মুসলিম ব্রাদারহুড থেকে জামায়াতে ইসলামী – ইখওয়ানী মতবাদের সেকাল একাল

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে মিশরে জন্ম নেওয়া হাসান আল-বান্নাহ ১৯২৮ সালে তার রাজনৈতিক মতবাদ তথা ইখওয়ানি মতবাদের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন “মুসলিম ব্রাদারহুড প্রতিষ্ঠা করে”। এটির আরেক নাম “জামিয়াতুল ইখওয়ানুল মুসলিমিন”।হাসান আল বান্নাহ এই এই সংগঠনের মাধ্যমে পলিটিক্যাল ইসলামের গোড়পত্তন করেন। এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই হাসান আল বান্নাহ “জিহাদের ডাক” দিতে শুরু করেন। উপনিবেশবাদ এবং বিভিন্ন মতবাদের বিরুদ্ধে নিজস্ব “জিহাদী” মতবাদকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য নিজের ইচ্ছেমত কুরআন,হাদীস ব্যাখ্যা করে কয়েকটি বই লিখেন।

মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই বান্নাহর
স্বপ্ন ছিল ক্ষমতায় যাওয়া সাধারণ মানুষের মধ্যে জিহাদের উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।সেজন্য ১৯৩২ সালে মুসলিম ব্রাদারহুডের গুপ্ত ঘাতক উইং চালু করে ঠিক দশম শতাব্দীর শিয়া গুপ্তঘাতক হাসান ইবনু সাবাহর মতো। ১০ বছরের মধ্যে মিশরে আলোড়ন তুলতে সক্ষম হয় বান্নাহর মতাদর্শ । বান্নাহর গুপ্ত ঘাতকেরা মিশরে বিভিন্ন প্রখ্যাত ব্যাক্তিকে হত্যা করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা চালায় ঠিক হাসান ইবনু সাবহার গুপ্তঘাতকদের মতো। কিন্তু লাগামছাড়া উগ্রতার কারণে হাসান আল বান্নাহ বেশিদিন টিকতে পারেনি। হাসান আল বান্নাহর গুপ্ত ঘাতকেরা ( ইখওয়ানি/ব্রাদারহুডের মিলিটারি উইং) ১৯৪৮ সালে মিশরের প্রধানমন্ত্রী মাহমুদ ফাহিম আল নুকরাশি পাশাকে নির্মমভাবে হত্যা করে.. এরপরের বছর ১৯৪৯ সালে মিশরের সিক্রেট পুলিশ বান্নাহকে হত্যা করে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করার কারণে।

এক ছবিতে ইখওয়ানী মতাদর্শের বিবর্তন



হাসান আল বান্নাহ হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর মুসলিম ব্রাদারহুডের হাল ধরেন সৈয়দ কুতুব। পঞ্চাশের দশক এবং ষাটের দশকে ব্রাদারহুডের হাল ধরেন এই ব্যাক্তি। এই ব্যাক্তি ব্রাদারহুডের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি,৫০ টির উপরে বই লিখেছেন তিনি এবং ব্রাদারহুডের বর্তমান মতাদর্শ তার থেকেই উথিত। ব্যাক্তিগত জীবনে সৈয়দ কুতুব আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন, ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশুনা করেছিলেন। সৈয়দ কুতুব রাজনৈতিকভাবে জিহাদের ধারণাকে হাজারো তরুণের মাঝে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন! আল কায়েদার প্রভাবশালী জঙ্গিরা সৈয়দ কুতুবের অনুসারী এবং ছাত্র ছিল। আল কায়েদার প্রতিষ্ঠানতা ওসামা বিন লাদেন, আইমান আল জওয়াহিরি, আনোয়ার আল – আওলাকি সরাসরি সৈয়দ কুতুবের ছাত্র এবং তার দ্বারা প্রভাবিত। আই এস এবং তালেবান সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের জঙ্গিরা তার লেখা এবং মতাদর্শ দ্বারা মারাত্নক প্রভাবিত। আইএস এর প্রতিষ্ঠাতা আবু মুসাব আল জারকাওয়াই এবং আইএসের ধবংসযজ্ঞের নায়ক আবু বকর আল বাগদাদী ওসামা বিন লাদেনের শিষ্য।বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরও ইখওয়ানী মতাদর্শের অনুসারী। ইসলামের নামে উত্থান হওয়া জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর প্রায় সবকটিই হাসান আল বান্নাহ এবং সৈয়দ কুতুবীদের মতাদর্শকে অনুসরণ করে হয়েছে। সৈয়দ কুতুবীকে আধুনিক জঙ্গীবাদের প্রবাদ পুরুষ বললে অত্যুক্তি হবেনা।সৈয়দ কুতুব শুধু তার উগ্র জিহাদী মতাদর্শ প্রচার করেই ক্ষান্ত হয়নি ,মিশেরে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি নাসের কে ক্ষমতাচ্যুত করতে এক ব্যর্থ ক্যুর চক্রান্ত করার সময় হাতে নাতে গ্রেপ্তার হয় এবং এজন্য ১৯৬৬ সালে তাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।

