গাজায় হামাস-ইজরায়েল যুদ্ধে জয়ী কারা? হামাসের উত্থানে ইজরায়েলের ভূমিকা এবং হামাসের প্রাসঙ্গিকতা।


হামাস ইজরাইলের যুদ্ধ বিরতির ঘোষণা স্বস্তির খবর এনে দিয়েছে বিশ্ববাসীর জন্য। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই লড়াইয়ে কার লাভ হচ্ছে কিংবা কেইবা সর্বস্ব হারাচ্ছে জানতে হলে অন্তদৃষ্টি দিয়ে দেখতে হবে! ইংরেজিতে একটা বহুল প্রচলিত প্রবাদ আছে “Connecting The dots”… এই যুদ্ধগুলোর সাথে সংযুক্ত ডটগুলো মেলালে করে আপনি নিজে সহজেই বুঝবেন এই যুদ্ধগুলো কেন হচ্ছে কিংবা কার স্বার্থ রক্ষায় হচ্ছে!

ইজরাইলের সাথে এখন পর্যন্ত (২০০৭-২০২১) ৪ বার বড় ধরণের যুদ্ধে জড়িয়েছে হামাস, খণ্ডযুদ্ধ তো অসংখ্য।এই আলোচিত চার যুদ্ধের ফলাফল কি??

২০০৮-০৯ সালে ২২ দিন ধরে চলমান হামাসের সাথে সংঘর্ষে সালে ইজরায়েলের সেনারা গাজায় ১৪০০++ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে এবং হামাসের হামলায় ১৩ জন ইজরায়েলি মারা যায়। এই নিধনযজ্ঞ ইজরায়েল শুরু করে হামাসের রকেট হামলার প্রতিশোধ নিতে।

২০১৪ সালে হামাস ইজরায়েলের ৩ জন তরুণকে অপহরণ করে হত্যা করলে ইজরাইল গাজায় হামলা শুরু করে । ৫০ দিন ব্যাপী চলা এই যুদ্ধে ২১০০ ফিলিস্তিনি নাগরিক মারা যায় যাদের সবাই গাজাবাসী ,ইজরাইলের ৭৩ জন (৬৭ জন সেনা) মারা যায়।

২০১৮ সালে গাজা সীমান্তে প্রতিবাদরত গাজাবাসীর উপর ইজরাইলি সেনারা হামলা করে। এই হামলাকে কেন্দ্র করে হামাস আর ইজরাইলের সংঘর্ষে মারা যায় ১৭০ জনের অধিক ফিলিস্তিনি।

২০২১ সালে আল আকসা মসজিদে নামাজরত অবস্থায় ইজরায়েল হামলা করলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। হামাস আল আকসা মসজিদে ফিলিস্তিনীদের উপর হামলার প্রতিবাদে গাজায় রকেট ছুঁড়লে শুরু হয় যুদ্ধ।১০ দিন ব্যাপী এই মারা যায় ২৫০++ জন গাজাবাসী যার মধ্যে ১০০ জনের অধিক হামাসের সাথে সংশ্লিষ্ট ,বাকিরা শিশু ও নারী। এই যুদ্ধে ইজরাইলের ১২ জন মারা যায়।


২০০৮-০৯,২০১৪,২০১৮,২০২১ এর যুদ্ধের পরিসংখ্যান হিসেব করলে হামাস ইজরায়েল সংঘর্ষে প্রাণ দিয়েছে ৪০০০ হাজারের অধিক গাজাবাসী ,অন্যদিকে ইজরাইলের ১০০ জনের ও কম সামরিক-বেসামরিক ব্যাক্তি প্রাণ হারিয়েছে।এই যুদ্ধ কতটা অসম খেয়াল করলে বোঝা যাবে একজন ইজরায়েলির প্রাণ হামাস নিলে আইডিএফ ৪০* এর অধিক ফিলিস্তিনির প্রাণ নিচ্ছে।

গাজার অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি কিংবা আহত ও বাস্তুচ্যুত মানুষের হিসেব তো বাদই দিলাম!!

এই যুদ্ধগুলো সংগঠিত হওয়ায় সবচেয়ে লাভবান কারা?

