স্টেটসম্যান বঙ্গবন্ধুর সেরা ভাষণ!১৯ জুন,১৯৭৫।

৭ মার্চের ভাষণ বঙ্গবন্ধু দিয়েছিলেন বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে দীর্ঘদিনের লালিত পরম আরাধ্য মুক্তির বার্তা হিসেবে। বিশ্বের মুক্তিপাগল জাতিগুলোর জন্য বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ দিকপাল হয়ে থাকবে চিরকাল। ৭ মার্চের ভাষণের মহিমায় বঙ্গবন্ধুর  আরেকটি অসাধারণ  ভাষণ আড়ালে থেকে যায়। সেটি হলো বঙ্গবন্ধুর বাকশালের বৈঠকে প্রথম ভাষণ। বাকশাল বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতালব্ধ,সুবিবেচনাপ্রসূত,সুপরিকল্পিত এবং আধুনিক ছিল সেটা বঙ্গবন্ধুর ভাষণ থেকেই  জানা যায়। বাকশাল সমন্ধে অপপ্রচারের জবাব কিংবা বাকশালের পটভূমির ব্যাখা বঙ্গবন্ধুর মুখ থেকে শুনলে বাকশাল সমন্ধে সকল ভুল ধারণার অবসান হতে বাধ্য। বাকশাল সম্বন্ধে জানার জন্য কিংবা ধারণা অর্জনের জন্য কোন গবেষক কিংবা বইয়ের দারস্থ হওয়ার  আগে বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি সবার পড়া উচিৎ  এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ  পরিকল্পনা সবকিছুর ব্যাখ্যা পাওয়া   যায় বঙ্গবন্ধুর এই এক ভাষণে। ঘাতকরা যদি সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা না করতো আর বঙ্গবন্ধু যদি বাকশাল কায়েমের সুযোগ পেতেন তাহলে বাংলাদেশ হতো উন্নত বিশ্বের অন্যতম আলোর দিশারি আর বঙ্গবন্ধু হতেন পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম সেরা স্টেটসম্যান।  গবেষকরা এই ভাষণটিকে বঙ্গবন্ধুর সেরা ভাষণ বলে আখ্যা দিয়ে থাকেন অনেক সময়।আসুন পড়ে আসি মুজিববাদের সংগ্রহ করা বাকশালের প্রথম বৈঠকে কি ছিল বঙ্গবন্ধুর ভাষণে…

বাকশাল কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ।

 ঢাকা , ১৯ শে জুন, বৃহস্পতিবার

আজ বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম বৈঠকে দলীয় চেয়ারম্যান জাতির জনক রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রদত্ত ভাষণের পূর্ণ বিবরণ।

আজকে প্রথম দিন আমরা এখানে বসেছি সকলের সঙ্গে দেখাশুনা করার জন্য , যাকে বলা হয় গেট টুগেদার। যাতে আমরা মেম্বার যারা রয়েছি , সকলে একসঙ্গে বসতে চাই , সকলকে যেন চেনা যায় , আলােচনা করা যায় এবং জানা যায় কি অবস্থা । শিগগিরই অ্যাসেম্বলি সেশন হবে , বাজেট সেশন । আগস্ট মাসে সেন্ট্রাল কমিটির বৈঠক বসবে । একদিন দুদিনের জন্যে নয় , দরকার হলে পাঁচ – সাত দিনের জন্য বসবে । এবং সেই সেন্ট্রাল কমিটির মিটিংয়ে বিভিন্ন এজেন্ডা দেয়া হবে । সেই এজেন্ডা অনুযায়ী কনফারেন্সকে ভাগ করে কতগুলাে সাব – কমিটি বা কমিশন করে দেয়া হবে । বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট এবং বাইরের যদি দরকার হয় তাদের নিয়ে বিভিন্ন বিষয় আলােচনা করে একটি প্রপােজাল সাবমিট করা হবে কনফারেন্সের কাছে । যেমন ফুড , এগ্রিকালচার , ইন্ডাস্ট্রি , ফ্লাড কনট্রোল , এডুকেশন বিভিন্ন সাবজেক্টের সাব – কমিটি করে তাদের কাছে ভার দেয়া হবে । রেসপেক্টিভ মিনিস্টার সেখানে থাকবেন । সরকারি কর্মচারীরা থাকবেন । দরকার হয় বাহির থেকে — যারা আমাদের কমিটি মেম্বার নয় , কিন্তু যারা কন্ট্রিবিউট করতে পারেন , তাদেরকে আমরা ইনভাইট করতে পারব । সেখানে বসে কতটুকু কী করা হয়েছে , কতটা ভুল হয়েছে , কী ক্রটি হয়েছে বা কী কী করলে আমরা দেশের ইমপ্রুভমেন্ট করতে পারব । সাজেশন দিলে তখন সেন্ট্রাল কমিটি থেকে এটা প্রস্তাব করে গভর্নমেন্ট সেই অনুযায়ী তাদের কাজকর্ম করবে । এই আমাদের ইচেছ। আগস্ট মাসে একটা ফুল এজেন্ডা নিয়ে কাজ শুরু করা ।