সৈয়দ কুতুবীর প্রস্থানের পর তার আরেক ছাত্র শুকরী আহমদ মোস্তফা মুসলিম ব্রাদারহুডের হাল ধরে এবং ইখওয়ানুল মুসলিমিন তথা মুসলিম ব্রাদারহুডের সাথে সক্রিয় থাকার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘদিন জেলে অন্তরীণ থাকার পর শুকরী আহমদ নব্য ইখওয়ানি মতবাদ নিয়ে বের হয় এবং জিহাদের জোর প্রচেষ্টা চালায় মিশরজুড়ে।শুকরীর ভ্রান্ত ইখওয়ানি মতবাদে অসংখ্য তরুণ প্রলুব্ধ হয়ে উগ্রতায় জড়িয়ে পড়ে।

সাধারণ মানুষ যারা শুকরী আহমদের নব্য ইখওয়ানী মতবাদের সাথে ঐক্যমত পোষণ করতো না এবং বিরোধিতা করতো তাদের শুকরির অনুসারীরা তাদের কাফির,মুরতাদ ঘোষণা দিয়ে গুপ্ত হত্যা করতো। শুকরীর ইখওয়ানী বাহিনীর উগ্রতার ফলে পুরো মিশরের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় মিশর সরকারের।১৯৭৮ সালে শুকরি ও তার বাহিনী মিশরের প্রখ্যাত আলেম ও মন্ত্রী মুহাম্মাদ আল ধাবিকে হত্যা করে, ফলশ্রুতিতে মিশর সরকার শুকরি ও তার বাহিনীর দায়িত্বশীলদের গ্রেপ্তার করে। এরপর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় শুকরির। এরপর দীর্ঘদিন মিশরে মুসলিম ব্রাদারহুডের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়…