২০০৮-০৯ সালে ২২ দিন ধরে চলমান যুদ্ধের পরে (২০০৮-১০) মুসলিম দেশগুলো, জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইইউ থেকে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা পায় ফিলিস্তিনী।২০১৪ সালে চলা ৫০ দিন চলা যুদ্ধের পরে হামাস প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা পেয়ে পায়।২০১৮ সালের যুদ্ধের পর প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা পায় হামাস! গত ১০-১৫ বছরে হামাস কিংবা ফিলিস্তিনী অফিসিয়ালি প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের মত আর্থিক সহায়তা পেয়েছে অফিসিয়ালি ( বাংলাদেশী টাকায় ১,৭০,০০০ কোটি টাকা)! ৩৬৫ বর্গ কিলোমিটারের গাজার জন্য এই সহায়তা চোখ কপালে তোলার মতো!এক কথায় অবিশ্বাস্য!
গাজা যার আয়তন ৩৬৫ বর্গ কিলোমিটার যা আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট জেলা মেহেরপুরের অর্ধেক।২০২১ এর যুদ্ধ যে পরিমাণ কভারেজ পেয়েছে হামাস নিশ্চয় এবার ১০ বিলিয়ন ডলারের অধিক সহায়তা পাবে! অর্থাৎ এই যুদ্ধ হামাসের কাছে অনুদান সংগ্রহের যুদ্ধ!! যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরে হামাস বড় অনুদান পায় ,আর এই অনুদান দিয়ে হামাস গাজায় পুর্নগঠন যা খরচ করে তার চেয়ে বেশি অর্থ খরচ করে অস্ত্র কিনে! চিন্তা করুন গাজায় হামাস যে পরিমাণ অনুদান পেয়েছে তা যদি অস্ত্র কেনা কিংবা তৈরিতে খরচ না করে শত শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল,কল কারখানা প্রতিষ্ঠা,কৃষিখাতে কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ জীবনমানের অন্যান্য সেক্টরে ব্যয় করতো গাজার অবস্থা বিজ্ঞান প্রযুক্তি কিংবা সকল সেক্টরে ইজরাইলের চাইতে ভাল হতো! কিন্তু হামাস সেটা কখনো করবেনা। কারণ ইজরাইলের সাথে অসম এই যুদ্ধে হামাসের তেমন কোন ক্ষতি হয় না বরং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ বাঁধলে হামাসের গাজায় সমর্থন বাড়ে,সুপার পাওয়ারদের অধিক ডোনেশন নিশ্চিত হয়।

এখানে অবশ্য কিছু রাজনীতি ও আছে হামাসের আর ইজরায়েলের যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায়।

গত ১১ দিনে হামলার জবাবে ইজরায়েলে প্রায় ৪,৫০০ রকেট ছুড়ে হামাস, হামাসের এই রকেট থামাতে যথেস্ট বেগ পেতে হয় ইজরায়েলেকে। হামাস দাত চেপে ইজরায়েলের সাথে লড়াই করে ফিলিস্তিনীদের কাছে প্রমাণ করতে চেয়েছে ফিলিস্তিনি জনগণের মুক্তি একমাত্র তারাই দিতে পারে! আসন্ন সাধারন নির্বাচন উপলক্ষে ইজরাইলের সাথে হামাসের এই যুদ্ধ হামাসের ভোট বাড়িয়ে দিতে পারে।

হামাসকে গুড়িয়ে এবং গাজাকে আরেকবার বিধ্বস্ত করে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিজামিন নেতানিয়াহু আরেকবার প্রমাণ করতে চেয়েছেন হামাসকে দমনে তার বিকল্প নেই। এই হামলার আগে ইজরাইলে নেতানিয়াহুর দল কট্টর পন্থী ইহুদিবাদী লিকুদ পার্টির অবস্থান একেবারে নাজুক ছিল।আসন্ন নির্বাচনে তাদের অবস্থা খুবই বাজে ছিল। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা চলছিল ! কিন্তু হামাসের সাথে ইজরায়েলের এই যুদ্ধ নেতাহিয়াহুর জন্য শাপে বর হয়ে আসে। তিনি শক্ত হাতে হামাসকে দমন করে ইজরাইলের জনমতকে তার পক্ষে এনেছেন কিছুটা। কিন্তু যুদ্ধবিরতির পর নেতানিয়াহুকে ইজরায়েলের অভ্যন্তরে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।কিন্তু হামাসের সাথে যুদ্ধ তাকে আসন্ন নির্বাচনে বড় ধরণের বেনিফিট অব ডাউট দিচ্ছে।