আপনাদের কাছে বক্তৃতা করে বােঝানাের দরকার নাই । তবে এটুকু বলতে পারি কেন আমরা এ নতুন পদ্ধতি সৃষ্টি করলাম আর কেনই – বা আমরা একে বিপ্লব বললাম । সেদিন ডক্টর এনামুল হক সাহেবের একটা লেখা পড়লাম । তিনি বললেন যে , বাংলাদেশ যে স্বাধীন হয় নাই সেকথা সত্য নয় । বাংলাদেশ অনেকবার স্বাধীন হয়েছে কিন্তু রাখতে পারে নাই । বিদেশিদের ডেকে আনতে হয়েছে , ডেকে এনেছে এই বাঙালিরাই । কথাটা আমার মনে লাগল । কিন্তু আমি তাে উনার মতাে শিক্ষিত নই । তিনি তাে আমার চেয়ে অনেক গুণীজন , গুরুজন । ওনাকে আজও ভক্তি করি আমি । আমি যা চিন্তা করতাম বা ইতিহাসে যা পড়েছি তা উনার কথা পড়ে আমি তা কনফার্ম করলাম । আজকে স্বাধীনতার পরে বিনা কারণে এইভাবে সিস্টেম চেঞ্জ করি নাই । বাংলাদেশে নির্বাচন দিয়েই ৯৭ পারসেন্ট ভােট আউট অব থ্রি হানড্রেড ফিফটিন , থ্রি হানড্রেড সেভেন সিটস আমাদের পার্টি আওয়ামী লীগের ছিল । যদি তার পরও ইলেকশন দিতাম , এখনও বিশ্বাস করি দুই এক পারসেন্ট (এটুক স্পষ্ট না) নব্বই পার্সেন্ট- এর কম পাবে না আমাদের পার্টি। আর ক্ষমতার জন্য রাজনীতি যদি করতাম — তাহলে আমরা অনেকবারই ক্ষমতায় আসতে পারতাম। যদি নেগােশিয়েসন বা আপােষে আমরা ক্ষমতা চাইতাম , তাহলে কেন আমরা এই পরিবর্তন করলাম ? আজ দুনিয়ার দিকে আমাদের চাইতে হবে । স্বাধীনতার পর আমাদের কী দশা হলাে? ধ্বংসস্কৃপের মধ্যে আমরা স্বাধীনতা পেলাম, এবং রক্তের বিনিময়ে পেলাম। সাড়ে সাত কোটি লােক , ৫৪ হাজার স্কয়ার মাইল। সম্পদ বলতে কোনাে পদার্থ আমাদের ছিল না। সমস্ত কিছু ধ্বংস , আমরা কিন্তু চেষ্টা করলাম যে ঠিক আছে , আমরা একদম যাকে যা ফ্রিহ্যান্ড দিয়ে দিলাম। আচ্ছা বলাে , আচ্ছা করাে , আচ্ছা দল গড়াে , আচ্ছা লেখাে , আচ্ছা বক্তৃতা করাে , বাধা নাই , ফ্রি হ্যান্ড । আমার মনে নাই , বােধ হয় , আমার মনে পড়ে না যে দশ বিশ বছরের মধ্যে আমরা অনেক পুরানা নেতৃবৃন্দ আছেন যে পল্টন ময়দানে দাড়িয়ে শেখ মুজিবুর রহমানকে গালাগালি করে কেউ ফিরে গেছে । এ আমার জানা নাই বিশ পঁচিশ বছরের মধ্যে। কিন্তু তাও ক্ষমতায় এসে বিপ্লবের মাধ্যমে বললাম , যদি কিছু ভালাে কথা বলতে চাও বলাে , যদি দেশের মঙ্গল হয় বলাে। কিন্তু দেখতে পেলাম কী? আমরা যখন এই পন্থায় এগুতে শুরু করলাম, বিদেশি চক্র এদেশে মাথা চাড়া দিয়ে উঠল এবং তারা এদেশের স্বাধীনতা বানচাল করার জন্য ষড়যন্ত্র শুরু করল এবং ফ্রি স্টাইল শুরু হয়ে গেল । হুড়হুড় করে বাংলাদেশে অর্থ আসতে আরম্ভ করল । দেশের মধ্যে ধ্বংস– একটা ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ যা — এ ছাড়াও আরও দেখা গেল, যাদের আমরা এ সমস্ত ভােগ করতে দিলাম তারা রাতের অন্ধকারে মানুষ হত্যা করতে আরম্ভ করল । যখন আমরা বলেছি যে , বাবা ঠিক আছে , পাঁচ বছর পরে ইলেকশন হবে , ইলেকশন করাে , ইলেকশনে যদি ডিফিট খাই আর একজন এসে বসবে । হাইকোর্টের একজন এক্স – জাজ আমাদের ইদ্রিস সাহেবকে ইলেকশন কমিশনার করা হয়েছিল । তাকে আমি ইলেকশনের ব্যাপারে বলেছি , কোনাে কথা নাই । যা ভালাে বুঝবেন তাই করবেন আপনি , ফ্রি ফেয়ার ইলেকশন হবে । তা না করে রাতের অন্ধকারে ইলেকটেড মেম্বার অব পার্লামেন্ট তাদের হত্যা করা হলাে । যারা স্বাধীনতা সংগ্রামে যুদ্ধ করেছেন , দেশ ত্যাগ করেছেন , ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে যাদের সম্পত্তি , তাঁদের রাতের অন্ধকারে হত্যা করা হল । মােট কয়েক হাজার কর্মীকে হত্যা করা হল । করেছে , মুক্তি বাহিনীর ছেলে , তাদের হত্যা করা হলো।  চরম ষড়যন্ত্র। রাজনীতির নামে হাইজ্যাক , এই রাজনীতির নামে মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করে বা মানুষের বাড়িতে গিয়ে গহনা কেড়ে নেয় । রাজনীতির নামে একটা ফ্রি – স্টাইল শুরু হয়ে গেল । নব্য, কিছুদিন আগে স্বাধীনতাপ্রাপ্ত একটা দেশে এই অবস্থা চলতে দেওয়া যায় না । পিপলস – এর মধ্যে যে ডিমরালাইজিং ইফেক্ট হয় , তার ফল খুব খারাপ হয় । আমরা জানি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালাে নয় । আমরা জানি বন্যা , এক কোটি লােক চলে গিয়েছে , তারা ফিরে আসবে , তাদের রিহিবিলিটেশন । ওয়ার্ল্ড ইনফ্লেশন , যা আমার হাতে আপনার হাতে নয় । জিনিসের দাম বেড়ে গেল । ড্রাউট হল বাংলাদশে , এই সাউথ – ইস্ট এশিয়াতে । ফ্লাড আসল , সাড়ে সাত কোটি লােক , ২০০ বছরের গােলামি , অর্থনৈতিক কাঠামাে নেই । সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট বলে কোন গভর্নমেন্ট নেই , সবকিছু রয়েছে ইসলামাবাদে । একটা প্রভিনসিয়াল গভর্নমেন্ট ছিল , ছােটোখাট , তাও নয় মাসে আর্মি কন্ট্রোলে নিয়ে নিল । তাদের স্ট্রাকচার ধ্বংস করে দিল । নেই একটা ফরেন অফিস , নেই একটা প্ল্যানিং অফিস , নেই একটা কোনাে কিছু । আমাদের সব কিছু আরম্ভ করতে হয়েছিল গােড়া থেকে । এই সুযােগে মামাদের — যারা স্বাধীনতার নামে অনেক চেষ্টা করেছিল যার যার নিজেদের একটা বেস ’ করা যায় কি না । ভবিষ্যতে তাদের স্টুজরা এদেশে সরকার চালাতে পারে কি না । বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে এবং আগে যে পলিসি আমরা নিয়েছি , বৈদেশিক নীতি , বাংলাদেশের মানুষ শিক্ষিত সমাজ এবং দুনিয়া এটাকে অ্যাপ্রিশিয়েট করেছে । আমরা নন – এলায়েন্ড , আমরা ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফরেন পলিসিতে বিশ্বাস করি , আমরা পিসফুল কো – এক্সিসটেন্স – এ বিশ্বাস করি । আমরা দুনিয়ার নির্যাতিত পিপলের সাথে আছি , আমরা কারাে সাথে শত্রুতা করতে চাই না । আমরা সকলের সাথে বন্ধুত্ব করতে চাই , আমরা আন্ডার ডেভেলপড কান্ট্রি , আমরা বিশ্বে শান্তি চাই , আমরা কারুর ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে চাই না , আমাদের ব্যাপারেও কেউ হস্তক্ষেপ করুক এটা আমরা চাই না । আমরা দেশকে গড়তে চাই , আমরা সকলের শান্তি চাই , আমাদের লােক বাঁচতে চায় । এই পলিসি সকলেই — প্রায় হােল ওয়ার্ল্ড — পছন্দ করল । আমার দেশবাসী সেটাকে সমর্থন জানাল । আমরা মনে করি , আমাদের বৈদেশিক নীতি সম্পূর্ণরূপে সাকসেসফুল হয়েছে । আজ আমরা নন – এলায়েন্ড কান্ট্রিতে আছি , আজ আমরা ইসলামিক সামিট – এ আছি , আজ আমরা কমনওয়েলথ – এ আছি , আজ আমরা ইউএনও – তে আছি । ইউএনও – র চার্টারে বিশ্বাস করি । আমরা সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চাই । ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্স – এ আমাদের প্রয়ােজন নাই , আমাদের কোনাে স্বার্থ নেই । আমরা , যেখানে নির্যাতিত মানুষ থাকবে , তাদের মর‍্যাল সমর্থন দিতে যতই বাধা থাকুক না কেন , আমরা দিব । আমরাও অপ্রেসড পিপল , আমরাও যুগযুগ ধরে এটার সঙ্গে পরিচিত ছিলাম , আমরাও মার খেয়েছি , দুনিয়ার শাষকগােষ্ঠী , ইম্পেরিয়ালিস্ট পাওয়ার আমাদের সম্পদ লুট করে নিয়েছে । আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি , আমাদের স্বজন হারানাের অর্থ কী? এর অর্থ হলাে আমাদের অর্থনীতির মালিক আমি এবং আমার দেশ সেই সম্পদ ভােগ করবে। তারপর পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার জন্য আমরা চেষ্টা করেছি । আমরা এতাে রক্ত দিয়েছি, এতাে আমরা আঘাত পেয়েছি , এতাে আমাদের ইনটেলেকচুয়েলকে হত্যা করা হয়েছে , মানুষকে হত্যা করা হয়েছে , আমাদের রাস্তাঘাট ধ্বংস করা হয়েছে, তবুও আমরা বলেছি , আমরা সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই । কিন্তু দুঃখের বিষয় যারা ১৯৫ জন , যারা কমিটেড ক্রাইম এগেইনস্ট হিউম্যানিটি , তাদের পর্যন্ত আমরা মাফ করে দিলাম , উদ্দেশ্য এই ছিল যে , আমরা এদেশে – সাউথ ইস্ট এশিয়া , পারটিকুলারলি সাব – কনটিনেন্টে একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করে আমরা এ দেশে ডেভেলপমেন্টের কাজ করব , আমাদের এটেনশন থাকবে মানুষের মঙ্গল করা , দেশকে গড়া। কিন্তু পাকিস্তান , দুঃখের বিষয় , একটা পয়সা পর্যন্ত, ৫৬ পারসেন্ট আমরা পপুলেশন , কেন্দ্রীয় সরকারের কোনাে সম্পদ আমাদের দিল না , ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ আমাদের দিল না , গােল্ড রিজার্ভ আমাদের দিল না। আমাদের কোনাে একটা জাহাজ দিল না, কোনাে কিছুই তারা আমাদের দিল না ।

