ইজরায়েল না ফিলিস্তিনিদের বর্তমান দুরবস্থার জন্য দায়ী হামাস।ফিলিস্তিনি- ইজরাইল সংঘাত(পর্ব-২)

হামাস মুসলিম ব্রাদারহুডের ফিলিস্তিনী উইং। ১৯৮৪ সালে মিশরের ব্রদারহুডের মিলিটারি উইংয়ের দ্বিতীয় ইনতিফাদা ( ফিলিস্তিনির অধিকৃত ভূমি রক্ষায় যুদ্ধ) পরিকল্পনায় এটি গঠিত হয়। হামাসের প্রতিষ্ঠা লগ্নে হামাস শুধুমাত্র মুসলিম ব্রাদারহুড এবং সৌদি আরব থেকে প্রচুর অর্থ এবং অস্ত্র সহায়তা পেত। পরে মিশরে মুসলিম ব্রাদারহুড কোণঠাসা হয়ে গেলে হামাসের কার্যকারিতা হ্রাস পায়। পরবর্তীতে হামাস অন্য বিকল্প বেছে নেয় টিকে থাকার স্বার্থে। হামাস লেবাননের স্বশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মিত্র হয়। ১৯৮২ সালে হিজবুল্লাহ প্রতিষ্ঠিত হয় লেবাননে ইজরায়েলি অধিগ্রহণের বিরূদ্ধে ,এবং তাদের দখলকৃত ভূমি পুনরুদ্ধার করার জন্য… হামাস সরাসরি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনির আদর্শের অনুসারী যারা মূলত বারো ইমামের অনুসারী। হিজবুল্লাহ শিয়া সংগঠন হলেও সুন্নি হামাসের সাথে যোগসূত্রের কারণ ছিল তারা প্রতিবেশী সীমান্ত এবং উভয়ের লড়াই ছিল ইজরায়েলি অধিগ্রহনের বিরূদ্ধে।আরেকটা জায়গায় উভয় সংগঠনের মিল কুরআনের আক্ষরিক অর্থ নিতে পছন্দ করত না,তারা নিজেদের মতো কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের ব্যাখ্যা দিয়ে তাদের মতাদর্শের পক্ষে সাফাই গাইত..হামাসের দুর্যোগের সময়ে হিজবুল্লাহ অর্থ,অস্ত্র ,খাদ্য এবং চিকিৎসা সামগ্রী দিয়ে পাশে থাকতো। হিজবুল্লাহ হামাসকে সরাসরি প্রশিক্ষণ দিয়ে এবং মিডিয়া উইংয়ের কভারেজ দিতো। হিজবুল্লাহর প্রভাবেই হামাস শিয়া অধ্যুষিত সিরিয়া এবং ইরানের সমরিক এবং আর্থিক সর্বোচ্চ সহয়তা পেয়েছিল প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময়।

২০০০ সালে ইজরায়েল লেবানন সরকাররকে ১৯৭৩ সালের যুদ্ধে অধিকৃত ভূমি ছেড়ে দেয় লেবানন সরকারের একান্ত প্রচেষ্টায়,এতে হিজবুল্লাহ রাজনৈতিকভাবে কিছুটা পিছিয়ে পড়ে। যদিও হিজবুল্লাহ লেবাননের ভূমি ফিরে পাওয়াকে নিজেদের বিজয় হিসেবে বিবেচনা করে।তাছাড়া হিজবুল্লাহকে লেবাননের সরকার জঙ্গি সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে।২০০৫ ও ১৩ সালে কয়েকবার ইজরাইলের সাথে বৈঠকে বসেছে হিজবুল্লাহ নেতারা যদিও তাদের কর্মকাণ্ডের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।হিজবুল্লাহ নিজে থেকে কয়েকবার সংঘাতে জড়িয়েছে ইজরায়েলের সাথে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এবং কয়েকবার সফল হয়েছে।