সব মিলিয়ে এই যুদ্ধ থেকে হামাস কিংবা লিকুদ পার্টি বড় রকমের ফায়দা আদায় করে নিয়েছে,কিন্তু তাদের এই ফায়দার জন্য কয়েক লাখ নিরীহ মানুষকে বাসস্থান হারিয়েছে ,হাজার হাজার লোক হতাহত হয়েছে।

হামাস কিংবা ইজরায়েল ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বড় ফায়দা আছে এই যুদ্ধে!গতকাল বাইডেন ঘোষণা দিয়েছে ” দুই দেশ ছাড়া ফিলিস্তিনি ইজরালের সমস্যার কোন সমাধান নেই এবং বিধ্বস্ত গাজা পুনর্বাসনের জন্য ফান্ড গঠন করার দায়িত্ব আমেরিকা নিবে”

আমেরিকার ঠিক এই দ্বৈত নীতি পৃথিবীর বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্রে দেখা যায় “যুক্তরাষ্ট্র সৌদীর কাছে অস্ত্র বিক্রি করে ,সৌদি সেই অস্ত্র দিয়ে ইয়েমেনে হামলা করে! অস্ত্র বিক্রির লভ্যাংশ থেকে এই আমেরিকা আবার ইয়েমেনে মানবিক সাহায্য পাঠায়!আমেরিকা সৌদী অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করলেই তো ইয়েমেনে যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যায় মানবিক সাহায্য আর পাঠানোর প্রয়োজন হয় না। ঠিক একই ধরণের নীতি দেখা যায় ইজরায়েলের ক্ষেত্রে আমেরিকার।তারা বছরে ৩-৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র পাঠায় ইজরায়েলে, ইজরায়েল সে অস্ত্র দিয়ে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের হত্যা করে। হত্যাকান্ড শেষ হলে আমেরিকা প্রতিবারই ফিলিস্তিনে কয়েক শত মিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তা পাঠায়!অস্ত্র পাঠানো বন্ধ করলে তো যুদ্ধই হয় না,লাখ লাখ মানুষ হতাহত হওয়ার ও কথা না কিংবা মানবিক সাহায্যের ও দরকার পড়েনা। কি সুন্দর আমেরিকার রাজনীতি! অস্ত্র বিক্রি এবং মুনাফার সাথে কূটনীতি কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে মানবিক সাহায্য পাঠিয়ে বিশ্বকে নরক বানানোর খেলায় মত্ত তারা! আমেরিকা অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করলে পৃথিবীর ৯০% যুদ্ধ কখনোই শুরু হওয়ার কথা না! মধ্যপ্রাচ্যে কর্তৃত্ব বৃদ্ধির জন্য এবং নিজেদের অস্ত্রের বাজার বাড়ানোর জন্য আমেরিকা প্রায়ই মধ্যপ্রাচ্যে সহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ বাঁধিয়ে থাকে।

হামাস- ইজরায়েলের এই যুদ্ধের বড় ধরণের লভ্যাংশ যুক্তরাষ্ট্রের পকেটেও যায়।

ইজরায়েল -হামাসের এই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার আসল রহস্য জানতে হলে আপনাকে হামাসের উত্থানের গল্প জানতে হবে…