আমরা আমাদের দিক দিয়ে শত চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু তারা এগিয়ে আসলাে না , দ্যাটস অল রাইট। মাটি আছে , মানুষ আছে , দেশ আছে , ইনশাল্লাহ। কষ্ট হয়েছে আমার মানুষের , না খেয়ে মরেছে সত্য কথা। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে যে সম্পদ আছে যদি গড়তে পারি , অনেস্টলি কাজ করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশের কষ্ট একদিন দূর হয়ে যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমরা চেষ্টা করেছিলাম, আমরা এখনও পর্যন্ত চেষ্টা করছি , কিন্তু তারা এগুচ্ছে না। এছাড়া কারও সঙ্গে দুশমনি নাই । চায়না রেকগনিশন দিল। আমরা চায়নার সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই। তারা একটা বিগ কান্ট্রি । আমরা এখনও বন্ধুত্ব চাই। আমার সঙ্গে বন্ধুত্ব আছে রাশিয়ার , আমার বন্ধুত্ব আছে ভারতবর্ষের সঙ্গে , আমার বন্ধুত্ব আমেরিকার সঙ্গে। এ বন্ধুত্ব সকলের সঙ্গে আমরা চাই। আমরা কারও সঙ্গে গােলমাল করতে চাই না । কারণ আমি আমার দেশকে গড়তে চাই , এই পলিসিতে আজ পর্যন্ত আমরা এগিয়ে চলেছি কিন্তু দেশের মধ্যে এজেন্সি শুরু হয়ে গেলো, একটা খবরের কাগজ বহুদিন রাজনীতি করেছি। ১৮ বছর বয়স, তখন বোধ হয় ১৯৩৮, তারপর চোঙ্গা মুখে দিয়ে রাজনীতি করেছি , রাস্তায় হেঁটেছি , ফুটপাথে ঘুমিয়েছি। সেই রাজনীতি থেকে আজ এ পর্যন্ত এসেছি, এর মধ্যে আমি বলতে চাই না যে আমি সােনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মেছি,সাধারণ মানুষ থেকে আমি চোঙ্গা ফুঁকেছি , সাইকেলে ঘুরেছি , গ্রামে গ্রামে ঘুরে রাজনীতি করেছি — একটা খবরের কাগজ চলতে পারে না যদি অ্যাডভারটাইজমেন্ট না পায়। বৎসরের পর বৎসর এই টাকা কোনাে পলিটিক্যাল পার্টি ব্যয় করতে পারে বলে আমার জানা নাই। আর আমি হলাম বিগেস্ট পলিটিক্যাল পার্টি লিডার, যে দেশে একটা পার্টি গড়ে তুলেছি এবং চালিয়েছি, যেটা নাম্বার ওয়ান পলিটিক্যাল পার্টি অব বাংলাদেশ।

আমি একটি ডেইলি কাগজ চালাতে পারি নাই। অর্ধেক ভাগ করেন তার মানিক ভাই। বরং মানিক ভাইর ‘ এবিলিটি এবং এক্সপেরিয়েন্সে’ ইত্তেফাক কাগজ চালাতেন তিনি । তা থেকে আমাদের সমর্থন করতেন। এ তিন বছরের মধ্যে দেখা গেল যে এমন কাগজও চলল , যে কাগজ বছরে এক ইঞ্চি ‘ অ্যাডভারটাইজমেন্ট ‘ পায় নাই। কিন্তু একটা কাগজ করতে মাসে কম পক্ষে এক লক্ষ , সােয়া লক্ষ , দেড় লক্ষ টাকা খরচ হয়। আজকে এই টাকা তারা কোথা থেকে পায়? কে দেয়? তাদের এই টাকা কোথা থেকে আসে? তারপর ‘ ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট ‘ বলতে যে পদার্থ বাংলাদেশে আছে , তাদের এতাে টাকা আছে বলে আমার জানা নাই- ছিল কি না জানি না। এখন  কিছু লোক নতুন টাকার মানুষ হয়েছে।কিন্তু ইন্ডাস্ট্রি তো আমরা নিয়ে নিলাম।দেখা গেল যে বিদেশ থেকে পয়সা পেয়ে তারা দেশের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, গোলমাল সৃষ্টি করে।

আর দ্বিতীয় কথা হলো, আমরা এই ‘সিস্টেম ইন্ট্রডিউস’ করলাম কেন? এই যে আমাদের সমাজ,এখানে দেখতে পাই,আমি অনেক চিন্তা করেছি,বহুদিন কারাগারে জেলে একলা একলা বসে বসে চিন্তা করতে আমি সময় পেয়েছি,এই সব বিষয় যে,আমার দেশের ২০% লোক আমরা শিক্ষিত।তার মধ্যে আমরা ১০% বা ৫% লোক বলব আমরা লেখাপড়া কিছুটা জানি। এর মধ্যে আমরা এক গ্রুপ পলিটিশিয়ান হয়ে গেলাম ।এক গ্রুপ আমরা বুদ্ধিজিবি।এক গ্রুপ সুল টিছার,যারা এই ঘোর প্যাঁচের মধ্যে আসতে চায় না। এক গ্রুপ সরকারী কর্মচারী হয়ে গেলাম,কেউ ডাক্তার হয়ে গেলাম ,কেউ ইঞ্জিনিয়ার হয়ে গেলাম,কেউ অমুক হয়ে গেলাম। আর কিছু সংখ্যক থেকে গেলাম রাজনিতিবিদ। কিন্তু ‘অ্যাকচুয়াল’ যেটা ‘পিপল’ সমস্ত একতাবদ্ধ না করতে পারলে সমাজের দুর্দিনে দেশের মঙ্গল হতে পারেনা। সেজন্য আমরা চিন্তা করলাম যে যেখানে আছেন,বুদ্ধিজীবি হন, ডাক্তার হন, ইঞ্জিনিয়ার হন,সরকারি কর্মচারী হন,রাজনীতিবিদ হন, ল-ইয়ার হন-কারণ আমার সমাজের শতকরা ২০ জনের বেশি শিক্ষিত নন,এর এর মধ্যে সমস্ত লোককে একতাবদ্ধ করে দেশের মঙ্গলের জন্য যদি এগিয়ে যেতে না পারি, তবে দেশের মঙ্গল করা কষ্টকর হবে। সেজন্য নতুন সিস্টেমের কথা বহুদিন পর্যন্ত চিন্তা করেছি। আমার মনে হয় বাংলাদেশবাসী এটাকে গ্রহণ করেছে এবং ভালভাবে গ্রহণ করেছে। আর একটা জিনিস আমি মার্ক করলাম। সেতা হল, এই যে একদল বলে আমরা পলিটিশিয়ান,এক দল বলে আমরা ‘ব্যুরোক্র্যাট’ । তাদের এটীচিউড হল ‘হাউ টু ডিসক্রেডিট পলিটিশিয়ান।‘ পলিটিশিয়ানরা তাদের স্ট্রেইন্থ দেখানোর জন্য বলত যে ‘আলরাইট গেট আউট’। এ নিয়ে সমস্ত দেশ একটা ভাগ ভাগ অবস্থার  মধ্যে থাকত এবং এই সন্দেহটা দূর করা দরকার। এবং দূর করে সকলেই যে এক  এবং সকলেই যে দেশটাকে ভালোবাসেন এবং মঙ্গল ছায়,আমার সমাজের যে সমস্ত গুণী জ্ঞানী লোক আছেন ও যত লোক আছেন,তাদের নিয়ে আমার একটা পুল করা দরকার।এই পুল আমি করতে পারি যদি আমি নতুন একটা সিস্টেম ছালু করি এবং একটা নতুন দল সৃষ্টি করি-জাতীয় দল,যার মধ্যে একমত,এক পথ,এক ভাব, এক হয়ে দেশকে ভালবাসা যায়,যারা বাংলাদেশকে ভালবাসে তারা একতাবদ্ধ হয়ে দেশের মঙ্গলের জন্য কাজ করে যেতে পারে। এজন্য আজকে এটা করতে হয়েছে।

