলে ড্রোন হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা ব্যাপার না আমেরিকার জন্য।কিন্তু এখন আফগানিস্তান এখন আমেরিকার জন্য ট্রাম্প কার্ড বৈশ্বিক রাজনীতিতে !প্রয়োজনে আমেরিকা চীনকে বিপর্যস্ত করার জন্য এখন আশির দশকের মত একুশে এসে তালেবান কিংবা আল কায়েদাকে আর্থিক এবং অস্ত্র সহয়তা করবে,এবং মুজাহিদীন আখ্যা দিবে। পুরোনো স্ক্রিপ্ট।আমেরিকা পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানে অসংখ্য মাদ্রাসা তৈরি করে যেমন জঙ্গি সংগঠনের কর্মী সাপ্লাই দিয়েছিল,এবার ঠিক একই কাজ আফগানিস্তানে করবে। কারণ উইঘুররা শিনজিয়াং প্রদেশের অধিবাসী, যা একেবারে আফগানিস্থানের সাথে লাগোয়া সীমান্তে। চীন উইঘুর দেড় কোটি উইঘুর মুসলিমদের উপর অবর্ণনীয় অত্যাচার করছে। এই অত্যাচার এবং মুসলিম সহানুভূতিকে কাজে লাগিয়ে চীনের শিনজিয়াং এবং আফগান সীমান্ত সমানে বিশাল ব্যাটলফিল্ড তৈরি করা আমেরিকার প্রধান লক্ষ্য। মখেলা এটাই! মূলত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চীনের প্রভাব কমানোই যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য। জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটিয়ে চীনের অর্থনীতি ধসিয়ে দেওয়া অন্যতম এজেন্ডা হতে পারে আমেরিকার,সাথে পাকিস্তানকে শিক্ষা দেয়া তো হবেই।

চীন আফগান ৪৫ কিমি সীমান্ত



যারা আফগানিস্তান থেকে আমেরিকা চলে যাওয়ায় উচ্ছাসিত তারা জানে না বোঝেনা কীভাবে বিশ্ব চলছে,আবেগের বশে ফেসবুকীয় উচ্ছাস! এদের বেশিরভাগ রুহানী সন্তান কিংবা তৌহিদী জনতা হয়তবা আবেগী। আপনারা বিশ্ব কীভাবে চলছে ,জানুন, বুঝুন, শিখুন এবং নিজের সেক্টরে নৈপুণ্য প্রদর্শন করে দেশের অগ্রগতিতে অবদান রাখুন। “চিলে কান নিয়েছে “এই টাইপের প্রপাগান্ডায় কান দিলে আমেরিকার কিছু করতে পারবেন না ,শুধু পারবেন আমেরিকার তৈরি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতে আর সর্বোচ্চ আফগান বা খোরাসানে গিয়ে জঙ্গি হতে পারবেন তাও আমেরিকার অর্থায়নে।

আফগান চায়না সীমান্তের রাজনীতি



হ্যাঁ আরেকটা কথা বলি আফগানিস্তান থেকে আমেরিকা পুরোপুরি জয় নিয়েই ফিরছে ,সেটা বুঝেছেন নিশ্চয়ই! আরো নিশ্চিত হতে গুগলে একটু ঘাঁটাঘাটি করেন ফেসবুকে আবেগ না দেখিয়ে।

আমেরিকাকে গালি গালাজ না করে শিখুন,বুঝুন শুধুমাত্র জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা করে পুরো পৃথিবীকে কীভাবে করায়ত্ব করেছে। এই পোস্টে আমেরিকা সমন্ধে যা জানলেন তা পৃথিবীতে আমেরিকার রাজত্বের কয়েক হাজার ভাগের এক ভাগ থেকেও কম। কারণ আমেরিকা বিশ্বকে যা দেখায় তা ২০-৩০ বছর আগের আবিষ্কার… ওদের সাম্রাজ্য সমন্ধে জানলে হতাশ হবেন শুধু।



পড়ুন এবং পড়ুন সাথে জ্ঞান অর্জন করে বুঝুন আবেগে উচ্ছাসিত না হয়ে…