২০০৪ সাল পর্যন্ত পিএলও ছিল ফিলিস্তিনের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাজনৈতিক জোট। প্রতিষ্ঠার ১২ বছরের মধ্যে ইজরায়েলের সাথে বেশ কয়েকটি যুদ্ধে শোচনীয়ভাবে হেরেছিল পিএলও,কিন্তু ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে তাদের বিকল্প কেউ ছিলো না।আশির দশকে পিএলও এর অন্তজার্তিক গ্রহণযোগ্যতা ইজরাইলের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।ইজরাইলের মোসাদ এজেন্টরা বিকল্প খুঁজছিল এবং কীভাবে ফিলিস্তিনের জনগনের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা যায় কোনভাবে। ঠিক এসময়ে মুসলিম ব্রাদারহুডের কল্যাণে ১৯৮৪ সালে হামাসের উত্থান ! হামাস মূলত মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুডের আদর্শে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল! হামাসের জন্ম নেওয়ার সাথে ইজরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা হামাসের মাধ্যমে পিএলও কে খন্ড বিখণ্ড করে ফিলিস্তিনের জনগণকে বিভক্ত করার জন্য মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করে । অবশ্য হামাসের জন্মের আগে থেকেই হামাসের প্রতিষ্ঠাতার সাথে ইজরাইলের গোয়েন্দাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।অস্ত্র কিংবা অর্থ দিয়ে হামাসের রাজনৈতিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠায় মোসাদের অর্থায়ন মূল ভূমিকা রেখেছিল।এমনকি হামাসের এক সময়ের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক মিত্র হিজবুল্লাহকে অর্থায়ন করতো মোসাদ!

ইজরাইলের গোয়েন্দা কিংবা সামরিক সংস্থা গুলো হামাসকে বিভিন্ন সময়ে কীভাবে সাহায্য করেছে তার বিবরণ পাওয়া যায় হামাসের সাথে বিভিন্ন সময়ে ইজরায়েলের কর্মকর্তাদের ভাষ্য থেকে।

“হামাস , সবচেয়ে পরিতাপের বিষয় হচ্ছে এটা ইজরায়েলের তৈরি”- এই উক্তিটি অভনের কোহেন এর যিনি গাজায় দুই দশক ইজরায়েলের সরকারের ধর্ম মন্ত্রনালয়ে কাজ করেছেন। হামাসকে সেসময় ইজরায়েল অর্থনৈতিক,সামরিক এবং রাজনৈতিকভাবে সাহায্য করতো। ধর্মনিরপেক্ষ এবং বামপন্থী গেরিলা ঘরনার পিএলও এর প্রতিদ্বন্দ্বী একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করে উত্থানে মদদ দিয়ে ফিলিস্তিনীদের বিভক্ত করে ফিলিস্তিনি দখল করা ইজরাইলের অন্যতম লক্ষ্য ছিল।

তিনি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে ২০০৯ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন “মুজামা( হামাসের আগের রূপ) আমাদের ভবিষ্যতে বিপদের কারণ হতে পারে এই আশঙ্কায় আমি সেসময় সুপারিশ করেছিলাম উচ্চপদস্থ কর্তাদের কাছে ,এই দানব( হামাস) আমাদের উপর হামলে পড়ার আগে এদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে। কিন্তু ইজরায়েলের প্রশাসন কোহেনের সুপারিশ শুনেনি , বরং সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করে গিয়েছে এবং পরবর্তীতে এই হামাসই ইজরয়ালেকে গুড়িয়ে দিতে চেয়েছে!

” আমি যখন বিভিন্ন ঘটনার ক্রমের দিকে তাকিয়ে দেখি তখন অনুধাবন করি আমরা ভুল করেছি,কিন্তু ঐ সময়ে ফলাফল নিয়ে(হামাসের বর্তমান অবস্থা)আমরা কেউ চিন্তা করিনি” – এই উক্তি ডেভিড হ্যাচম্যানের যিনি ৮০ এর দশকে গাজায় ইসরাইলের সেনাবাহিনীর আরব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ছিলেন।

সবচেয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য শোনা যায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আইজ্যাক সেগেভের থেকে যিনি গাজায় ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর প্রধান ছিলেন।
তিনি নিউইয়র্ক টাইমসে এক সাক্ষাৎকারে বলেন” তিনি হামাসের ইসলামী আন্দোলনকে আর্থিকভাবে সহায়তা করেছিলেন যাতে ফাতাহ এবং পিএলও এর প্রতিদ্বন্দ্বী তৈরি হয়” ” ইজরায়েলি সরকার আমাকে একটা বাজেট দেয় এবং আমরা এই এই অর্থ মসজিদে মসজিদে দিয়ে দেই”। তিনি আরো বলেন ” হামাসের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ইয়াসিনের সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল যাতে তার উপর নজরদারি করা যায় এবং তিনি শেখ ইয়াসিনের মসজিদে কমপক্ষে ১২ বার দেখা করেন।”