২০১১ সাল পর্যন্ত হিজবুল্লাহ রাজনৈতিক এবং সামরিক ক্ষেত্রে হামাসের সবচেয়ে বড় মিত্র ছিল। এমনকি ইরান, সিরিয়া,লেবাননে সীমান্তে হিজবুল্লাহ এবং হামাসের শক্ত জোট ছিল। কিন্তু আস্তে আস্তে পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে থাকে। মিশরে ২০১১ সালে আরব বসন্তের প্রভাবে মিশরে মুসলিম ব্রাদারহুডের উইং ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি ক্ষমতায় আসলে হামাস হিজবুল্লাহকে বাদ দিয়ে মিশরের দিকে ঝুঁকে হামাস। মুরসির প্রভাবে এবং অতিরিক্ত লোভে প্রলুব্ধ হয়ে হিজবুল্লাহকে বাদ দিতে হয় হামাসকে। ফলে হিজবুল্লাহ প্রচন্ড রগান্বিত হয়। ২০১৩ সালে হিজবুল্লাহ সিরিয়ায় বাশার আল আসাদের পক্ষ থেকে সরাসরি সিরিয়ায় যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে ।অন্যদিকে হামাস সরাসরি বাশার আল আসাদের বিপক্ষে অবস্থান নেয়,এবং আসাদ বিরোধীদের সহয়তা করে। কিন্তু সিরিয়ায় আসাদ বিরোধীরা সুবিধা না করতে পারায় এবং মিশরে মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর হামাস একেবারে কোণঠাসা হয়ে যায়। মিশরে জেনারেল সিসি ক্ষমতায় আসার পর গাজার সাথে সীমান্ত বন্ধ করে দেয় মিশর! ফলে ভয়াবহ খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী সংকটে পড়ে গাজাবাসী। এর ফলে গাজায় হামাসের
জনপ্রিয়তা কমে যায়।

যেভাবে হামাসের সাহায্য আসে..

তিন দশক ধরে হামাসের দুঃসময়ে পাশে থাকার পরেও হামাসের বেইমানির কারণে হিজবুল্লাহর সাথে দূরত্বের সৃষ্টি হয় । ফলে ২০১৭ সাল পর্যন্ত হিজবুল্লাহ হামাসকে অর্থ এবং অস্ত্র সহয়তা দেওয়া বন্ধ করে দেয়।এমনকি আন্তজার্তিক রাজনীতিতে হামাস হিজবুল্লাহর সাথে বেইমানি করার কারণে সিরিয়া এবং ইরানের সুদৃষ্টি থেকে ছিটকে পড়ে।

২০১৪ সালে তুরস্কে একে পার্টি ক্ষমতায় আসার পর, হামাস তুরস্কের ঘেঁষা হয়ে যায়, কারণ একে পার্টি এবং হামাস দুটোই ব্রাদারহুডের অঙ্গ সংগঠন।এতে সৌদি আরব খুবই অসন্তুষ্ট হয় হামাসের উপর। দীর্ঘ ৩ দশক ধরে হামাসকে অর্থনৈতিক ভাবে সবচেয়ে বড় সহয়তা করতো সৌদি আরব। ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রায় কয়েকশ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা দিয়েছিল হামাসকে সৌদি আরব। হামাসের তুরস্ক এবং মুসলিম ব্রাদারহুড ঘেঁষা নীতির কারণে হামাস দীর্ঘদিনের মিত্র সৌদি আরবকে হারিয়ে ফেলে….

হামাসের আর্থিক সহায়তার আরেকটি বড় নির্ভরতার নাম কাতারের আল থানি পরিবার,যেটি বর্তমানে কাতারের রাষ্ট্রক্ষমতায়। বর্তমানে হামাসের আর্থিক সহায়তার বেশিরভাগ কাতার সরবারহ করে থাকে। আল থানী পরিবার বিশ্বে মুসলিম ব্রাদারহুডের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক বর্তমানে। বর্তমানে হামাসের পলিটিক্যাল ব্যুরো দোহায় অবস্থিত আগে যদিও দামাককাসে ছিল।