আর দ্বিতীয়তঃ পয়সা কড়ি খরচ করে অন্য ধরণের রাজনীতি করা যায়।কিন্তু আমি যেটা বলেছি- শোষিতের গণতন্ত্র কেন বলেছি ‘শোষিতের গণতন্ত্র এজন্য বলেছি-যে আজকে বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসে মানুষ । বঙ্গবন্ধু বলে দিয়েছে “আল রাইট তুমি  যেয়ে কনটেস্ট কর।আমি যেয়ে কিছু বক্তৃতা করে দিয়ে আসলাম-যাও।পছন্দ করলো না, বঙ্গবন্ধু কইছে,আর কি করবো, ভোটটা দিয়েই দিয়েই দিলাম। এ-ও হয়েছে অনেক জায়গায় হয়।কাজেই সেজন্য সিস্টেম চেঞ্জ করে বলেছি এই যে কনস্টিট্যুয়েন্সিতে চার জন,কি তিন জন,কি দুই জন লোক গেছে তাদের সমন্ধে লোকদের বলে দেওয়া হল,এই তিন চার জন পার্টির লোক আছে তার মধ্যে  যাকে আপনারা পছন্দ করেন ভোট দিন। ফলে ঐ জনগণ সুযোগ পেল অ্যাকর্ডিং টু দেয়ার অওন চয়েস ভাল লোককে পাঠাবার জন্য। তাহলে আমরা অনেক সময় ‘জিন্দাবাদ’ ‘মুর্দাবাদ’ দিয়ে পাশ করে নিয়ে আসি। তাতে দেখা গেছে সত্যিকারের ভাল লোক অনেক সময় নাও আসতে পারে। কিন্তু এতে সত্যিকারের ভালো লোক আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি। সেজন্য এই সিস্টেম করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, জাতীয় ঐক্য ,যেটা বলেছি আমি ,জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে পারবো। আর যারা দেশকে ভালোবাসেনা দেশের সঙ্গে বেঈমানি করলো তাদের সকলকে আমরা ক্ষমা করলাম। স্বাধীনতার সঙ্গে যারা বিস্বাসঘাতকতা করল-বেইমানি করল,রাজাকার হল তাদেরকেও আমরা ক্ষমা করে দিলাম।অন্য দেশে বিপ্লবের পরেও এভাবে ক্ষমা করেনাই।একেবারে নির্মূল করে দিয়েছে।কিন্তু আমরা ক্ষমা করলাম।বললাম যে ঠিক আছে ,তওবা কর,আল্লাহ তোমাদের ঈমান দিক; তোমরা দেশের কাজ করো। কিন্তু চোরা শুনেনা ধর্মের কাহিনি।তাদের মধ্যে একটা গ্রুপ,সেই শত্রু যে আমাদের এখানে ম্যাসাকার করলো তাদের ,মাধ্যমে লন্ডনে বসে অর্থ খরচ করে বাংলাদেশের মধ্যে একটা  বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করতে আরম্ভ করল। তাদের কি অধিকার আছে রাজনীতি করার বাংলাদেসে?ক্ষমা করতে পারি কিন্তু কী অধিকার তাদের আছে বিদেশে বসে বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবার চেষ্টা করার?স্বাধীনতার সাথে শত্রুতা করার?অন্য একটা দেশের প্রভিন্স করবার চেষ্টা করার? বাংলাদেশে তাদের রাজনৈতিক অধিকার থাকবেনা-থাকতে পারেনা। অ্যান্ড উই মাস্ট বি রুথলেস ফর দ্যাট। এসমস্ত লোককে সন্দেহ লাগে। আমরা জানি-পরিস্কার জানি  যে এ জিনিস হচ্ছে। সেজন্য আজকে আমাদের জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন। আজকে আমাদের যাদের একমত,এক পথ,আজকে তারা মিলে এক সঙ্গে এক ঐক্যে নতুন দলের সৃষ্টি করেছি।নতুন সিস্টেম করেছি।আমাদের দেশে বহুদিনের একটা মেন্টালিটি দেখেছি।কিন্তু একটা নতুন জিনিস দেখলে আমাদের একটা বাধা আসে। বিপ্লব কাকে বলা হয়? পুরোনো রীতি ,যেটা দেশের মঙ্গল করেনা সেই রীতি বদলানোর মত সৎ সাহস থাকা প্রয়োজন। পুরোনো আইন, যে আইন দেশের মঙ্গল না করে সেই আইনের পরিবর্তন এবং পরিবর্ধন করার অধিকার বাংলাদেশের জনগণের রয়েছে। পুরোনো মত  এবং পথ যদি দেশের মঙ্গল না করতে পারে সেই মত এবং পথের পরিবর্তন এবং পরিবর্ধন করার অধিকার বাংলাদেশের জনগণের রয়েছে। নতুন  বিপ্লব যখন আপনি বলছেন তখন এই বিপ্লবের মাধ্যমে জাতির জন্য একটা নতুন জিনিস নতুন সিস্টেম আপনাকে গড়ে তুলতে হবে। যে সিস্টেম আজকে আমরা দেখি সেই সিস্টেম ব্রিটিশ কলোনিয়াল সিস্টেম।এতে দেশের মঙ্গল হতে পারেরনা।এটাতে আমরা কনভিন্সড। ব্রিটিশ যে সিস্টেম করে গিয়েছিল বা যেটা আমাদের দেশে চলছিল অর্থাৎ  উপনিবেশবাদিরা দেশকে শোষণ করার জন্য যে সিস্টেম দেশের অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মধ্যে চালু করে দিয়েছিল সেই অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সেই সিস্টেম সেই আইন,সেই সব কিছু পরিবর্তন করার নামই বিপ্লব। শুধু এজন্যই আমি এক পার্টি করেছি তা নয়।  ঘুণে ধরা এই শাসন ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে চুরমার আমি করতে চাই। বর্তমানে  ঘুণে ধরা বিচার পদ্ধতিকে ভেঙ্গেচুরে জনগণ যাতে তাড়াতাড়ি বিচার পায় সেরকম ব্যবস্থা আমি নতুন করে করতে ছাই।আমার এই নতুন সিস্টেমই একটা বিপ্লব।সেজন্যই আজকে আমি কারো কথা শুনি নাই। শুনতে আসি নাই। আজকে আপনাদের কাছে বলার জন্য  আমি খবরের কাগজ ও দেই নাই।কাল আমি অর্ডার নিয়ে এসেছি। গো অন সিক্সটি ডিস্ট্রিকিস। ষাইটটি সাব ডিভিশন হবে ষাইটটি জেলা। প্রত্যেক জেলার জন্য একজন গভর্নর থাকবেন।সেখানে ডিস্ট্রিকট ম্যজিস্ট্রেট থাকবেন। তার অধীনে এসপি থাকবেন। দলের প্রতিনিধি থাকবেন, সংসদ সদস্যরা থাকবেন,জনগনের প্রতিনিধিরা থাকবেন।কাউন্সিলে সরকারী কর্মকর্তারা ও থাকবেন। প্রত্যেক জেলায় অর্থাৎ বর্তমান মহকুমাসমূহে একটি করে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কাউন্সিল থাকবে এবং একজন গভর্নর থাকবে।সে স্থানীয়ভাবে  শাসন ব্যবস্থা চালাবে। শাসন ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে।জেলা গভর্নরের কাছে যাবে আমার ওয়ার্কস প্রোগ্রামের তাকা।তার কাছে যাবে আমার খাদ্য সামগ্রী। তার কাছে যাবে আমার টেস্ট রিলিফ, লোন, বিল ও সেচ প্রকল্পের টাকা। কেন্দ্রীয় প্রশাসনের ডাইরেক্ট কন্ট্রোলে অ্যাডমিনিস্ট্রটিভ কাউন্সিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পরিচালনা করবে।তবে ব্রিটিশ আমলারা বলে গিয়েছেন, সাব ডিভিশনাল ম্যজিস্ট্রেট থাকতে হবে,এসডিও যাই করবেন সেটা হবে ফাইনাল কথা। সিও সাহেব শাসন করবেন থানায় বসে,সেই অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রাখতে হবে? এতে  দেশের মঙ্গল দূরের কথা। কারণ আমি যে টাকা দেবো একটা থানায় ,সেই টাকা দেবো সিও সাহেবকে। এনি পলিটিকাল ওয়ার্কার ইজ বেটার দ্যান এনি সিও ইফ ডি পলিটিক্যাল ওয়ার্কার ইজ সিনসিয়ার। ক্যাশের টাকা সেখান থেকে লুট হয়ে যাবে , শে জন্য আমি অর্ডার দিয়েছি,আজকে অর্ডার হয়ে গেছে। ১৫ জুলাই থেকে ৬০ জন গভর্নরকে ট্রেনিং দেওয়া হবে। ১ লা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডিসট্রিক্ট হয়ে যাবে।  ১ বছরের মধ্যে থানা অ্যাডমিনিস্ট্রিটিভ কাউন্সিল গঠন করতে হবে। সেখানে বাকশালের রিপ্রেজেন্টিটিভ থাকবে, কৃষকের রিপ্রেজেন্টিটিভ থাকবে,শ্রমিকের থাকবে,যুবকের থাকবে,মহিলাদের থাকবে। একজন  গভর্নর থাকবে যিনি হবেন হেড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। সেখানে মেম্বার অব পার্লামেন্ট গভর্নর হতে পারে,সেখানে পার্লামেন্টের মেম্বার নয় এমন পলিটিক্যাল ওয়ার্কার হতে পারে,সেখানে সরকারি কর্মচারী যাকে বিশ্বাস করি সেও হতে পারে। আবার নাক উঁচু করা চলবেনা। পার্টির মেম্বার হওয়ার পড়ে দে উইল টেক রেস্পন্সিবিলিটিজ অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। এইতো গেল একদিক।তবে আমি কাজ বাড়িয়ে দিয়েছি আইনমন্ত্রীর। আমি অর্ডারগুলো করে দিয়েছি,কিন্তু তার জান শেষ। মানে এইগুলো করতে করতে তার জান শেষ হয়ে যাবে।বুঝেছি সুনে মুখ কালো করে ফেলেছেন। অর্ডার আমি দিয়েছি,আইন তার বদলাতে হবে। আইন-টাইন আমি বুঝি না।আমি বলেছি কাজ করে যান যা কিছু দরকার হয়।এই অ্যাডমিনিস্ট্রেশন তারপর আমাদের সেক্রেটারিয়েট এসব ভাঙতে হবে।এসব চলতে পারেনা। আই এম গোয়িং ফর দ্যাট। টাকা নাই, পয়সা নাই,খাবার নাই,এটা নাই ,ওটা নাই।ভাঙতে হবে । দাবল,ট্রিপল এদ দ্যাট। এক এক নোট লিখে নিয়ে আসে। আমি বলেছি এস্টাবলিশমেন্ট সাহেবরা আছেন। এখান থেকে আরম্ভ করে সেকশন অফিসার,তারপর ডেপুটি সেক্রেটারি,সেক্রেটারি তারপর আসে  আমার কাছে। এইটুকু নট,এইটুকু ফাঁক।