নব্বইয়ের দশকে এক ইতালির পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলনের নেতা ইয়াসির আরাফাত বলেন” হামাস ইজরায়েলের তৈরি”।
ইজরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আইজ্যাক রবিন হামাসকে পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে ভুল স্বীকার করে বলেছিলেন ” এটি তাদের খুব বড় ভুল ছিল”

৮০ এর দশকে ইজরায়েলর সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন গাজায় অসংখ্য স্কুল, হাসপাতাল , লাইব্রেরী এবং কিন্ডার গার্টেন প্রতিষ্ঠা করে। সেসময় ১৯৭৯ সালে শেখ ইয়াসিন মুজমা আল ইসলামিয়া নামে একটি সংগঠন তৈরি করেন যেটি ইজরাইলের সরকার দ্বারা দাতব্য সংস্থা হিসেবে অনুমোদিত ছিল ।তাদের সাথে মিলেই ইজরায়েল গাজায় প্রতিষ্ঠা করে “ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব গাজা” ১৯৭৮ সালে। পরবর্তীতে এই বিশ্বিদ্যালয় হামাসের রাজনৈতিক এবং সামরিক কার্যক্রমের আঁতুড়ঘর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৯০ এর দশক নাগাদ হামাসের সাথে ইজরায়েলের সম্পর্ক অত্যন্ত ভাল ছিল! কারণ হামাস এবং ইজরাইলের উভয়ের শত্রু ছিল পিএলও। হামাসকে ফাতাহ এর শক্ত প্রতিদ্বন্ধী হিসেবে তৈরি করা ইজরায়েলের মূল লক্ষ্য ছিল। ১৯৯৩ তে অসলো চুক্তির পর গাজা সীমান্তে হামলার প্রতিবাদে হামাস ইজরাইলে আত্মঘাতী বোমা হামলা শুরু করলে ইজরাইল হামাস সংঘাত চূড়ান্ত রূপ নেয়। পরবর্তীতে হামাস ইজরাইলে বিভিন্ন সময়ে আত্মঘাতী বোমা হামলা করে শত শত ইজরায়েলের জনগণকে হত্যা করে।কিন্তু হামাসের নীতি নির্ধারকরা যখন বুঝতে পারে ইজরায়েল তাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে তারা তখন ইজরাইলের বিরুদ্ধে চলে যায়। ১৯৯৩ তে অসলো চুক্তির পর গাজা সীমান্তে হামলার প্রতিবাদে হামাস ইজরাইলে আত্মঘাতী বোমা হামলা শুরু করলে ধীরে ধীরে ইজরাইল হামাস সংঘাত চূড়ান্ত রূপ নেয়। পরবর্তীতে হামাস ইজরাইলে বিভিন্ন সময়ে আত্মঘাতী বোমা হামলা করে শত শত ইজরায়েলের জনগণকে হত্যা করে। ইজরাইল- হামাস সংঘর্ষ চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে তখন তখন যখন হামাস ২০০১-০২ সালে তেল আবিব এবং ইজরায়েলের বিভিন্ন স্থানে আত্মঘাতী বোমা হামলা করে শাতধিক নিরীহ ইজরায়েলিকে হত্যা করে। এই আত্মঘাতী হামলার জবাবে ইজরাইলের সামরিক বাহিনী হামাসের সামরিক বাহিনীর কমান্ডার সালাহ সেহাদাহকে হত্যা করে এরপর ২০০৪ সালে হামাদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং মূল চরিত্র শেখ আহমেদ ইয়াসিন এবং আব্দুল আজিজ রানতিসিকে হত্যা করে । এভাবেই হামাস ইজরায়েলের সুসম্পর্কে ছেদ পড়ে বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহের মাধ্যমে।