বর্তমানে ফিলিস্তিনের প্রায় পুরোটা ইজরায়েলের দখলে

হামাসের প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক ভুল এবং অতিরিক্ত ব্রদারহুডের প্রতি নির্ভরতা হামাস তার দীর্ঘদিনের মিত্র সৌদি এবং শিয়াপন্থী দেশগুলোর সুনজর থেকে ছিটকে যায়। হামাস রাজনীতিতে বন্ধুত্বের বদলে ছলনার আশ্রয় নেওয়ায় ২০১১-১৭ সাল পর্যন্ত খুবই কোণঠাসা ছিল।এভাবে প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক ভুলের কারণে ইজরাইলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একা হয়ে যায় হামাস,দীর্ঘ সময় ধরে ইজরাইলের বিরুদ্ধে হামাস একা লড়াই করছে, হামাসের পাশে এখন বলতে গেলে কেউ নেই বিবৃতি দেওয়া ছাড়া।

যদিও ২০১৭ সাল থেকে এখনো হামাস হিজবুল্লাহর সাথে কয়েকবার আলোচনায় বসে এবং সিরিয়া ইরানের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করে যাচ্ছে।কিন্তু সম্পর্ক আগের মত এখনো নেই কারণ হামাসকে কেউ বিশ্বাস করতে পারছেনা,ফলে ইজরায়েল হামলা করলেও আগের মত হিজবুল্লাহ থেকে সাহায্য পায়না হামাস… সৌদির সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে হামাস যদিও সৌদী হামাসের ভূমিকায় বিরক্ত,তেমন কোন সহয়তা করছেনা সৌদি হামাসকে বর্তমানে।অন্যদিকে কাতার বর্তমানে হামাসের এই ভূমিকায়( সৌদি এবং শিয়া দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন) নাখোশ,তাই হামাসকে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ দিন দিন কমিয়ে দিচ্ছে কাতার । হামাসকে এখন প্রচামাধ্যমে, আর্থিকভাবে এবং সামরিক দিক দিয়ে পূর্ণাঙ্গ সহায়তা করে একে পার্টি তথা তুরস্ক। কিন্তু তুরস্কও বর্তমানে আর্থিক সংকটে আছে,ফলে হামাসকে প্রয়োজনীয় সহয়তা করতে পারছেনা…আন্তজার্তিক রাজনীতিতে বর্তমানে হামাস বন্ধু শূন্য। এই কারণে গাজায় ইসরাইলের হামলায় কেউ হতাহত হলেও আরব দেশসমূহ বিবৃতি দিয়েই সটকে পড়ে,পূর্বের মত আর্থিক সামরিক সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসেনা।এই নাজেহাল অবস্থায় হামাস বর্তমানে একক শক্তির উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে সরাসরি ইরান, আলজেরিয়া,মিশর, মালয়শিয়া,আরব আমিরাতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

কিন্তু হামাসকে এখন কেউ বিশ্বাস করেনা তার পূর্বেকার বেইমানি এবং কপটতার জন্য… ........ ফিলিস্তিনে হামাসের অবস্থান....

ফিলিস্তিনির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হামাস মোহাম্মদ আব্বাসের ফাতাহ’র রাজনৈতিক জোট ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশন ( PLO) এর প্রতিদ্বন্দ্বী।বর্তমানে পিএলও পশ্চিম তীর অধ্যুষিত এবং হামাস গাজা অধ্যুষিত রাজনৈতিক দল।হামাসের মতাদর্শ ব্রাদারহুডের জিহাদী মতবাদকে ঘিরে আর ফাতাহর রাজনৈতিক আদর্শ সেকুলার এবং আপোষকামী । ফাতাহ চায় ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়ে ১৯৬৭ সালের সীমান্ত ফিরে পেতে শান্তিপূর্ন আলোচনার মাধ্যমে অন্যদিকে হামাস চায় ইজরায়েল কে স্বীকৃতি না দিয়ে ১৯৬৭ সালের ফিলিস্তিন সীমান্ত ফিরে পেতে পুরোপুরি স্বশস্ত্র অবস্থানের মাধ্যমে।বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে হামাসের রাজনৈতিক অবস্থানে ফিলিস্তিনিদের জন্য কোন ফায়দা হবেনা, কারণ ইজরায়েল আন্তজার্তিক রাজনীতিতে যথেস্ট প্রভাবশালী।১৯৬৭ সালের অবস্থায় কোনভাবেই ইজরায়েল ফিরে যাবেনা।