প্রয়োজন নাই,সোজাসুজি কাম চালান। কর্পোরেশন করেছি। আলরেডি দুইটা  কর্পোরেশন করে ফেলেছি। এভরি কর্পোরেশন ডাইরেকটলি আন্ডার ডি মিনিস্টার থাকবে। লেট ডি মিনিস্টার  গেট ওয়ার্ক ফ্রম জয়েন্ট সেক্রেটারি। ব্রিটিশ আমলের সেই ঘুণে ধরা অ্যাডমিনিস্ট্রিটিভ সিস্টেম  দিয়ে বাংলার মানুষের মঙ্গল হতে পারেনা।ইট মাস্ট গো। সেজন্য আমুল পরিবর্তন দরকার  হয়ে পড়েছে। দ্যাট ইজ অলসো এ রেভুল্যুশন। আজকে এই যে নতুন এবং পুরান সিস্টেমে আমাদের দেশ চলছে,আমাদের  আত্মসমালোচনা প্রয়োজন আছে। আত্মসমালোচনা না করলে আত্মশুদ্ধি করা যায়না।আমরা ভুল করেছিলাম,আমাদের বলতে হয় যে ভুল করেছি।আমি যদি ভুল করে না শিখি,ভুল করে  শিখব না,সে জন্য আমি ভুল করলে আমার সকলে খারাপ কাজ করবে,তা হতে পারেনা।  আমি ভুল নিশ্চয়ই করব,আমি ফেরেশতা নয় শয়তান ও নই,আমি মানুষ ভুল করবোই ।আমি ভুল করলে আমার মনে রাখতে হবে,আই ক্যান রেক্টিফাই মাইসেলফ। আমি যদি রেক্টিফাই করতে পারি সেখানেই আমার বাহাদুরি। আর যদি গো ধরে বসে থাকি যে না আমি যেটা করেছি সেটাই ভাল। দ্যাট ক্যান নট বি হিউম্যান বিইং। ফেরেশতা হইনি সবকিছু ভাল হবে। হতে পারে,ভাল হতে পারে। উই উইল রেকটিফাই ইট,এই সিস্টেম ইন্ট্রডিউস করে যদি দেখায় যে খারাপ হচ্ছে,আল রাইট রেকটিফাই ইট।  কেননা আমার মানুষকে বাঁচাতে হবে। আমার বাংলাদেশে   শোষণহীন সমাজ গড়তে হবে। আমরা নতুন ল্যান্ড সিস্টেমে আসতে ছাচ্ছি,আমরা কো-অপারেটিভ এ আসতে চাচ্ছি। দিস ইউনিয়ন কাউন্সিল ওল্ড ব্রিটিশ ইউনিয়ন  কাউন্সিল। যেখানে যা দেওয়া হয় অর্ধেক থাকেনা সঙ্গে সঙ্গে সাফ।  শে জণয একমাত্র  উপায় আছে যে,আমরা যে আজকে মাল্টি-পারপাস কো অপারেটিভ চালু করতে যাচ্ছি,এটা যদি গ্র করতে পারি আস্তে আস্তে এবং তাকে যদি আমরা ডিস্ট্রিক্ট এবং থানায় ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের মাধ্যমে নিয়ে আসতে পারি তাহলে দেশের মঙ্গল হতে পারে আমি বিশ্বাস করি। এজন্য ডেডিকেটেড ওয়ার্কার দরকার। এটা উইথাউট ডেডিকেটেড ওয়ার্কার হতে পারেনা। সেইজন্য সাকসেসফুল আজকে আমি ছাচ্ছি,আর্মির মধ্যে হক,নেভির মধ্যে হোক, এয়ারফরসের মধ্যে হোক, বিডি আর হক,রক্ষীবাহীনি হোক, পুলিশ হোক,সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন হক,পলিটিশিয়ান হক,যেখানেই  হোক-ভাল লোক যেখানে আছে এক জায়গায় করে কাজে লাগাতে হবে। ফান্ড পেলে বলো,কাজ করে নিয়ে এসো। আমার তো দরকার নাই।আমি খালি খালি বসে অতো পয়সা খরচ করার দরকার নেই। আই ওয়ান্ট ,মাই আর্মি পিপলস আর্মি। আই ডু নোত ও্যান্ট মাই আর্মি টু ফাইট এগেনেইস্ট এনি বডি,বাট আই ওয়ান্ট  মাই আর্মি টু ডিফেন্ডঃ মাইসেলফ এন্ড দ্যাট অ্যাট দি সেম টাইম টু ওয়ার্ক। আর একটা ফ্যাসান আছে আমাদের –এই কাজ তো ফুড ডিপার্টমেন্টের,এটা তো এগ্রিকালচারের ,আমার তো না,এটা তো ইরিগেশনের আমার তো না। ডিস্ট্রিক্টে ,সাবডিভিশনে সব জায়গায় হয় কি? একজন(আপ্নার) বড়  অফিসার। আমরা যখন চলে যাবো –দেখব রাস্তায় একটা ইট পড়ে আছে, ওইটা আমার ডিপার্টমেন্টের না-একথা বলে পাশ কাতিয়ে গেলাম। হোয়াট ইজ দিস? দিস মেন্টালিটি মাস্ট বি চেঞ্জড। প্রত্যেকটি কাজই আমার-মাটি কাটা আমার কাজ,ফ্যাক্টরিও আমার কাজ,রাস্তা বানানো ও আমার কাজ।আমি একটা হাই অফিসিয়াল,আমি একটা পলিটিশিয়ান, আমি একটা পলিটিক্যাল ওয়ার্কার, আমি একটা এমপি,আমি দেশের একটা করমছারী,আমি একজন পুলিশ অফিসার।আই হ্যাভ মাই রেস্পন্সিবিলিটি। এখানে চুরি হচ্ছে, এখানে অন্যায় হচ্ছে বলার,এখানে খারাপ হচ্ছে – এটা বলার  অধিকার আমার থাকবে।দেখার অধিকার থাকবে।সেই জন্য আজকে যদি পলিটিক্যাল অর্গানাইজেশন স্ট্রং করা না হয়- ভিলেজ লেভেল থেকে আরম্ভ করে শেষ পর্যন্ত যাকে ওয়াচ ডগ বলা হয়-তাহলে দেশের উন্নতি করা যায় না শুধু সরকারি কর্মকর্তার উপর নির্ভর না করে। দেয়ার মাস্ট বি এ ব্যালান্স।দেয়ার মাস্ট বি পিপলস মোবিলাইজেশন। হোল কান্ট্রিকে,সমস্ত দেশকে মোবিলাইজ করতে হবে ফর ডেফিনিট পারপাজ।দেখুন বাংলাদেশের কৃষক পিছিয়ে নেই।আমি সার দিতে পারিনাই। যা সার দিয়েছি তার থার্টি পারসেন্ট চুরি হয়ে গেছে।স্বীকার করেন? আমি স্বীকার করি। আমি মিথ্যা কথা বলতে পারবোনা। মিথ্যা বলে একদিনও হারাম এদেশের প্রেসিডেন্ট থাকতে পারবোনা। আমার যে সার আমি দিয়েছি তার কমপক্ষে থার্টি পারসেন্ট ব্ল্যাক মার্কেটে চুরি হয়ে গেছে। আমি যে ফুড দেই তার কুড়ি পারসেন্ট চুরি হয়ে যায়। আমি যে মাল পাঠাই গ্রামে গ্রা,মে তার ২০-২৫% চুরি হয়ে যায় সব চুরি হয়ে যায়। হুইট-আমি তো হুইট পয়দা করিনা,খুব কমই করি-কোন বাজারে হুইট পাওয়া যায় না?গভর্নমেন্ট গোডাউনের হুইট। সার তো আমি ওপেন মার্কেটে বিক্রি করি না,কোন বাজারে সার পাওয়া যায় না? লেট আস ডিসকাস দিস ম্যাটার। দেয়ার শ্যাল বি ফ্রি এন্ড ফেয়ার ডিস্কাশন।আমাদের একটা জিনিস মনে রাখা দরকার- যে লোক হাসতে হাসতে জীবনের মায়া কাটিয়ে ফাঁসি পর্যন্ত যেতে পারে,জানে গুলি হয়ে একটা ঘন্টা পর শে মারা যেতে পারে,না থাকতে পারে,সেই মানুষ ক্ষমতার জন্য মিথ্যা কথা বলবে না। এটা আপনাদের জেনে রাখা উচিৎ। এই গুলি কি করে আপনারা করবেন? এই এগ্রিকালচার আমার নয় ,চুরি হয় হক।এই ফুড আমার নয় চুরি হয় হোক। এটা আমার নয় চুরি হচ্ছে হোক। বেশন মাস্ট বি ইউনাইটেডঃ এগেইনেস্ট করাপশন। পাবলিক অপিনিয়ন মবিলাইজ না করলে শুধু আইন দিয়ে করাপশন বন্ধ করা যাবেনা এবং সেই সঙ্গে সঙ্গে সিস্টেমকে পরিবর্তন করতে হহবে। ঘুণে ধরা সিস্টেম দিয়ে করাপশন বন্ধ করা যায় না। এই সিস্টেমেই হলো করাপশনের পয়দা। এই সিস্টেম করাপশন পয়দা করে এবং করাপশন চলে।