অথচ ২০০৫ সালের আগ পর্যন্ত হামাসের কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ছিল না। তাছাড়া রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিনির ভবিষ্যতের কোন সুরাহা না করতে পারায় ফাতাহর অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ফিলিস্তিনের জনগণের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা কমিয়ে দিয়েছিল। ইয়াসির আরাফাত মারা যাওয়ার পর ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং পিএলওর রাজনৈতিক শূন্যতা দেখা যায়। ঠিক ঐ সময়ে ইজরায়েল বিমান হামলা চালিয়ে হামাসের প্রধান শেখ ইয়াসিনকে হত্যা করে ।ফলে হামাস ফিলিস্তিনিতে এই হত্যাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ফিলিস্তিনী জনগণের কাছে জনপ্রিয়তা লাভ করে। এরপর হামাস রাজনৈতিক দল গঠন করে এক বছরের মধ্যে আশ্চর্য্যজনকভাবে ফিলিস্তিনের ২০০৬ এর সাধারণ নির্বাচন জিতে নেয়। এই নির্বাচনে হামাস জেতার পর হামাস ফাতাহ সংঘর্ষ শুরু হয়। হামাস পিটিয়ে গাজা থেকে ফাতাহকে বের করে দেয়! এই সংঘর্ষ চরম আকার ধারণ করলে ২০০৬-০৭ সালে হামাস-ফাতাহ যুদ্ধে ৭০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয় (বেশীরভাগ গাজাবাসী)। ঠিক এরপর ২০০৮-৯ সালে ইজরায়েল গাজায় হামলা করে ১৪০০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে এবং গাজাকে সম্পূর্নরূপে গুড়িয়ে দেয়।


ইজরায়েলি দায়িত্বশীল এবং ফিলিস্তিনি নেতাদের ভাষ্য থেকে পরিস্কার বোঝা যায় হামাসকে চারাগাছ থেকে মহীরুহ তে পরিণত করেছে ইজরায়েল।


বিভিন্ন ঘটনার দিকে আলোকপাত করলে পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় মোসাদ ফিলিস্তিনীদের ঐক্য নষ্ট করার জন্য হামাসকে পৃষ্ঠপোষকতা শুরু করে । হামাস যখন রাজনৈতিক এবং সমরিকভাবে শক্তিশালী হয়ে যায় এবং ফিলিস্তিনিদের ঐক্য নষ্ট হয় মোসাদ তখন হামাসকে গুড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু হামাস তাদের ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় চলে আসে ! ঠিক তখনই হামাস ফাতাহ সংঘর্ষ শুরু হয়!! নিজদের মধ্যে খুনোখুনিতে যখন গাজা সাক্ষাৎ নরকে পরিণত হয় ঠিক তখন ইজরাইল গাজায় হামাসের সাথে যুদ্ধ শুরু করে গাজার মেরুদন্ড গুঁড়িয়ে দেয়! এ যেন মোসাদের মাস্টারপ্ল্যানের নির্ভুল বাস্তবায়ন। ফিলিস্তিনিদের দুইভাগে বিভক্ত করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে,পরবর্তীতে দুদলকে নির্মূল করার জন্য যুদ্ধ শুরু করে উভয়কে গুড়িয়ে দিয়ে ব্রিটিশদের “ডিভাইড এন্ড রুল” নীতির নির্ভুল প্রয়োগ ব্রিটিশদের পরে ইতিহাসে মোসাদ ব্যতীত আর কেউ পারেনি।

হামাস এখনো মোসাদ কিংবা আইডিএফ এর ফাঁদে বারবার পা দিয়ে যাচ্ছে… হামাস ইজরায়েলের এই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় হতাহত হয় নিরীহ ফিলিস্তিনিরা , বিধ্বস্ত হয় গাজা বারবার! আর জিতে যায় হামাস আর ইজরাইলের ক্ষমতাসীনরা। যুদ্ধ শেষ হওয়ার সাথে হামাস নতুন করে বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা পাবে বিশ্ব মোড়লদের থেকে অন্যদিকে ইজরাইল পাবে অস্ত্র সহায়তা আমেরিকা থেকে ( ইতিমধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় ইজরাইলে ৭৫০+ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র )