হামাসের স্বশস্ত্র অবস্থানের কারণে ফিলিস্তিনির রাজনৈতিক তাদের উত্থানের ঘটে। ব্রাদারহুডের মতাদর্শে ফিলিস্তিনির প্রসার ঘটে ইয়াসির আরাফাতের মৃত্যুর পর। ফল স্বরূপ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু এক বছরের মধ্যে ২০০৬ সালের নির্বাচনে হামাস ফিলিস্তিনির ক্ষমতায় বসে। হামাস ক্ষমতায় আসামাত্র হামাস-ফাতাহ সংঘর্ষ শুরু হয়। ২০০৬ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে প্রায় ৭০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়। এই সংঘর্ষের পর হামাস গাজা থেকে ফাতাহকে বের করে দেয় পিটিয়ে, অন্যদিকে ফাতাহ ও পশ্চিম তীরে হামাসের সদস্যদের নিপীড়িন অব্যাহত রাখে।
এই সংঘর্ষের ফলে ফিলিস্তিনিদের জাতীয় সরকারে ভাঙ্গন ধরে। পশ্চিম তীর ফাতাহ অধ্যুষিত এলাকা এবং সেখানে তারাই ক্ষমতায় । গাজায় হামাস ক্ষমতায় এবং ফাতাহ এর কোন অস্তিত্ব নেই। ফিলিস্তিন এখন পশ্চিম তীর এবং গাজায় বিভক্ত।২০০৬ সাল থেকে আজ অবধি চলা হামাস-ফাতাহ সংঘাতে অসংখ্য ফিলিস্তিনি হতাহত হয়েছে। দিনদিন এই উত্তেজনা বেড়েই চলছে। খুব শীঘ্রই উভয় দল ঐক্যমতে পৌঁছাবে এই আশা করা অলীক কল্পনা।

বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী ফিলিস্তিনি নিপীড়িত জনগণের জন্য হামাস ফাতাহের ঐক্যমত্য জরুরী। কিন্তু হামাসের আগ্রাসী মনোভাব পশ্চিম তীর আর গাজার জনগণের জীবনকে আরো বিষাদময় করে তুলেছে। বর্তমানে ইজরায়েল গাজা সীমান্তে আগ্রাসন চালায় বেশি সাথে গুলি তো আছেই। অনবরত অসংখ্য মায়ের বুক খালি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। গাজা উপত্যকায় ইসরাইলিবাহিনী দ্বারা কেউ আহত হলেই হামাস সাথে সাথে রকেট বা মিসাইল ছুঁড়ে ইজরাইলে। কিন্তু রকেট বা মিসাইল নিক্ষিপ্ত হওয়ার সাথে সাথে ইসরাইল শনাক্ত করে সীমান্ত পেরোনোর আগেই নিষ্ক্রিয় করে দেয়। ফলে অনবরত রকেট ছোড়ায় ইসরায়েলের কোন ক্ষতি হয়না বলতে গেলে। আসলে ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী হামাসের রকেট ছোড়ার অপেক্ষা করে এবং সীমান্তে গুলি ছুঁড়ে কিংবা রবার বুলেট ছুড়ে ফিলিস্তিনি যুবকদের আহত করে ও উস্কানি দেয়। ইজরাইলের ঠিক এই উস্কানির ফাঁদে পা দিয়ে হামাস রকেট ছুঁড়ে ইসরাইলে।ইসরাইল এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে,হামাসের রকেট ছোড়ার অজুহাতে গাজায় তারাও অনবরত রকেট কিংবা বিমান হামলা করে। ইজরায়েল রকেট হামলার অজুহাত দিয়ে হামলা করে যে তা শুধু নয়,পশ্চিম তীরে জোর করে ভূমি অধিগ্রহন ও করছে হামাসের রকেট হামলাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। হামাসের যেহেতু শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই গাজায় ইসরাইলের হামলায় অসংখ্য নিরীহ ফিলিস্তিনী মারা যায়। হামাস প্রতিনিয়ত ইজরায়েলি সেনাদের পাতানো ফাঁদে পা দেয় আর রক্তমূল্য দেয় সাধারন ফিলিস্তিনিরা…

হামাসের এই হামলা কতটুকু অপ্রাসঙ্গিক, ফিলিস্তিনের মানুষের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে?