তবে এতকিছুর পরেও মুসলিম ব্রাদারহুডের ইখওয়ানি মতবাদ তথা হাসান আল বান্নাহ এবং সৈয়দ কুতুবী কর্তৃক প্রচারিত মতবাদ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে প্রসার লাভ করে। বর্তমানে মুসলিম ব্রাদারহুডের পৃথিবীর ৩০ টির অধিক দেশে
(মিশর,তুরস্ক,ইরান,বাহারাইন,ইরাক,ফিলিস্তিনি,জর্ডান,কাতার,কুয়েত,সিরিয়া,ইয়েমেন,আরব আমিরাত আলজেরিয়া,লিবিয়া ,মরক্কো,সুদান সোমালিয়া, মৌরতানিয়া,তিউনিশিয়া,বাংলাদেশ,ভারত,পাকিস্তান, আফগানিস্তান) বিভিন্ন নামে সংগঠনের কার্যক্রম চলমান। এর মধ্যে তুরস্কে বর্তমানে ক্ষমতাসীন একেপি পার্টি মুসলিম ব্রাদারহুডের তথা ইখওয়ানি মতাদর্শের…২০১১ সালে মিশরের ক্ষমতা দখল করা মোহাম্মাদ মুরসির ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি ইখওয়ানী মতাদর্শের অনুসারী। এছাড়া ইরাক, মরক্কো এবং জর্ডানে মুসিলম ব্রাদারহুড বেশ শক্তিশালী। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশে মুসলিম ব্রাদারহুড বা এর সাথে সম্পর্কিত সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ। কাতারের বর্তমান খলিফা বর্তমানে মুসলিম ব্রাদারহুডের অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক,তার বাবা হানিফ আল কাতারে মুসলিম ব্রাদারহুডের পুনর্বাসনে সহায়তা করেছিলেন। সৌদি আরব প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে মুসলিম ব্রাদারহুডকে সাহায্য করেছিল,কিন্তু গালফ ‘যুদ্ধের ওয়ারের’ পর এবং মিশরে মোহাম্মদ মুরসি ক্ষমতায় আসার পর সৌদি আরব ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে চলে যায়। কাতার এবং ইরাকের ক্ষমতার আশেপাশে থাকা মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতৃত্বের সৌদি আরবের বিপক্ষে অবস্থানের কারণে এবং তুরস্ক ঘেঁষা নীতির কারণে সৌদি আরব এখন পুরোপুরি মুসলিম ব্রাদারহুড বিরোধী। মুসলিম ব্রাদারহুডের উত্থানের জন্য কিংবা প্রারম্ভিক জঙ্গিবাদে সৌদী আরবের ভূমিকা নিন্দনীয়।আরব আমিরাতের আমির মুসলিম ব্রাদারহুডের অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন । মুসলিম ব্রাদারহুডের আরব আমিরাতের সেনা সদস্যদের জিহাদে প্রলুব্ধ করতো এবং সরকারের বিরুদ্ধে উস্কানি ছড়াতো। মুসলিম ব্রাদারহুড ২০১৩ সালে আরব আমিরাতে ক্যু করার চেষ্টা চালায় এবং ব্যার্থ হয়।২০১৪ সালে আরব আমিরাত সরকার মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ করে দেয়। ইয়েমেনের হুতী জনগোষ্ঠীর উপর চলা নারকীয় হত্যাকান্ডে জড়িত অন্যতম প্রধান জঙ্গিগোষ্ঠী মুসলিম ব্রাদারহুডের ইসলামিক ফ্রন্ট। মুসলিম ব্রাদারহুডের ইসলামিক ফ্রন্ট গত ৬ বছর ধরে নির্বিচারে হুতি জনগোষ্ঠী নিধনে খুব সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।