ফিলিস্তিনিরা সংঘবন্ধ না সেজন্য হামাসের এই যুদ্ধ অনেকটা অর্থহীন বিশ্ব মোড়লদের কাছে,হামাসের এই বিচ্ছিন্ন স্বাধীনতার প্রয়াসকে তাই পশ্চিমা মিডিয়া সন্ত্রাসী কার্যক্রম বলে আখ্যা দেয়। অন্যদিকে ইজরায়েল ফিলিস্তিনিদের উপর হামলা করে রাষ্ট্রীয়ভাবে,সেজন্য বর্তমান ইজরাইল তাদের হামলাকে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই আত্মরক্ষা বলে চালিয়ে দেয়। ইজরায়েলে হামাসের রকেট হামলাকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে ফিলিস্তিনিদের উপর হামলাকে জায়েজ করে নেয়!যদি ফিলিস্তিনিরা ফাতাহ হামাস একত্রে ইজরাইলের বিরুদ্ধে লড়তে পারতো তখন এটি হতো ফিলিস্তিনিদের যুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত হতো পশ্চিমাদের কাছে। কিন্তু হামাস এই লড়াই একা করায় এটি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে!! ফিলিস্তিনিদের বিচ্ছিন্নতার ঠিক এই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছে ইজরায়েল,সাথে হামাসের আত্মঘাতী নীতি তো আছেই!! গত কয়েক দশক ধরে হামাস ইজরায়েল চলমান যুদ্ধের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় হামাসের অবিবেচক হামলা ইজরায়েলকে হাজার হাজার ফিলিস্তিনির প্রাণ নিতে সুযোগ করে দিয়েছে ,গাজাকে বারবার বিধ্বস্ত করেছে,লাখ লাখ মানুষ বাসস্থান হারিয়েছে। হামাসের নখদন্তহীন হামলা বা পদক্ষেপগুলো মোসাদের পরিকল্পিত অথবা অনুদান সংগ্রহের জন্য এতে কোন সন্দেহ নেই!!!! আর এই হামলায় গণহারে প্রাণ দিচ্ছে নিরীহ ফিলিস্তিনি কিংবা গাজাবাসীরা… আর হ্যাঁ ইজরাইলিরা কি অবিচার করছে ৭০ বছর ধরে ফিলিস্তিনিতে সে সাক্ষী তো বিশ্ববাসী।

হামাসের আত্মবিধ্বংসী হামলার কারণে ফিলিস্তিনীদের এর কতকাল ভুগতে হয় কে জানে।না হয় হামাসের রকেট হামলার বিপরীতে ইজরায়েলর বর্বর ধ্বংসযজ্ঞে বিধ্বস্ত হবে গাজা কিংবা ফিলিস্তিনি জনগণ হারাবে প্রাণ।পরাশক্তিদের মীমাংসার আশ্বাসে কিংবা প্রতিবাদ বার্তার ঘুরপাকে ইজরায়েলি হামলায় প্রভাবে বিলুপ্ত হতে হবে ফিলিস্তিনীদের।