পড়তে খারাপ লাগলেও বলতে হয় ” হামাস এখন ইজরাইলের কাছে মৃতপ্রায় বিড়াল ছাড়া আর কিছুই নয়” ২০১৬ সালে আমেরিকা ইজরায়েলের সাথে চুক্তি করে তারা আগামী দশ বছরে ইজরাইলের কাছে ৩৮ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সহয়তা পাঠাবে। ১৯৯০-২০০৮ পর্যন্ত আমেরিকা ২০$ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সহয়তা দেয় ইজরায়েলকে! আর হামাস শুধু মাত্র জন্মলগ্ন থেকে সর্বোচ্চ ১ বিলিয়ন( আনুমানিক) ডলারের সহায়তা পেয়েছে ,আগে একসময়কার প্রধান সহায়তাকারী দেশ সৌদি ওদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে( বছরে প্রায় ৫০$ মিলিয়ন করে পেত)।এখন সেটাও পায় না ইজরায়েলের কাছে যে পরিমাণ অস্ত্র আছে তা দিয়ে চাইলে ফিলিস্তিনিকে কয়েকবার ধ্বংস করে দিতে পারে,কিন্তু তা না করে তারা ধীরে ধীরে অধিগ্রহণ করছে ফিলিস্তিনিকে। অধিগ্রহনের সময় বেশীরভাগ তারা হামাসের প্রসঙ্গ এনে হামলা হালাল করে নেয় ইজরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ইজরাইলের আন্তজার্তিক লবি অত্যন্ত শক্তিশালী।তাই ইইউ, যুক্তরাষ্ট্র,চীন,জাপান, তাইওয়ান, দক্ষিণকোরিয়া ইতিমধ্যে হামাস কে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। হামাসের আগ্রাসী মনোভাব এবং রকেট হামলা সাথে ইজরায়েলি লবির প্রভাব হামাসের গ্রহণযোগ্যতা একেবারে কমিয়ে দিয়েছে। সেই সাথে বিভিন্ন সময়ে মিত্রদের সাথে তাদের বিশ্বাসঘাতকতা মিত্রদের কাছে হামাসের গ্রহণযোগ্যতা একেবারে কমিয়ে দিয়েছে। ইজরায়েল ফিলিস্তিনে গাজা কিংবা পশ্চিম তীরে বর্তমানে অনবরত হামলা করলেও মুসলিম দেশসমূহ বিবৃতি দিয়ে প্রতিবাদ জানানো ছাড়া কোন কার্যকর পদক্ষেপ দেয় না , হামাসের সাথে তাদের পূর্ব তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে। বর্তমানে হামাস ফিলিস্তিনের জনগণের দুর্ভোগের জন্য সবচেয়ে দায়ী। কোন শান্তি চুক্তি হতে গেলেই ইজরায়েল হামাসের রকেট হামলার অজুহাত দিয়ে সরে যায়,ফলে আবার হামলা করে হামাস,প্রতি উত্তরে ইজরায়েল ও হামলা করে গাজা বা পশ্চিম তীরে…এই চক্র বেশ কয়েকবছর ধরে চলমান।

ইজরায়েলের সাথে এই অসম যুদ্ধে হামাস কোনভাবেই পারবেনা। শক্তির ব্যাবধান, নিজদের বিভক্তি, আন্তজার্তিক মিত্রের অভাব ,অস্ত্র এবং অর্থের অভাবে হামাস নিজেরাই দিকভ্রান্ত ।গাজা কিংবা ফিলিস্তিনের মানুষকে কিভাবে মুক্তি দিবে হামাস? উল্টো রকেট হামলা করে ইজরায়েলকে নিজের ঘরে হামলা চালানোর সুযোগ করে দিচ্ছে…

ফিলিস্তিনিদের আজকে এই দুরবস্থার জন্য অনেকাংশে হামাস দায়ী…

*আগামী পর্বে থাকছে ফিলিস্তিনের সংকটে ফাতাহর ভুমিকা এবং ফিলিস্তিনের ভবিষৎ।