সেজন্য আমার দ্বিতীয় বিপ্লব্বের ডাক। ভেঙ্গে ফেলে সব নতুন করে গড়তে হবে। নিউ সিস্টেম করতে হবে। সেজন্য আমি কো-অপারেশনে গিয়েছি।আমি জাম্প করতে চাইনা,আমি জাম্প করার মানুষ নই।আমি স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখি ১৯৮৭-৪৮ সালে,কিন্তু আমি ২৭ বছর স্টেপ বাই স্টেপ মুভ করেছি।আমি জানি এদের সাথে মানুষ থাকতে পারেনা। আমি ইম্পেশেন্ট হইনা,আমি অ্যাডভ্যানছারিস্ট নই। আমি খোদাকে হাজের নাজের জেনে করি,ছুপি ছুপি আস্তে আস্তে মুভ করি সবকিছু নিয়ে। সেজন্য আমি বলে দিয়েছি ৬০ থেকে ৭৫ কি ১০০ টা ক-অপারেটিভ করব। এই কো-অপারেটিভযদি দরকার হয় সেন্ট্রাল কমিটির একেকজন মেম্বার একেকটার চার্জে থাকবে। লেট আস স্টার্ট আওয়ারসেলভস.১১৫ জন সেন্ট্রাল কমিটির মেম্বার আছেন। এর মধ্যে ১০০ কি ৭০ জনকে এক-একটা কো-অপারেটিভ চার্জ দিয়ে দেবো সুপারভাইজিং অফিসার। লেট আস স্টার্ট। ওয়ানস উই ার সাকসেসফুল এবাউট দিস মালটিপারপাস সোসাইটি যেখানে দেশের সকল মানুষকে একতাবদ্ধ করা যাবে। বদমায়েশ একদল লোক- জমি সব শেখ সাহেব নিয়ে যাবে  প্রোপাগান্ডা হয়ে গেল।জমি নেব না- তোমরা চেষ্টা করবে,এক সঙ্গে ফসল উৎপাদন করবে,তমার শেয়ার তুমি নিবে। কিন্তু তবু এগেনেইস্টে প্রোপাগান্ডা করে,জমি নিব না ,জমি থাকবে।কিন্তু জমির একটা লিমিট আছে তোমাদের রাখার। আইন হয়েছে ১০০ বিঘার বেশি জমি রাখতে পারবেনা। সেটা আমরা ফলো করার চেষ্টা করবো এবং আস্তে আস্তে আমরা যদি ফ্লাড বন্ধ করতে পারি,সেচের ব্যবস্থা করতে পারি,ফারটিলাইজার দিতে পারি,নিশ্চয়ই আমরা চিন্তা করবো কতদূর কি করতে পারি।কেননা আমাদের দেশের জমির মধ্যে পারথক্য আছে। এখন আমি যদি সুনামগঞ্জের জমিতে ৩ বছর বন্যা হয়,এক বছর ফসল হয়, নর্থ বেঙ্গলের জমি আর বরিশালের জমি, আর চিটাগাং হিল ট্র্যাকসের জমি,আর সব জমি যদি এক পর্যায়ে দেখতে ছাই,তাহলে অসুবিধা আছে। আমার স্টাডির প্রয়োজন আছে যে  কোন জায়গায় কত পরিমাণ হতে পারে।

আজকে কো-অপারেটিভ যদি আমরা করতে পারি,সেখানে যদি ফার্টিলাইজার দিতে পারি,রেশন কার্ড দিতে পারি,তাহলে সেখানে চুরিটা কম হবে। সেখানে যদি ওয়ার্কস প্রোগ্রামের টাকা দিতে পারি চুরিটা কম হবে। একটা সিস্টেমের মধ্যে আসতে পারি। চিৎকার করে,গালাগালি করে কাজ হবেনা।