অনেকে হামাসের হামলায় না বুঝে সমর্থন দেন,সমর্থন দেয়ার আগে তারা আবেগকে বেশি প্রাধান্য দেন বাস্তবতা জানার চেষ্টা না করে। দুই শতাব্দীতে মুসলিমদের বিশ্বে ১০০০ বছর(৫০০-১৬০০খ্রিস্টাব্দ) ধরে রাজত্বের ইতিহাস আছে । ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে যখন কারো সাথে লড়েছে তখন কেউ পারেননি মুসলিমদের সাথে। রাসূল (সাঃ) থেকে চার খলিফা,উমাইয়া, আব্বাসীয় , ফাতিমিয়,অটোমান , মামলুক, মোঘলেদের বিশ্বজয়ের ইতিহাস দেখলে দেখা যায় তারা আগে সংঘবদ্ধ হয়ে অর্থনৈতিক এবং সামরিক ভাবে প্রতিপক্ষের সমকক্ষ কিংবা কাছাকাছি হয়ে প্রতিপক্ষের সাথে যুদ্ধ করেছিল এবং অধিকাংশ যুদ্ধে জয়ী হয়েছিল।শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই নয় দর্শন, জ্ঞান-বিজ্ঞানে ,চিকিৎসা শাস্ত্রে মুসলিমরা বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতো এক হাজার বছর ধরে! কিন্তু বর্তমানে আল কায়েদা, তালেবান, আই এস,হামাস নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ইসলামের নামের অপব্যবহার করে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করছে। একটু মাথা খাটালে পরিস্কার হবেন অতীতে মুসলিমরা যুদ্ধ করতো অর্থনৈতিক এবং সামরিক দিক দিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে কিন্তু বর্তমানের কথিত ইসলামিস্টরা ( মুসলিম ব্রাদারহুড,হামাস, আইএস,আল কায়দা,তালেবান ) অস্ত্র এবং অর্থের জন্য পশ্চিমাদের উপর নির্ভরশীল এবং এমনকি তথ্য প্রযুক্তির সর্বাধুনিক উপকরণ তারা পশ্চিমাদের থেকেই সংগ্রহ করে। ফলে সহজেই প্রতিপক্ষ অনুমান করতে পারে ইসলামী রাষ্ট্রের বুলি আওড়ানোর নামে জঙ্গিদের সামরিক সক্ষমতা সমন্ধে! বর্তমানে ইরান একমাত্র ইজরায়েল কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নিজেদের তৈরি অস্ত্র দিয়ে লড়ে থাকে,এবং তারা ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রীয়ভাবে লড়ে থাকে।এজন্য পশ্চিমা মিডিয়া সহজে ইরানের কার্যক্রমকে জঙ্গিবাদ কিংবা বিচ্ছিন্নতাবাদ বলে আখ্যা দিতে পারেনা সহসা! কিন্তু যখন হামাস এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্যরা সামরিক এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জন ছাড়া নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য নিজের জাতির মধ্যে যুদ্ধ লাগিয়ে নিজেরা বিভক্ত হয়ে নিজেদের নিধন করে ,প্রতিপক্ষের(ইজরাইলের)সাথে যখন লড়তে যায় এটিকে বিচ্ছিন্নতাবাদ কিংবা আখ্যা দেয়া সহজ হয়। হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় ইজরায়েলের সকল রাজনৈতিক দল মিলে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠিত করে। অন্যদিকে ইজরাইলের সাথে হামাসের যুদ্ধে হামাস একাই, ফিলিস্তিনের অন্য কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থন নেই হামাসের কার্যক্রমের সাথে! কারণ হামাসের সাথে ইজরায়েলের যুদ্ধ একটি রাষ্ট্রের সাথে একটি রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ যেটির মূল সংগঠন জঙ্গিবাদের জন্য খোদ প্রভাবশালী অনেক মুসলিম দেশেই নিষিদ্ধ।ফলে স্বাভাবিকভাবেই হামাসের রাজনৈতিক কিংবা সমারিক অবস্থান জঙ্গিবাদ হিসেবে বিবেচিত হয় পশ্চিমে।আর হামাসের এই হঠকারিতার মাশূল দিচ্ছে লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনি।যেখানে ইজরাইলের থেকে কয়েকগুণ বেশি সামরিক সক্ষমতা নিয়ে আরব দেশগুলো ১৯৪৯,১৯৬৭,১৯৭৩ এর যুদ্ধে শোচনীয়ভাবে হেরেছিল ইজরায়েলের কাছে ,সে তুলনায় বর্তমানে হামাসের সক্ষমতা ইজরায়েলের ১০০ ভাগের দশভাগ ও নেই। এই যুদ্ধে হামাস একা লড়ছে এবং জেতার সম্ভাবনা অলীক কল্পনা। হামাসের ইজরায়েলের সাথে অসম এবং অবাস্তবিক যুদ্ধ স্রেফ আত্মহত্যার শামিল। ইজরায়েলের সামিরক এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ মদদে হামাসের উত্থান। খুব স্বাভাবিকভাবেই হামাস ফিলিস্তিনিদের চাইতে ইজরায়েলের স্বার্থ রক্ষা করবে…… হামাস নামক মরীচিকায় আর কতকাল বিভ্রান্ত হবে ফিলিস্তিনিরা কে জানে!!

এরপরও যদি বুঝতে অসমর্থ হন বর্তমানে ফিলিস্তিনিদের দুরাবস্থার কারণ তাহলে “Connect The dots, You’ll get your answer”