বর্তমানে বিশ্বে অধিকাংশ সহিংসতার জন্য দায়ী এই ইখওয়ানি মুসলিম ব্রাদারহুড।

আমদের ভারতীয় উপমহাদেশে ইখওয়নী মতবাদের প্রবক্তা বা প্রচারক আবুল আ’লা মওদুদী। মওদুদী ভারতের হায়দ্রাবাদে জন্মগ্রহণ করে ।তার শিক্ষাজীবনের কেটেছে ভারতের বিভিন্ন মাদ্রাসায়।তবে ব্যক্তিজীবনে মওদুদী পাকিস্তানের প্রখ্যাত কবি আল্লামা ইকবালের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। আল্লামা ইকবালের সাথে সৈয়দ কুতুবের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। আল্লামা ইকবালের মাধ্যমে মওদুদী হাসান আল বান্নাহ, সৈয়দ কুতুব এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সাথে পরিচিত হন। এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের আদর্শে প্রভাবিত হয়ে মওদুদী ১৯৪১ সালে লাহোরে জামাতে ইসলামী প্রতিষ্ঠা করে। ভারত ভাগের রব উঠলে জিন্না যখন দ্বিজাতি তত্ত্বের কথা এবং দুটি মুসলিম রাষ্ট্রের প্রস্তাবনা দেন তাতে বিশেষ প্রভাব রাখেন আল্লামা ইকবাল। আল্লামা ইকবালের প্রভাবে জিন্নাহ তৎকালীন মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রধান হাসান আল বান্নাহর সাথে কয়েকবার পত্র আদান প্রদান করেন।আল্লামা ইকবালকে অনুসরণ করে উপমহাদেশের দেওবন্দী এবং জামাতর অনুসারীরা।জামায়াত ও মওদুদী ভারত ভাগের বিরোধিতা করলেও ভারত ভাগ হলে যেন সুবিধা পায় সে চেষ্টায় কমতি রাখেনি।এজন্য মওদুদী এবং জামাত গোপনে আল্লামা ইকবালের মাধ্যমে জিন্নাহকে বিভিন্ন সময়ে প্রভাবিত করে। আল্লামা ইকবালের প্রস্তাবে প্রলুব্ধ হয়ে জিন্না লাহোর প্রস্তাবের ‘স্টেটস থেকে স্টেট’ বানাতে বাধ্য হন। অবশ্য ধর্মের ভিত্তিতে এক রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাবে মওদুদী এবং জামাতের চাইতে মুসলিম লীগের ভূমিকা ছিল বেশি। যদিও শোনা যায় দুই রাষ্ট্রের বদলে এক রাস্ট্রের প্রস্তাবে জিন্নাকে রাজী করাতে করাতে আল্লামা ইকবালকে প্রভাবিত করেছিল মওদুদি। মওদুদী ও জামাত প্রকাশ্যে ভারত ভাগের বিরোধিতা করে ব্রিটিশদের সাথে সুসম্পর্ক রেখেছিল অন্যদিকে গোপনে আতাত বজায় রেখেছিল মুসলিম লীগের সাথে যাতে দেশ ভাগ হলে ভাগে কম না পায়। তবে ভারত ভাগ হওয়ার পর মওদুদী কে আবার হতাশ হতে হয়। ১৯৪৮ সালে দেশে সহিংসতার মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি মওদুদি কে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৫৩ সালে মওদুদী আহমদী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে উস্কানি ছড়িয়ে পাকিস্তানে দাঙ্গা লাগিয়ে দেয়,এই দাঙ্গায় প্রায় ২০০০ মানুষ মারা যায়, মওদুদীকে কারাগারে নিক্ষিপ্ত করে পাকিস্তানি সরকার এ কারণে পাকিস্তান সরকার মওদুদীকে ফাঁসির আদেশ দেয়,যদিও এ রায় পরবর্তীতে কার্যকর হয়নি। ১৯৫৮ সালে উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের কারণে জামাতকে নিষিদ্ধ করে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা।মওদুদী ব্যাক্তি জীবনে অনেক বই লিখেছেন,তার বেশিরভাগ বই বিতর্কিত ।বইগুলোতে মওদুদী নবী,রাসূলদের সমালোচনা করতে ভ্রূক্ষেপ করেনি কুরআন হাদীসের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মওদুদী রাসূল (সাঃ)ও নবী রাসূলদের ভুল ধরেছে এবং সমালোচনা করেছে।মওদুদীর এসকল ধৃষ্টতার কারণে উপমহাদেশে কয়েকবার দাঙ্গা লেগেছিল এবং লাগার উপক্রম হয়েছিল। সহিংসতায় উস্কানি দেয়ার কারণে মওদুদী অনেক বছর জেলে খেটেছিলো।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার গণহত্যায় মওদুদীর সমর্থন ছিল। মওদুদী পাকিস্তানি হানাদারদের সাহায্য করতে জামাত এবং ইসলামী ছাত্র সংঘকে নির্দেশনা দিয়েছিল। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদারদের গণহত্যায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে মওদূদী এবং জামাতের অনুসারীরা।মওদুদীর অনুসারীরা বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল..গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী,মুজাহিদ, মীর কাসেম,দেলোয়ার হোসেন সাঈদীসহ বিভিন্ন সময়ে জামাতের নেতৃত্ব স্থানীয় ব্যাক্তিরা একাত্তরে মানবতা বিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৪ বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে হত্যার করে খুনিরা জামাতকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেয়। পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে বেশির ভাগ দাঙ্গা- হাঙ্গামার জন্য এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে হাজার হাজার মায়ের বুক খালি করতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে জামাত,শিবির তথা মুসলিম ব্রাদারহুডের বাংলাদেশী ভার্সন।