এই যে পলিটিক্যাল পার্টি – একটা খুব ইম্পরট্যান্ট জিনিস।এর মেম্বারশিপ ইচ্ছে করলেই পাওয়া যায় না। মেম্বার বেছে বেছে দিতে হবে। গলায় সাইনবোর্ড লাগিয়ে আমি মেম্বার,আমাকে একটা পারমিট দাও সেটা হবেনা। মেম্বার যে হবে তার একটা কার্ড থাকবে। প্রাইমারি মেম্বার থাকবে অনেকে।এছাড়া আমি আপনাদের বর্তমান মেম্বার করে দিয়েছি।আপ্নাদের জন্য ক্রিশক,লেবার অর্গানাইজেশন হচ্ছে।লেবার পলিসি করতে হবে,প্ল্যান করতে হবে। কোনো  ঢাক ঢাক গুড় গুড় থাকবেনা।এই আমার আছে,এই তোমার ডেভলপমেন্ট,এই ইনকাম করতে পারলে এই তোমরা পাবে। দিতে চাই আমি তোমাদের লাভের জন্য ওদের ও দিতে হবে। তোমরা মানুষের মত বাস করবে। তাদের দিতে হবে ,যাতে কৃষক কৃষকের মত বাস করতে পারে।ছাত্ররা লেখাপড়া করবে নতুন সিস্টেমে। আমরা একটা নতুন এডুকেশন সিস্টেম করতে বলেছি।কেরানি পয়দা করে লাভ হবে না,মানুষ পয়দা করতে হবে। নতুন এডুকেশন সিস্টেম করতে পারি কিনা আমরা তা দেখছি। দেশের সার্বিক অবস্থা ইম্প্রুভ করতে সময় লাগবে।তিন বছর,সাড়ে তিন বছর একটা দেশের জীবনে কিছুই না।আমাদের ইকনমিক কন্ডিশন ভালো না।আমাদের মাল বিদেশ থেকে বেশি আনতে হয়।ফ্যাইন্যান্স মিনিস্টার সাহেব কমিটি করতে গেলে আমার কলম ধরে বসেন্ন।মহা বিপদ আমাকে নিয়ে।টাকা পাওয়া যাবেনা। দেশের ট্যাক্স ,জাতীয় আয় বাড়াতে পারলে দেশের আয় ও বাড়বে,ইনশাল্লাহ আমরা কতগুলো স্টেপ নিয়েছি-ইকনোমিক স্টেপ। তাতে আমরা এটুকু বলতে পারি যে,আমরা যে একটা ভীষণ খারাপ অবস্থায় পড়েছিলাম গতবছর,ইনশাল্লাহ আমরা অতখানি খারাপ অবস্থায় এ বছর নাই।আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।আমি এখন বেশিকিছু বলতে চাইনা। ফাইন্যান্স মিনিস্টার এ মাসের ২৩ তারিখে পার্লামেন্টে বক্তৃতা করবেন । তিনি সেদিন বলবেন।তবে আমি এইটুকু বলতে পারি আমাদের ইকনমিক কন্ডিশন ইজ নট স ব্যাড এন্ড ইট উইল ইম্প্রুভ ডে বাই ডে।কারণ দেশের মধ্যে শৃখলা ফিরে আসছে,তারা কাজ করছে,ফ্যাক্টরিতে কাজ করছে, কৃষক ভাইরা সবাই কাজে এডভান্স করছে,দেশের মানুষ ও ইনশাল্লাহ এগিয়ে এসেছে ইনশাল্লাহ আই সি এ্যা ব্রাইট ফিউচার অব মাই কান্ট্রি। তবে এখানে যে শোষণহীন সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কথা আমরা বলেছি শে অর্থনীতি আমাদের,সে ব্যবস্থা আমাদের, কোন জায়গা থেকে হায়ার করে এনে,ইম্পোর্ট করে এনে,কওন ইজম চলে না,এদেশে-কেনো দেশে চলেনা। আমার মাটির সঙ্গে,আমার মানুষের সংগে,আমার কালচারের সঙ্গে,আমার ব্যাকগ্রাউন্ডের সঙ্গে,আমার ইতিহাসের সাথে যুক্ত করে ইকোনোমিক সিস্টেম গড়তে হবে।কারণ আমার দেশে অনেক অসুবিধে আছে।কারণ আমার মাটি কী, আমার পানি কত,আমার এখানে কালচার কী,আমার ব্যাকগ্রাউন্ড কী,তা হয়না।ফান্ডামেন্টালি আমরা শোষণ হীন সমাজ গড়তে চাই। আমরা একটা সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি গড়তে চাই। বাট দ্যা সিস্টেম ইজ আওয়ার্স। উই ডু নট লাইক টু ইমপোর্ট ইট ফ্রম অ্যানি হোয়্যার ইন দি ওয়ার্ল্ড।এটা আমার মতো,পার্টির ,মতো।

আমরা কারোর বিরুদ্ধে কোন কিছু বলতে চাই না,আমাদের একটা ফ্যাশান হয়ে গেছে যে,এ ওর বিরুদ্ধে গালাগালি করে,অন্য একজনের বিরুদ্দে গালাগালি করে। বাংলাদেশের মাটিতে যেন একটা হটবেড অব ইন্টারন্যাশানাল পলিটিক্স হয়ে গেছে। এ ওরে গালাগালি করে,ও ওরে গালাগালি করে,আমার মাটিতে বসে গালাগালি দরকার কি বাবা! যার যার দেশে গিয়ে গালাগালি করো। একটা ডিপ্লোম্যাটিক ডেকোরাম আছে।একদেশে দাঁড়িয়ে  অণ্যদেশের বিরুদ্ধে কথা বলা চলে না।আমার দেশে তোমার কি ভালো,সেটা বলো।

আই বিলিভ ইন পজিটিভ অ্যাপ্রোচ, নট এ নেগেটিভ এ্যাপ্রোচ। সেজন্য আমার পার্টিতে যারা আপনারা আছেন,আসুন আমরা পজিটিভ অ্যাপ্রোচ নেই। আমি যখন খুব ইয়ং ছিলাম,আমার নেতা সোহরাওয়ার্দী  সাহবেকে কেউ গালাগালি করলে আমি রাগ করে তার কাছে যেতাম। তিনি হেসে বলতেন’থাক বলতে দাও, ওতে কি হবে’। উনি আমাকে বলেছেন থিংক ফর এ পজিটিভ অ্যাপ্রোচ দ্যান এ নেগেটিভ এপ্রোচ।আমার লাইফকে আমি ওই দৃষ্টিতেই দেখেছি।

যখন আমি ৬ দফা দিলাম,আমার বিরুদ্ধে যখন আক্রমণ সকলে মিলে,আমি কিন্তু কারো বিরুদ্ধে কোন কথা বললাম না।আমি চলে গেলাম দেশের মানুষের কাছে।গফিয়ে ছয় দফার প্রচার আরম্ভ করে দিলাম।আমি যখন পার্টি রিভাইভ করলাম আমার বিরুদ্ধে বক্তৃতা হল। কিন্তু আমরা চলে গেলাম পিপলের কাছে।পিপল আমাকে গ্রহণ করে নিল।কাউকে গালাগালি করে লাভ নেই।

আমি বিশ্বাস করি,কম্বোডিয়া আই শুড রিকগনাইজ ইউ। আই ডোন্ট কেয়ার এনিবডি ইন দ্যা ওয়ার্ল্ড হোয়েদার  এনিবডি ইজ স্যাটিস্ফায়েড ওর  এনিবডি ইজ আনহ্যাপি অর এনিবডি ইজ হ্যাপি। আই ফিল দ্যাট দে আর ফাইটিং ফর দেয়ার অউন লিবারটি।আই এম উইথ দেম। আই সাপোর্ট পি আর জি।আই গিম দেম রিকগনিশন বিকজ আই এম এ সাফারার।আই এম এ সাফারার ফর জেনারেশন টু জেনারেশন ফর দিস বেঙ্গলি নেশন। আমার কাছে যে যুদ্ধ করছে তার মাতৃভূমির জন্য তাকে সমর্থন দেবো।তাই বলে অন্যকে গালাগালি করবো না। এই জিনিসটা আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করবো।আজকে মনে রাখবেন যে আপনারা নতুন আরমি,নেভি,এয়ারফোর্স,ফোর্সেস,সরকারি করমছারি,বেসরকারি করমছারি,পলিটিশিয়ান,শিক্ষাবিদ,বুদ্ধিজীবী,ডক্টর,ইঞ্জিনিয়ার যদ্দুর সম্ভবপর এদের রাখার চেষ্টা করেছি। পলিটিশিয়ানদের মধ্যে অনেক এক্সপেরিয়েন্সড আমার পুরনো বন্ধুরা আছেন যারা আগে আমাদের সঙ্গে দলে ছিলেন।কিছুদিন ডিফারেন্ট পার্টি করেছেন।আগে আমরা এক জায়গায়ই ছিলাম। মধ্যে ভাগ হয়ে গেলাম- সেটা সব জায়গায় হয়।আবার আমরা এক হয়েছি। সেকেন্ড রেভল্যুশন ইজ নট দি এন্ড  সেকেন্ড রেভল্যূশন যে করেছি আমি- চারটা প্রোগ্রাম দিয়েছি,এটাই শেষ নয় শেষ কথা নয়।এটা হল স্টেপ।        ডেভলপমেন্ট,মোর প্রোডাকশন ,ফাইট এগেইনেস্ট করাপশন, ন্যাশানাল ইউনিটি অ্যান্ড ফ্যামিলি প্ল্যানিং। এগুলো করলেই আমরা শোষণ হীন সমাজ ব্যবস্থা গড়তে পারবো- যেখানে মানুষ সুখে স্বাচ্ছন্দে বাস করতে পারবে।এটাই হলো আমার সেকেন্ড রেভল্যুশনের মূল কথা- এজন্যই আমি সেকেন্ড রেভল্যুশনের ডাক দিয়েছি।