মুসলিম ব্রাদারহুড,জামাতে ইসলাম তথা ইখওয়ানিরা পৃথিবী জুড়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠার নাম করে জঙ্গীবাদের প্রসার ঘটিয়েছে।পলিটিক্যাল ইসলাম চালু করে ইসলামের বিকৃতি করেছে প্রতিনিয়ত।বর্তমান বিশ্বে পলিটিকাল ইসলাম পুরোপুরি ব্যার্থ এবং ইখওয়ানি মতবাদ জঙ্গীবাদের প্রতিশব্দ।পৃথিবীতে ইসলামের নাম উগ্র সন্ত্রাসী মতাদর্শের প্রায় সবকটি ইখওয়ানি মতাদর্শ থেকে উদ্ভূত। মুসলিম ব্রাদারহুড থেকে জামায়াতের ব্যাপ্তি সমন্ধে জানলে যেকারো ভ্রু কুঁচকে যাবে এতে কোন সন্দেহ নেই… পৃথিবীর অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক সংগঠন ব্রাদারহুড জামায়াত(ইখওয়ানি) নিসঃন্দেহে!হাসান আল বান্নাহ ১০০ বছর আগে মিশরে যে পলিটিক্যাল ইসলামের বীজ স্থাপন করেছিল ক্ষমতায় আরোহনের স্বপ্নে যে বীজ আজ মহীরুহ হয়েছে কালের আবর্তে… পৃথিবীর এতগুলো দেশে এদের রাজনৈতিক দল আছে কিন্তু কখনো শুনবেন না ইখওয়ানিদের সাধারণ মানুষের স্বার্থে কোন আন্দোলন করেছে এরা,এদের সকল আন্দোলন,জিহাদ সাধারণ মানুষের জীবনকে নরক বানিয়ে ক্ষমতা আরোহন করতে,আর কিছুনা। ইসলামের নামে মানুষকে জঙ্গিবাদে প্রলুব্ধ করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল ওদের মূল উদ্দেশ্য।সসাময়িক যুগের প্রখ্যাত আলেমরা ইখওয়ানিদের আধুনিক যুগের খারিজী বলে আখ্যায়িত করেন।তবে আশার কথা এরা একটি দু একটি দেশ ছাড়া আর কোথাও ক্ষমতার আশেপাশে নেই…..বেশিরভাগ মুসলিম দেশে নিষিদ্ধ এরা।রাশিয়া , কাজাগাস্তান, তাজিকিস্তান, সিরিয়া,মিশর,সৌদি, বাহারাইন,আরব আমিরাত এবং ইউরোপের বেশীরভাগ দেশে মুসলিম ব্রাদারহুডকে জঙ্গিবাদে জড়িত থাকার কারণে এদের নিষিদ্ধ করেছে। জন্মলগ্ন থেকে বিগত একশ বছরে ইসলামের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছে ইখওয়ানুল মুসলিমিন নামক মুসলিম ব্রাদারহুডের, জামাতের নরখাদকেরা।পৃথিবীব্যাপী বিভিন্ন নামে এরা বিদ্যমান থাকলেও এদের উদ্দেশ্য এক,জঙ্গিবাদের বিস্তার করা এবং ক্ষমতায় বসা।এদের জঙ্গিবাদ থামানোর উপায় বোধহয় নেই, অবাধে পেট্রোডলার আর অস্ত্রের সুলভ প্রাপ্তি এদের দিনকে দিন শক্তিশালী করছে..এদের শেকড় অনেক গভীরে প্রেথিত। ধর্মীয় প্রভাবের কারণে ধর্মপ্রাণ এবং ধর্মান্ধ মানুষের সহানুভূতি এবং জনসমর্থন পায় ইখওয়ানিরা।এদের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পরাশক্তিরা এদের অর্থ ও অস্ত্র সাহায্য দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করে জঙ্গি তকমা দিয়ে প্রায়ই গণহারে নিধন করে।

(আরো বিস্তারিত বুঝতে সংযুক্ত ছবির ট্রি ডায়াগ্রাম ভালোভাবে দেখুন)