আজ আমি অত্যান্ত খুশী হয়েছি আমার বহু সহকর্মী যাদের সঙ্গে আমি দুর্দিনে কাজ করেছি,বিপদের দিনে কাজ করেছি,৪৭,৪৮,৪৯ সালে তারা আজকে এখানে এসেছেন।মাঝখানে এদিক ওদিক ছুটে টুটে গেছিলাম অনেকে ডিফারেন্স অব অপিনিয়নের জনয।আজকে আবার আমরা এক হয়েছি-সরকারি কর্মচারীরা এক হয়েছি।আজকে সকলে মিলে যার যা কর্তব্য আছে,সেই সঙ্গে করাপ্সানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান । সারা বাংলাদেশে ২০-৩০% দুঃখ বন্ধ হয়ে যাবে যদি করাপশন বন্ধ করতে পারি। থার্টি পার্সেন্ট দুঃখ বন্ধ হয়ে যাবে মানুষের। এজন্য লেট আস টেক ওথ টুডে। যে নিজেরা আমরা করাপট প্র্যাক্টিস করি,তাই আবার অন্য কেউ করলে সহ্য করি না। উই মাস্ট মবিলাইজ দি পিপল  এগেইনেস্ট করাপশান। এটা যদি আমরা করতে পারি,দেখবেন অনেক প্রব্লেম আমরা সল্ভ করতে পারবো। এজন্যই আজকে আমাদের মবিলাইজ করতে হবে পিপলকে। আমাদের  সোশ্যালি বয়কট করতে হবে যে লোকটা ঘুষ খায়,তাকে বয়কট করতে হবে যে লোকটার মাইনে হাজার টাকা কিন্তু ব্যায় করে পাচ হাজার টাকা। যে লোকটার ইনকাম তিন হাজার টাকা সে  কেমন করে ব্যয় করে পনের হাজার টাকা? এই যে জিনিসটা সমাজের কাছে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে এবং তাহলেই সমাজ তথা পিপলের আপনাদের উপর আস্থা ফিরে আসবে।

আমি মাঝে মাঝে  আল্লার কাছে বলি যে কি, গেছি চট্টগ্রাম-চট্টগ্রাম থেকে গেছি সেখানে,বেতবুনিয়া,সে গ্রামের লক্ষ লক্ষ লোক দুই পাশে বসে আছেন-এরা এসেছে আমাকে দেখার জন্য-মনে মনে আমি বলি যে,আমি কি করেছি ওদের জন্য,আমার দুঃখ হয়,স্টিল দে লাভ মি। দুনিয়ার নিয়মই এই ভালোবাসা পেতে হলে ভালবাসতে হয় এবং সে ভালোবাসা সিনসিয়ারলি হওয়া দরকার। তার মধ্যে যেন কোন খুঁত না থাকে। ইফ ইউ ক্যান লাভ সামবডি সিনসিয়ারলি ইউ উইল গেট দি লাভ অব সামবডি।দেয়ার ইজ নো ডাউট এবাউট ইট।আমার জীবনে আমি দেখেছি লাখ লাখ লোক দুপাশে কি অবস্থার মধ্যে আমি তো কল্পনাও করতে পারিনা। হোয়াই দে লাভ মি সো মাচ? আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করি মবিলাইজ দি পিপল অ্যান্ড ডু গুড টু দি হিউম্যান বিইংস অব বাংলাদেশ। দিস আনফরচুনেট পিপল হ্যাভ সাফার্ড লং-জেনারেশন আফটার জেনারেশন।এদের মুখে হাসি ফোটাতে হবে-দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে হবে- এদের খাবার দিতে হবে।

যদি আমরা শোষণ হীন সমাজ গড়তে পারি, করাপশন বন্ধ করতে পারি,আমি বিশ্বাস করি,বাংলার মাটিত্রে যা এখনো আছে,৭ কোটি  লোক হলেও বাংলার মানুষ না খেয়ে মরতে পারেনা। আই হ্যাভ সিন দ্যাট। আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা চাই কারণ আই হ্যাভ বিকাম ইমোশনাল। আগস্ট মাসে আমি আপনাদের সভা ডাকসি উইথ ডেফিনিট এজেন্ডা। ফুড,এগ্রিকালচার,ইন্ডাস্ট্রি,এডুকেশন, কো-আপারেটিভ, সমস্ত প্রোগ্রাম দিয়ে তারপর আমি আপনাদের এই হাউসটাকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে দিচ্ছি। আপনারা ডিভাইড হয়ে  যাবেন,সবকিছু ডিভাইড হয়ে গেলে তখন এই কমিটিতে বা গ্রুপে সেক্রেটারিয়েট থেকে লোক আসবে, গভর্নমেন্ট থেকে লোক আসবে,ডিপার্টমেন্ট থেকে আসবে, পলিটিক্যাল ওয়ার্কার আসবে,সমস্ত ফ্যাক্ট ফিগার নিয়ে,এই জায়গাতে কোথায় ডিফেক্ট হয়েছে,কোন জায়গায় ইম্রপুভ করতে পারি,আপনারা একটা সাজেশন দিবেন। তখন কেন্দ্রীয় কমিটি কার্যনির্বাহী কমিটির নিকট সুপারিশ করবে এবং ওই কমিটি সরকারকে এটা কার্যকারী করতে অনুরোধ করবে।

আপনাদের অনেক কষ্ট দিলাম। বেয়াদবি মাফ করবেন। লেট আস ওয়ার্ক টুগেদার। উই আর নাও ওয়ান পার্টি। পার্টি মানে কি জানেন? এভরি পার্টি ওয়ার্কার অব মাইন ইজ লাইক মাই ব্রাদার,ইজ লাইক মাই সন। আই ক্রিয়েটেড এ ফ্যামিলি হোয়েন আই অরগানাইজড আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশে এমন কোন জায়গা নেই যেখানে আমি যাইনি। আর পলিটিক্যাল পার্টি মিনস এ ফ্যামিলি-যার মধ্যে আছে আইডিওলজিকাল অ্যাাফিনিটি। সেজন্য এই পার্টিতে উই আর ওয়ান ফর সাম পার্টিকুলার পারপাসেস,হোয়্যারেভার উই আর। আমাদের আদর্শ হল, বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বোভৌম রাস্ট্র হিসেবে ইজ্জত সহকারে দুনিয়াতে বাঁচিয়ে রাখা, বাংলার দুঃখী মানুষকে পেট ভরে খাবার দিয়ে শোষণমুক্ত সমাজ গঠন করা এবং যেখানে অত্যাচার অবিচার জুলুম থাকবে না, দুর্নীতি থাকবে না। লেট আস আল ট্রাই ফর দ্যাট। আসুন আমরা চেষ্টা করি সে সম্পর্কে সকলে মিলে।

আপনাদের অশেষ ধন্যবাদ।……………………………… বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

বাকাশাল সফল হলে বঙ্গবন্ধু হতেন পৃথিবীর অন্যতম সেরা স্টেটসম্যান। বাকাশালের প্রাঞ্জল ব্যাখা থেকে সহজেই বোঝা যায় বাকশাল শোষিত,নিপীড়িত,বঞ্চিত বাঙালি জাতির বিশ্বের বুকে উত্থানের জন্য বাস্তবসম্মত এক রোডম্যাপ ছিল। এই ভাষণে  বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দেশ গঠনে প্রতিকূলতা ও সমাধান, দেশের মানুষের একতা,দেশের জনগন এবং দেশকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সহ সর্বোপরি বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে আত্ম মর্যাদাশীল রাস্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্য ছিল । কিন্তু ঘাতকেরা  সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে বাঙালি জাতির বুকে ঘোর আমানিশা ডেকে নিয়ে আসে দীর্ঘসময়ের জন্য…